SHARE

লেখিকাঃ জিন্নাত আরা

ভালো থাকার জন্য সবচেয়ে যেটা বেশী জরুরি প্রয়োজন সেটা হলো নিজেকে আগে ভেতরে বাইরে অকৃত্রিম ভালো মানুষ হিসেবে তৈরী করা।

আমরা কেউ ই পৃথিবীতে ভালো অথবা মন্দ মানুষ হিসেবে আসি নাই। সফল অথবা ব্যার্থ হয়েও আসি নাই।
বরং বলা যায় আমরা নয় মাস মায়ের পেটে অন্ধকারে বসে থেকে নানা প্রতিকুলতার সাথে লড়াই করে বীরের বেশে সফল হয়েই আসি।

এই পৃথিবীতে এসেই আমারা নানান রকম পরিবেশ পরিস্থিতির আবহাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে নানান রকম ভাবে বেড়ে উঠি। সাদা কালো, লম্বা বেটে, মোটা চিকন. হয়ে পৃথিবীতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিচরণ করি। এইটাই আমাদের জীবন।

সফলতার সংজ্ঞা স্থান, কাল, পাত্র ভেদে হয়তো নানান রকম হয়ে থাকে। সবার জন্যই কিছু সফলতা অর্জন বাধ্যতামুলক। ছোটবেলায় পড়েছিলাম,
জন্ম হোক যথা তথা
কর্ম হোক ভালো।

সফলভাবে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, বিজ্ঞানী, ব্যাবসায়ী , লেখক, শিক্ষক, দার্শনিক, হওয়া হয়তো সবার পক্ষে সব সময় সম্ভব হয়না। কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই একজন ভালো মানুষ হিসেবে সফল হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

আমারা যে যেখানেই যে অবস্থায় আছি সেখান থেকেই শুরু করতে পারি ভালো মানুষ হওয়ার মিশন।

একটু খেয়াল করলেই আমারা দেখতে পাবো আমাদের নিজ নিজ অবস্থানের চারপাশে অসখ্য ভালো হওয়ার উপকরণ ছড়িয়ে রয়েছে। দরকার শুধু অন্তরে ঘুমিয়ে থাকা তৃতীয় নয়নটি খুলে চার পাশে তাকানো। মনের ভিতরে ভালো কিছু চিন্তার. বীজ লাগানো। তখনই ভালো হওয়ার এক ধাপ কাজ হয়ে গেল।

আমাদের প্রতি মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনের বিশেষ গিফট হলো আমাদের উন্নত ব্রেন আর বিবেক। যা দিয়ে সৃষ্টির জগতের অনেক কিছুর কতৃত্ব আমাদের নিয়ন্ত্রনে।

নিজের অবস্থান থেকে যতটুকু দেখি, যতটুকু সম্ভব ভালো কিছু কাজ করে যাওয়া।

সে যতই ক্ষুদ্র হোক কাজকে ভালবাসা , শতস্ফুর্তভাবে পরিশ্রম করার মানসিকতা তৈরী করা।

স্বনির্ভর হয়ে বেচেঁ থাকার জন্য কোনো কাজকেই অবজ্ঞার চোখে না দেখা।

সৎ সাহস ধারণ করে সৎ পথে চলা।

নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যেই যে অবস্থান তৈরী করা যায় তার উপরই সন্তুষ্টি থাকা শুকরিয়া করা।

যথা সম্ভব মানুষের উপকার করা।

পরশ্রীকাতর হয়ে কোনো কথায় কাজে মানুষের ক্ষতি না করা।

চোখের সামনে যে কোনো অন্যায়ের সাধ্যমত বাধা দেয়া প্রতিবাদ করা।

কারো উপরই জুলুম না করাঃ ভিক্ষুক, রিক্সাওয়ালা, সি এনজিও ওয়ালা , বাসার কাজের লোক, প্রতিষ্ঠানের কর্মী , বাড়ীর. দারোয়ান ড্রাইভার, কারো উপরই জুলুম না করা।

সাধ্যমত পারিশ্রমিক এর বাইরেও তাদের সাহায্য সহযোগিতা করা, তাদের পরিবার পরিজনের খোঁজ খবর রাখা। রান্নার বুয়া অসুস্থ? তার পারিবারিক কোনো সমস্যা হয়েছে? না চাইলেও ছুটি দেয়া। ঐটুকু কাজ নিজেই করা।
ড্রাইভার, দাড়োয়ানের ছেলেমেয়ের কোন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা? এক দুইদিন ছুটি দিয়ে নিজেই চালান নিজের গাড়ীটা। নিজেই খুলেন নিজের বাড়ীর গেটটা।

এইযে ছোট ছোট স্যাক্রিফাইজ গুলোই আপনার ধৈর্য্যের সীমা রেখা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আপনাকে আপনার কাছেই মহৎ করে দিচ্ছে। নিজেকে ভালো রুপে দেখার আনন্দ আর কিছুতে কি আছে?
আপনার মনের বিশালতায় আপনিই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছেন, আর যে স্বর্গীয় শান্তি অনুভব করছেন তা আর কিছুতেই নেই।
মানুষের প্রতি ভালবাসা ই স্বর্গ নেমে আসে পৃথিবীতে। সৃষ্টির প্রতি ভালবাসাই সৃষ্টিকর্তাকে বেশী খুশী করা যায়। আসুন আমরা এই ছোট ছোট ভালো চিন্তা গুলো বাস্তবায়ন করি আর ভালো কথা ও কাজের অনুশীলন করি। তবে আমাদের ভালো হওয়া আর কে আটকায়?

যখন একটা মানুষের মনে ভালো চিন্তা, মুখের কথা ভালো, এবং হাতে ভালো কাজ করা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় তখনই একজন মানুষ প্রকৃত ভালো মানুষ হয়ে উঠে।

ভালো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বড় ব্যাবসায়ী হওয়ার আগেই প্রত্যেকের ভালো মানুষ হওয়া বেশী জরুরি। এক একটা ভালো মানুষ থেকে একটা ভালো পরিবার তৈরী হবে। প্রতিটি ভালো পরিবার থেকে দেশ এক এক দল ভালো প্রজন্ম পাবে।

তবেই পরিবারের প্রতি, সমাজের প্রতি, দেশের প্রতি আমাদের. দায়িত্বগুলো যথাযথ পালন করা সম্ভব।

ছবি সূত্রঃ deviantart.com

Comments

comments