SHARE

খেলাধূলার প্রতি আমার কোন আকর্ষণ নেই। ক্রিকেট, ফুটবল যা বলেন (তবে হ্যা, বাংলাদেশ ক্রিকেট টীম জিতলে খুবই ভাল লাগে)। কিন্তু মুভি, কার্টুন, টিভি সিরিজ এসব দেখতে খুবই ভাল লাগে। রাজিব ভাই আমার এ দূর্বলতা সম্পর্কে জানে তাই বললেন যে তুমি এনকারেজ বিডিতে অনুপ্রেরণামূলক ছবি নিয়ে লিখতে থাক। অতএব লিখতে বসে গেলাম। হলিউডে অনেক অনুপ্রেরণামূলক ছবি আছে খেলাধূলাকে ঘিরে। এরকম একটি ছবির নাম হচ্ছে “রকি।”
রকি মুষ্টিযুদ্ধের উপরে নির্মিত একটি ছবি। যুক্তরাষ্ট্রের একজন ভাগ্যহীন, ছন্নছাড়া মুষ্টিযোদ্ধা কিভাবে তার জীবনে সাফল্য পেল তা এ ছবিতে দেখান হয়। প্রথম ছবিটি তৈরি হয় ১৯৭৬ সালে Rocky এরপরে Rocky II (1979), Rocky III (1982), Rocky IV (1985), Rocky V (1990) এবং সবশেষে Rocky Balboa (2006) বের হয়। প্রতিটি ছবিই দর্শক ভীষণ উপভোগ করে এবং প্রতিটি ছবিই ব্যবসা সফল হয়।
রকি ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম রকি বালবোয়া (Rocky Balboa )। রকি ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়াতে নিম্নবিত্ত একটি পাড়ায় বসবাস করে। পড়াশুনা নামমাত্র। তার পোশাকী নাম “The Italian Stallion।” বক্সার হিসেবে রকি মোটেও ভাল না। বক্সিং তাকে অর্থ বিত্ত খ্যাতি কিছুই দিতে পারে নি। সে স্থানীয় এক ধারের কারবারি অ্যান্থনি গাজ্জো-র মস্তান হিসেবে কাজ করত। অ্যান্থনি স্থানীয় লোকজনকে সুদে টাকা ধার দিত। যারা সময় মতো ধার শোধ করত না তাদের শায়েস্তা করে টাকা আদায় করাই ছিল রকির কাজ। সবার কাছে রকি ছিল একটা ফালতু লোক। সোজা ইংরেজিতে যাকে “Bum” বলে।
রকি ছবির শুরুতে দেখা যায় ১৯৭৫ এর নভেম্বর মাসে ফিলাডেলফিয়ার এক ক্লাবে বক্সিং ম্যাচ হচ্ছে। ম্যাচ শেষে রকি ৪০ ডলার পায়। পরদিন জীমে গিয়ে রকি দেখে যে তার লকার অন্য একজনকে দিয়ে দেয়া হয়েছে। জিমের কোচের সাথে রকি কথা বলতে গেলে তাকে বলে যে তার বক্সিং করার কোন যোগ্যতাই নেই।
তৎকালীন ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন অ্যাপোলো ক্রিড ফিলাডেলফিয়াতে ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহুর্তে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর ইঞ্জুরির কারণে খেলা বাতিল হয়ে যায়। তখন ক্রিড ঠিক করেন যে তিনি ফিলাডেলফিয়ার একজন স্থানীয় বক্সারের সাথে খেলবেন। এটা কোন শিরোপা ম্যাচ নয় প্রদর্শনী ম্যাচ এর মতো। ক্রিড ঠিক করেন রকির সাথে ম্যাচ লড়বেন। রকির নাম কেউ জানে না আর ক্রিডও রকিকে নিয়ে অতটা চিন্তিত ছিল না। পাঁচ সপ্তাহ পরে ম্যাচ হবে।
রকির মতো একটা ছন্নছাড়া মানুষের জন্যে এ ম্যাচটা ছিল লটারির টিকিটের মতো। রকি জানত যে সে জিতবে না। কিন্তু রকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে যত কষ্টই হোক সে পুরো ১৫ রাউণ্ড খেলবে। সে সমস্ত পৃথিবীকে দেখিয়ে দেবে সে তুচ্ছ হেলাফেলার বস্তু নয়। ক্রিড এর জন্যে এটা শুধুমাত্র একটা প্রদর্শনী ম্যাচ কিন্তু রকির কাছে জীবন মরণ সংগ্রামের মতো।
এরপরে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অ্যাপলো ক্রিড ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন বক্সার। সে ভেবেছিল যে রকির মতো এক আনাড়ী বক্সারকে সে তিন রাউণ্ডেই উড়িয়ে দেবে। কিন্তু প্রথম রাউণ্ডেই রকি ক্রিডকে নকআউট করে। এরপরে শুরু হয় ১৫ রাউন্ডের যন্ত্রণাদায়ক একটা খেলা। ক্রিড ঘুষি মেরে রকির নাক ভেঙ্গে দেয়। ক্রিডও পাঁজরে প্রচন্ড আঘাত পায়। ক্রিড খুবই দক্ষ একজন খেলোয়াড়। একের এক ঘুষি মেরে রকিকে সে প্রতিবারই ফেলে দিতে থাকে কিন্তু তারপরেও রকি উঠে দাঁড়ায় আর অ্যাপলোর দিকে এগিয়ে যায়।
রকি ছবিটির মূল আকর্ষণ কিন্তু বক্সিং নয় বরং একজন সাধারণ মানুষের সংগ্রামের কথা। সব বাঁধা-প্রতিকূলতা স্বত্বেও উঠে দাঁড়িয়ে লড়াই করে যাবার যে দৃঢ়তা সেটা তুলে ধরা।
রকি দক্ষ বক্সার নয়। পুরো ম্যাচ জুড়ে ক্রিডের হাতে সে প্রচন্ড মার খায় কিন্তু তারপরেও সে হার মানে না। বার বার উঠে দাঁড়িয়ে লড়তে থাকে। একজন সাধারণ মানুষ সে যেই হোক না কেন। মন থেকে চেষ্টা করে গেলে সে সাফল্য পাবেই এটাই ছিল রকি ছবির মূল কথা।
আপনি যদি এখন ইন্টারনেট অনুপ্রেরণামূলক ছবি খুঁজতে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি রকির নাম পাবেন। ১৯৭৬ সালে বানানো কিন্তু আজো অনেকে ছবিটি দেখে থাকে। ২০০৬ সালে ইউনাইটেড নেশনস ন্যাশনাল ফিল্ম রেজিস্ট্রি রকি ছবিটিকে লাইব্রেরি অভ কংগ্রেস এর সংগ্রহশালায় রেখে দেয়। তাদের মতে এ ছবিটি দেশটির ইতিহাস এবং সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যদি আপনার এই লেখাটি পড়ে ভাল লাগে তবে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিন ও এ ধরনের অনেক পোস্ট পড়ুন।

Comments

comments