SHARE

বলিউডের সবচেয়ে হ্রদয়গ্রাহী ও অনুপ্রেরনা মূলক মুভির একটি। সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই সিনেমা বানানো হয় । দশরাথ ও ফাগুনিয়ার বাল্যকালে বিয়ে হয়ে গেলেও মারা যাবার পূর্বে ফাগুনিয়া বড়জোর পাচ বছর স্বামীর সাথে কাটিয়েছে ।
এই স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের মধ্যে যে বন্ধন তৈরি হয় তার ফল শ্রুতিতেই হচ্ছে দশরথের ২২ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম যা সে করেছে এটা নিশ্চিত করার জন্য যেন দ্বিতীয় কারো তার প্রিয়তমা স্ত্রীর মত অসময়ে পৃথিবী ছেড়ে না যেতে হয় ।

দশরাথ যখনই তার ধৈযহারা হয়ে যাচ্ছিল, ফাগুনিয়ার তার সামনে আবির্ভূত হত এবং তাকে মনে করিয়ে দিত তার কি করা প্রয়োজন, এবং তাকে আবার চাঙ্গা করে দিত। শেষ দৃশ্যে যখন গ্রামবাসী দশরথের পাহাড় কাটার সাফল্য উপভোগ করছিল তখন ও সে তার স্ত্রীর রঙ্গিন আবির্ভাব দেখছিল।

পরিচালক মেহতা সে সময়কার ভারতের সামাজিক রাজনৈতিক অবস্থা অসাধারণ দক্ষতায় তুলে ধরেছেন । রাজনীতির সাথে সাথে শ্রেণী বিভেদের এক করুণ চিত্র ও পাওয়া যায় সিনেমা জুড়ে ।

দশরাথের জন্ম এক মুশাহারে (বন্ধকী কৃষি শ্রমিক যারা এক সময় ইদূর মেরে খেত)। তারা ভারতের সবচেয়ে প্রান্তিক গোত্রগুলোর একটি যারা কিনা তাদের উপরের শ্রেনির মানুষদের কাছ থেকে চরমতম বৈষম্যের শিকার হতো যার মধ্যে অস্পৃশ্যতা ত ছিলই ।

জমিদারের বন্ধকী শ্রমিক হওয়া থেকে বাচতে দশরাত ছোট বেলায় গ্রাম থেকে পালিয়ে যায়। এবং ৭ বছর পর ফিরে আসে। তত দিনে ভারতের অস্পৃশ্যতা বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। শহর থেকে এসছে দেখানোর জন্য দশরাথ পরেছে রঙ্গিন পোশাক, পিঙ্ক কালারের প্যান্ট, হলুদ শার্ট, কালো গ্লাস। এইবার জমিদার দশরাথকে উষ্ণ অভ্যারথনা জানায় কিন্তু যখনই জানতে পারে যে, দশরাথ তার বন্ধকী শ্রমিকের ছেলে তখনি জমিদার পেছনে ফিরে আসে।

সিনেমার এক দৃশ্যে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী গয়াতে এসছেন এবং বক্তুতা দিচ্ছেন এবং তার বিখ্যাত ‘গারিবি হটাও’ স্লোগান দিচ্ছেন এমন সময় স্টেজ ভেঙ্গে পরে। জনতাকে গান্ধীর বক্তুতা… চালিয়ে যাবার জন্য সাহায্য করতে এগিয়ে আসার জন্য বলা হয়। তারপর আমরা দেখি পরিবর্তনের মহান নেতা গান্ধী সাধারন লোকেদের কাধের উপর দাড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন !

ইমারজেন্সির সময়কার বাড়াবাড়িও চোখে পরে এই সিনেমাতে। দুর্নীতিবাজ আমলাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় ক্ষমতসিন দলের লোক ও পুলিশ দশরাথকে জানায় তারা যেকোন সময় তাকে জেলে ভরে দিতে পারে কোন রকম অভিযোগ বা প্রমান ছাড়াই।

এই সিনেমাটি মাওবাদিদের সহিংসতার ভয়কেও দেখিয়েছে।

সব মিলিয়ে এটি আমার দেখা বলিউডের অন্যতম সেরা মুভিগুলোর একটি। একজন মানুষ তার জীবনের ২২ বছর তার মত দুর্ভাগ্যের শিকার যেন আর কেউ না হয় সেজন্য শুধুমাত্র একটি হাতুরি আর বাটালি দিতে আঘাতের পর আঘাত দিতে পুরো একটি পাহার গুড়িয়ে দিয়ে বের করে এনেছেন তার স্বপ্নের সে পথ যে পথে ভবিষ্যৎতের ফাগুনিয়ারা হেটে যাবে, পা হরকে পরে গিয়ে মারা যাবে না।

সিনেমার অন্যতম উপজীব্য প্রেম হলেও এখানে কোন একটা কিছু করার প্রচন্ড ইচ্ছাই প্রধান হয়ে ধরা পরে। দশরাথ ২২ বছর একই কাজ করে গেছে এবং সবশেষে পাহাড়ও তার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে। তার কাজটা কতটা কঠিন ছিল সিনেমাটা দেখলে তার কিছুটা আন্দাজ করা যাবে, আর যদি তা না যায় তবে আপনি ২২ দিন না ২২ ঘণ্টা না শুধু মাত্র ২২ মিনিট হাতুরি দিয়ে পাথর ভাঙ্গার চেস্টা করে দেখুন , কেমন অনুভব হয় ?

সিনেমার শেষের দিকে দশরাথের একটি ডায়লগ আমার খুবই ভাল লাগে “কোন কিছু করার জন্য ঈশ্বরের আসায় বসে থাকবেন না…… কে জানে ঈশ্বরও হয়ত কিছু করার জন্য আমাদের আসায় বসে আছেন ”

আমাদের জীবনের পাহাড়সম সব বাধাগুলোকেও ইচ্ছার হাতুরি, বাটালি দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করে গুড়িয়ে দিতে হবে বের করে আনতে হবে সমাধানের নতুন পথ ।

ট্রেইলার লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=I9KAoTQlEWs
অনলাইন লাইভ দেখার লিঙ্কঃ http://onlinemoviewatchs.com/manjhi-the-mountain-man-2015-…/

Comments

comments