ক্যারোলি থ্যাকাস: একজন হিরো , একজন অনুপ্রেরনা

ক্যারোলি থ্যাকাস: একজন হিরো , একজন অনুপ্রেরনা

2282
0
SHARE

লেখকঃ আনোয়ার হোসেন

আপনি সম্ভবত কখনোই তার নাম শুনেননি। কিন্তু হাঙ্গেরিতে তিনি একজন জাতীয় বীর – প্রত্যাকেই তাকে চেনে এবং তার অবিশ্বাস্য গল্প জানে। এই গল্পটি পড়ার পর আপনি তাকে কখনোই ভুলবেন না …

১৯৩৮ সালে হাঙ্গেরিয়ান সেনাবাহিনীর ক্যারোলি থ্যাকাস ছিলেন বিশ্বের সেরা পিস্তল সুটার। আশা করা হচ্ছিল ১৯৪০ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত হওয়া অলিম্পিক গেমসে তিনি সোনা জয় করবেন ।

সেনাবাহিনীর অনুশীলনের সময় থ্যাকাসের ডান হাতে একটি হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়, এবং থ্যাকাস যে হাতে শুটিং করতেন সে হাতটি উড়ে যায়। অলিম্পিক স্বপ্ন ও হাত হারিয়ে থ্যাকস একমাস হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ছিলেন। ঠিক যে সময়টিতেই অধিকাংশ লোক সব আশা ছেড়ে দিতে এবং তারা হয়ত তাদের বাকি জীবনটা নিজেদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেই কাটিয়ে দিতেন। অধিকাংশ লোক সেটা করলেও থ্যাকাস কিন্তু তা করেননি। থ্যাকার ছিলেন একজন বিজয়ী। একজন বিজয়ী জানে পরিস্থিতিকে কখনো জয়ী হতে দেয়া যায় না। তারা জানে যে, জীবন অনেক কঠিন এবং তারা জীবনের কাছে পরাজিত হতে পারেন না। বিজয়ীরা বিশ্বাস করেন হাল ছেড়ে দেয়া কোন সমাধান নয়।

থ্যাকাস এক অচিন্তনীয় কাজ করলেন। তিনি ধংসস্তূপ থেকে উঠে দাড়ানোর কথা ভাবলেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন বাম হাতে শুটিং শিখবেন। তার চিন্তাটা ছিল খুবই সাধারন। তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন, “কেন নয় ?”

বিশ্বমানের শুটিং এর জন্য দক্ষ ডান হাত যা তার ছিল থ্যাকাস তার কথা না ভেবে সিদ্ধান্ত নিলেন তার যা আছে তার দিকেই মনোযোগ দিবেন।

থ্যাকাস মাস খানেক একা একা অনুশীলন করলেন। কেউই জানতেন না তিনি কি করছেন। তিনি হয়ত লোকের আলোচনার বিষয় হতে চান নি যারা তাকে তার স্বপ্ন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারতো।

11222011_830765613699549_3378614229197575412_n১৯৩৯ সালের বসন্তে তিনি নিজেকে হাঙ্গেরিয়ান জাতীয় পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেকে জনসম্মুখে নিয়ে আসলেন। অন্য শুটাররা তার সামনে এসে সমবেদনা জানালেন এবং তাদেরকে উৎসাহ দেবার জন্য কষ্ট করে শুটিং দেখতে আসার জন্য অভিনন্দন জানালেন। তারা সকলেই বিস্মিত হলেন, যখন তারা শুনলেন, “আমি শুটিং দেখতে আসিনি, আমি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছি ।” তারা সবাই আরো বিস্মিত হলেন যখন থ্যাকাস সবাইকে হারিয়ে বিজয়ী হলেন।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের জন্য ১৯৪০ ও ১৯৪৪ সালের অলিম্পিক বাতিল হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল থ্যাকাসের অলিম্পিক স্বপ্ন বুজি স্বপ্নই থেকে যাবে। কিন্তু থ্যাকাস তার অনুশীলন চালিয়ে গেলেন এবং ১৯৪৪ সালে তিনি লন্ডন অলিম্পিকের জন্য কোয়ালিফাই করলেন। ৩৮ বছর বয়সে থ্যাকাস সোনা জয় করে পিস্তল শুটিয়ে নতুন বিশ্ব রেকর্ড করলেন। চার বছর পর তিনি হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে আবার সোনা জয় করলেন। সকল ক্ষেত্রেই বিজয়ীদেরই একটি বিশেষ বৈশিস্ট থাকে যা তাদেরকে অপ্রতিরোধ্য হতে সাহাজ্য করে। বিজয়ী খুব দ্রুতই নিজেদের পুনুরুদ্ধার করতে পারেন। ফিরে আসাটাই মুল কথা নয়, একজন বিজয়ী খুবই দ্রুত ফিরে আসেন। তারা নিজেদেরকে কোন জিনিসের উজ্জল দিকটি দেখতে উৎসাহিত করেন। তারা নিজেদের বলেন , “যা হউক, অবশ্যই কোন না কোন একটি উপায় আছে, আমি সে উপায়টি খুজে নেব” তারা নিজেদেরকে ধংসস্তূপ থেকে তুলে ধরে এবং নিজেকে সেখানে তুলে ধরে যেখানে তারা ছিল ।

দ্রুত রিকভার করতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেন না আপনি যদি তা করতে পারেন তাহলে আপনি প্রেরনা হারাবেন না। থ্যাকাস মাত্র ১ মাসে নিজেকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন ।

যখন একজন বক্সার ভুপাতিত হয়, তার হাতে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় থাকে নিজেকে তুলে ধরতে। যদি সে ১১ সেকেন্ডের সময় নিজেকে তুলে ধরে তবে সে সেই লড়াইয়ে পরাজিত হয়।সময় এখানে খুবই গুরুত্ব পূর্ণ একটি নিয়ামক। পরের বার আপনি যদি ভুপাতিত হলে এটা স্মরণ করবেন।

থ্যাকাস নিশ্চিত ভাবেই নিজের জন্য দুঃখিত হবার অধিকার ছিল ।তার অধিকার ছিল হতাশ থাকার এবং বাকি জীবন নিজেকে প্রশ্ন করার “আমি আবার কেন ?” গড় পড়তা সাধারন মানুসের মত আচরণ করার ও অধিকার তার ছিল ।

11208634_830765647032879_1652232246276788387_nথ্যাকাস তার জীবনে ঘটা মারাত্তক দুর্ঘটনাকে স্থায়ীভাবে হতাশ হবার, মদ খেয়ে মাতাল হবার বা জীবন শেষ করে দেবার কারন হিসেবে দাড় করাতে পারতেন।
কিন্তু থ্যাকাস সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সমাধান খুজে নেবার। নিজেকে তুলে ধরার এবং নতুন করে শুটিং শেখার ।একজন বিজয়ী সব সময় সমাধান খুজেন এবং একজন লুজার (পরাজিত) সব সময় অজুহাত খুজেন ।

পরের বার ভুপাতিত হলে, সিদ্ধান্ত নিন আপনি একজন বিজয়ীর মত আচরণ করবেন। সিদ্ধান্ত নিন আপনি থ্যাকাস এর মত আচরণ করবেন। তাড়াতাড়ি উঠে দাড়ান, কাজ শুরু করে দিন এবং বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিন ।

আরো জানতে

ওইকিপিডিয়াঃ https://en.wikipedia.org/wiki/K%C3%A1roly_Tak%C3%A1cs
ইউটিউবঃ https://www.youtube.com/watch?v=lD4KK1wh1RM
অলিম্পিক ওয়েব সাইটঃ http://www.olympic.org/karoly-takacs

যদি আপনার এই লেখাটি পড়ে ভাল লাগে তবে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিন ও এ ধরনের অনেক পোস্ট পড়ুন।

Comments

comments