SHARE

careerealism.com থেকে ছবি সংগৃহীত 

আমি ঠিক এমন অবস্থার মধ্যে আছি।
সারা জীবন আমার মনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা, লক্ষ্য ও তা কিভাবে অর্জন করা যায় সে ব্যপারে মনের ভেতর সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা ছিল। তবে যা ছিল না তা হল কি কি করলে সেখানে পোঁছানো যায়। আমি লম্বা সময় ধরে ভিডিও গেম খেলতাম, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে টিভি দেখতাম এবং কিছু না করে সময় কাটাতে ভালবাসতাম। অর্থাৎ আমার স্বপ্নে পৌঁছানোর জন্য যা যা করা দরকার তার কোন কিছুই করতাম না। হ্যা, মাঝে মধ্যে আমার মধ্যে অপরাধ বোধ কাজ করতো অলসভাবে সময় কাটানোর জন্য তবে এ অপরাধ বোধ কোন কিছু বদলাত না।
আজ আমি বলতে গেলে টিভিই দেখি না এবং অলসভাবে বসে থাকি না। বরং আমি আমার স্বপ্নে পুরনের জন্য যা যা করা দরকার সেগুলো নিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ব্যস্ত থাকি।
সেই অলস অবস্থা থেকে বর্তমানের কর্মব্যস্ত অবস্থায় পৌঁছাতে মাত্র ৬ মাস সময় লেগেছে।
আসলে যা দরকার তা হল নিজের ভেতর থেকে বদলানোর এক ধরনের ড্রাইভ বা তাড়না। আর সে ধরণের তাড়না নিয়ে আসতে পারে আপনার আবেগ। আপনার স্বপ্ন বা লক্ষ্য সম্পর্কে যতটা সম্ভব আবেগপ্রবণ হতে হবে। আপনি বলছেন যে আপনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী- ঠিক কি নিয়ে আপনার উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে? আপনার কি সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য আছে যা আপনি অর্জন করতে চান?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, আপনি তা কতটা চান?
আগে এ প্রশ্নের উত্তর আমি খুজে পেতাম না। আমি চাইতাম সফল হতে, কিন্তু কতটা চাইতাম? ঘুমাতে, আরাম করতে, কিংবা তাৎক্ষণিক ফলাফল পাবার থেকে কি বেশি চাইতাম? স্বীকার করি বা না করি আগে এ প্রশ্নের উত্তর ছিল ‘না’।
তাই আত্ব-উন্নয়ন মূলক বই না পড়ে বা ইতিবাচক কথা নিজেকে না বলে অথবা কোন কাজ শুরু না করে আমি খুব সাদা মাটা পদ্ধতিতে শুরু করলাম। আমি আমার মনোযোগ আমার লক্ষ্য পূরণের দিকে কেন্দ্রীভূত করা শুরু করলাম। নিজের মাথার ভেতর বারবার নিজেকে জিজ্ঞেস করতে থাকলাম যে আমি কি এটা চাই? একই সঙ্গে আমি যদি ঠিকমত কাজ না করে অলস হয়ে বসে থাকি তাহলে সবচেয়ে খারাপ কি ঘটতে পারে তা কল্পনা করা শুরু করলাম।
যদি এমন হয় যে জীবনে আমি ভাল কিছু না করতে পারলাম। আই বিশ্বাস করি যে আমার মধ্যে প্রতিভা রয়েছে। কিন্তু যদি আমি আমার প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ভাল কিছু করতে না পারি। যদি অন্যদের থেকে স্বীকৃতি, সন্মান, খ্যাতি, সন্মান, সাফল্য লাভ না করেই মারা যাই? এ ধরনের জীবনের ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতেই আমার মধ্যে ভয় ঢুকে গেল এবং এখনো ভয় পাই। আর ভয় আমাকে সামনের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যেতে শুরু করলো।
যে মুহূর্ত থেকে ভাল করে উপলব্ধি করি যে এমন ভবিষ্যৎ আমি চাইনা সে মুহূর্ত থেকে সেই ভয় আমার মধ্যে আরও বেড়ে গেল। এবং এই ভয় আমার মধ্যে কিছু একটা করার তাড়না নিয়ে এল। আমি প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ধরে কাজ করার সময় প্রতিটি মুহূর্ত আমার মনের ভেতর এসব নিয়ে চিন্তা করতে থাকলাম এবং ধীরে ধীরে অলসতা বাদ দিয়ে সত্যিকারের কাজ শুরু করলাম। প্রথম প্রথম খুব বেশি কিছু বদলাল এমনটা বলতে পারছি না। তবে ধীরে ধীরে আমি সময়কে কাজে লাগাতে শুরু করতে থাকলাম এবং এখন আমি দিনের প্রতিটা মুহূর্ত কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।
ছয় মাস আগের অবস্থার দিকে তাকালে একথা বুঝতে পারি যে আমি এখনো সেই আগের মানুষটিই রয়েছি। এখনো ভিডিও গেইম খেলতে ভাল লাগে, আরাম করতে ভাল লাগে। তবে এখন যে কোন কিছুর থেকে ভাল লাগে আমার স্বপ্নের কথা ভাবতে এবং লক্ষ্য পূরণে যা যা করা দরকার সেসব কাজ করতে।
আপনি যদি নিজেকে বদলাতে চান তাহলে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার কথা কল্পনা করুন। চিন্তা করুন এখন যে অবস্থায় আছেন তেমন অবস্থায় মারা যাচ্ছেন- আপনার মধ্যে ইচ্ছাশক্তি ও শৃঙ্খলার ঘাটতি রয়েছে। আপনি নিজেকে একজন ‘অপদার্থ’ লোক হিসেবে মনে করেন। এক কথায় নিজের অবস্থা ও নিজেকে আপনি নিজেই ঘৃণা করেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একটাই উপায়। কিছু একটা করতে হবে। প্রতি সেকেন্ডে আপনি যতটাই এ অবস্থা থেকে দূরে সরার চেষ্টা করবেন ঠিক ততটাই আপনি আপনার স্বপ্নের কাছাকাছি যেতে থাকবেন। মন একটি শক্তিশালী জিনিস এবং কোন কিছু যখন আপনি আপনার মনের ভেতর থেকে চাইবেন তা এক সময় অর্জন করবেন। তবে আসল কথা হল আপনি কতটা তা পেতে চাইছেন এবং তা পাবার জন্য কতটা ত্যাগ করতে রাজি।
(লেখাটা আমার নিজের নয়, ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছি। ইন্টারনেট থেকে পেয়েছিলাম এবং প্রথম কমেন্টে কে লিখেছে তার নাম ধাম দিয়ে দেব।)

যদি আপনার এই লেখাটি পড়ে ভাল লাগে তবে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিন ও এ ধরনের অনেক পোস্ট পড়ুন।

Comments

comments