SHARE

আসুন- প্রতিটি ব্যর্থতা এবং সফলতার পর বার বার নতুন করে জেগে উঠি

ছাদের কার্নিশে একটি বটগাছ গজে উঠছিলো। একদিন তাকে তুলে ফেলে দিলাম। ঠিক ফেলে না দিয়ে ছাদেই একটি রং এর কৌটো টবে মাটি ভর্তি করে রোপন করে দিলাম। কয়েকদিন পর দেখলাম- দিব্যি বেঁচে গেছে গাছটা। ভাবলাম- ভালোইতো সবাই কতো কিছু পালে, আমি না হয় একটা বটগাছই পালবো।
তারপর বাসায় এনে বারান্দায় রেখে দিলাম। মাঝে মাধে পানি দিতে থাকি। এক সময় পত্র পল্লবে শোভিত হয়ে উঠলো।

বিপত্তিটা বাঁধলো বাসা বদলানোর পর। নতুন বাসায় বারান্দাটা আবার আমার রুমের সাথে নয়। তাই ঠিকমতো দেখভাল করা হয়না। এরমধ্যে অতিবৃষ্টির পানিতে জল সহ্য করতে না পেরে সব পাতা ঝরে গেছে। তাই অন্য বারান্দায় স্থানান্তর করলাম। এবার সমস্যা হলো পানিহীনতা, কারণ আর কোনো লাভ নেই মনে করে গাছটাকে দেখভাল করা হয়নি। পানিশুন্যতায় গাছের কুড়িগুলো শুকিয়ে গেলো গ্রায়, পাতাতো আগেই ঝরে গিয়েছিলো? সব আশা শেষ যেহেতু একেবারে ডগাও শুকিয়ে গিয়েছে। তবুও মনের সুখে ওটাতে ২/১দিন পর পর পানি ঢালতে থাকলাম।

একদিন সকাল বেলায় পাশের রুমের দীপংকর গাছটা দেখে অবাক, মানে দীপের রুমের বারান্দায়তো শেষবার গাছটাকে রাখা হয়েছিলো? আমাকে ডেকে নিয়ে দেখালো।
দেখলাম একটি পাতা পুরোই রেরিয়েছে, আরেকটি বেরুনের পথে। দীপ জানাালো কোনো ব্যাপারে সে আজ সকালে একটু হাতাশায় ভুগছিলো, কিন্তু এই গাছটির নতুন করে জেগে ওঠা দেখে সে উৎসাহিত হলো। আমাকে ধন্যবাদও জানালো গাছটাকেও প্রায়মৃত ভেবেও যত্ন করার জন্য।

তারপর রাসেল মামুন সবাই দেখলো। সবাই অবাক এবং খুশি হলাম। এখনতো ২টো পাতা বেশ ঝরঝরে হয়ে উঠেছে। খুব ভালো লাগছে, একতো বটগাছ তারপর আবার নতুন করে জেগে ওঠা। আমার নিজের কাছে ভীষণ ইন্সাাপায়ার্ড হওয়ার মতো বিষয় মনে হলো। তাই ছবিসহ সবার জন্য শেয়ার করলাম।

এভাবে আমরা যেন প্রতিটি ব্যর্থতা এবং সফলতার পর বার বার নতুন করে জেগে উঠতে পারি।

Comments

comments