SHARE

আমাদের একটা মুদ্রা দোষ আছে , আমরা সব সময় বলে বেড়াই উনি আমার জন্য কিছু করে নাই , তিনি করে নাই, এমন কি আমার পরিবারও কিছু করে নাই। আমরা আমাদের নিজের জন্য কি করেছি তা কিন্তু একবারের জন্যেও ভাবি নি।

আসলে কি একটা সময় আমি নিজেও ভাবতাম , পরক্ষণে দেখতে পেলাম , এইসব নেহাত বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ এই সব ভাবতে গিয়ে আমার জীবনের অনেক গুলো সময় চলে গেছে, যা আমি চাইলেও আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। সুতরাং এই সব ভেবে কি লাভ?
যখনই এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হলাম তখন বুঝতে পারলাম জীবনের সব চেয়ে বড় বোকামি টা মনে হয় আমি করেছি। নিজের প্রতি অবিচার টা আমি নিজেই করেছি। জীবনে বড় হওয়ার জন্য তেমন বেশি কিছুর দরকার পড়ে না। শুধু নিজের ইচ্ছা থাকলেই হয় পাগল মনে হচ্ছে আমায়, না?

প্রতিযোগিতার এই বিশ্বে যেখানে সবাই বড় হওয়ার জন্য মরিয়া, যেখানে হাজার কোটি টাকা নিয়ে বসে আছে অনেকেই সেখানে নিজের ইচ্ছাতেই বড় হওয়া যায়।
তাহলে আমি বলবো, আপনি একবার পিছনে ফিরে তাকান। দেখে নিন আপনার আগে যারাই সফল হয়েছে তাদের কারোর কাছে কিন্তু হাজার কোটি টাকা কিংবা অন্যদের তেমন সাপোর্ট ছিলো না। কোন গোয়াল ঘর কিংবা কোন মাঠ থেকে এমন কি রাস্তার পাশের ফুটপাত থেকেই তাদের জীবনের সূচনা হয়েছিল। আপনি ভাবতে পারেন, তাদেরকে কেউ ব্যাঙ্গ করেনি? আপনার থেকে বেশি করেছে ।
কারণ আপনি যে সময়টায় দাড়িয়ে আছেন, তারা এমন সময় পায়নি, আপনি যে সুযোগ গুলো পাচ্ছেন তারা এই গুলো পায়নি। আপনি এখন প্রযুক্তির কথা বললে শতকরা ২০ জন লোক হলেও বোঝে যে আপনার ভিতর কিছু আছে। কিন্তু তারা যে সময় ছিল তখন প্রযুক্তি নামক শব্দ বললে অনেকেই পাগল ভাবতো, এমনকি সামনা সামনি বলেও দিতো। কারণ তখনকার মানুষ গুলো এই বিষয়ে জানতো না। তার পরও কিন্তু তারা সফল।

তারা সফল এই করণে তারা মন থেকে চেয়েছিল যে তারা বড় হবে। আপনি পারছেন না, কারণ আপনি এখন পর্যন্ত নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, যে আপনি বড় হবেন কিনা। যে দিন আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিবেন ঠিক সেই দিন থেকে অল্প কয়দিনের মাথায় আপনার আশানুরুপ ফল পাবেন।

আমার আগের পোষ্ট গুলোতে বলেছিলাম আমাদের চারপাশের মানুষ রূপি গিরগিটিদের কথা, বলেছিলাম তাদের কাছ থেকে দুরে দুরে থাকার জন্য কিন্তু আজ বলছি, যদি আপনার কাছে কোন মুলধন না থাকে তা হলে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করুন, আর তাদের সামনে সব সময় আপনার স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করু, তাহলে দেখবেন তারা আপনাকে ব্যাঙ্গ করবে এমন কি বিভিন্ন রকম ঠাট্টা করবেশ। আর সেই হাসি ঠাট্টা গুলোকে চোখের পানি কিংবা হতাশাতে রূপ না দিয়ে শক্তিতে রূপ দিতে থাকুন, আর আপনার স্বপ্নের পিছনে ছুটতে থাকুন। এই কাজটি করতে পারলেই আপনার সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত।

বেশি করে পড়ার চেষ্টা করুন। অনেক অনেক জীবনী মুলক বই পড়ুন। নিজেই নিজের উৎসাহ দাতা হন।

Comments

comments