SHARE

সোহেল মৃধা
প্রধান নির্বাহীঃ Keenlay.com

স্পেন্সার ওয়েস্ট,  একজন অনুপ্রেরণাদায়ক বক্তা এবং  মি টু উই (Me to We.)  নামের একটি সংগঠনের অংশীদার। তিনি তার ব্যাক্তিগত সংগ্রামকে ব্যবহার করেছেন যুবা পুরুষ ও মহিলাদেরকে উৎসাহ দেবার জন্য যাতে করে তারা তাদের নিজেরদের জীবনের বাধা বিপত্তিগুলো এড়িয়ে অন্য সবার চেয়ে নিজেরদেকে আলাদা করে  তৈরি করে নিতে পারেন। জীবনে যখন তিনি সব কিছু হারিয়ে ফেলেছেন এমনটা অনুভব করছিলেন তখন কিভাবে নিজের পথ নিজেই গড়ে তোলেন সে সম্পর্কে তিনি তার বই  “Standing Tall, My Journey তে বলেছেন।

life-2

ওয়েস্ট একদিন হুইল চেয়ারে করে তার কম্পিউটারের কাছে গেলেন এবং ওয়েবে জোসেফ ক্যাম্বেলের আইডিয়া অব হিরো’স জার্নি (idea of the hero’s journey) সম্পর্কে তথ্য খুজছিলেন। একটি সাইটে তিনি একজন হিরো’র গ্রহণ করা পদক্ষেপগুলোর একটি সারাংশ তালিকা পেলেন। যার প্রথমটি ছিল “কল টু এডভেঞ্চার (call to adventure)” । এই পদক্ষেপটি তার চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন নিয়ে আসলো। তিনি নিজেকে এমন কিছুর জন্য একদম সঠিক ব্যাক্তি বলে মনে করলেন। উত্তেজনার বশে সে রাতে তিনি তার রাতের খারার খেতে যাননি। তিনি কিলিমাঞ্জেরো জয়ের কথা ভাবলেন। অথচ তিনি শারীরিক ভাবে অক্ষম একজন মানুষ। যার কোমরের নিচ থেকে কেটে বাদ দিতে হয়েছিল।

life-3

ওয়েস্ট একটি বিরল রোগ নিয়েই জন্ম গ্রহণ করেন যার নাম সেক্রাল এজেন্সি (https://en.wikipedia.org/wiki/Caudal_regression_syndrome)। এটি এমনই এক বিরল রোগ যা কিনা প্রতি ২৫,০০০ শিশুর মধ্যে একজন এই রোগে আক্রান্ত হয়। এই জেনেটিকালি ডিস অর্ডার রোগটি তার মেরুদন্ডের নিচের অংশের গঠনকে বাধাগ্রস্থ করে এবং পা দুটোকে চিরস্থায়ীভাবে ভাজ করে দেয়। ফলে ৩ বছর বয়সে তার দুই পা হাটু থেকে কেটে বাদ দিয়ে দিতে হয় তার দুই বছর পর কোমরের নিচ থেকে বাকি অংশ কেটে বাদ দিতে হয়।

life-4

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই সাহসি কানাডিয়ানকে বলেছিলেন যে, তিনি আর কখনই স্বাভাবিক মানুষের মত চলতে পারবেন না।

life-5

কিন্তু তিনি তার সমগ্র জীবন ধরেই তাদের সব ডাক্টারদের ভুল প্রমান করে চলেছেন। তিনি এক বছর ধরে পা ছাড়া আফ্রিকার সবোচ্চ চূড়া কিলিমাঞ্জেরো জয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। এবং ২০১২ সালে জুনের ১২ তারিখে তার সবচেয়ে ভাল বন্ধু ডেভিড জনসন এবং এলেক্স মির এবং তিনি কিলিমাঞ্জেরো জয়ের অভিযান শুরু করেন। এই যাত্রায় তিনি সময় নিয়েছেন ৭ দিন।

তিনি হাইকিং করেছেন তাঞ্জানিয়ার জঙ্গল, তুষার ক্ষেত্র, এবং মরুভূমি। আর খুব স্বাভাবিকভাবেই তিনি এই অভিযানের ৮০% শেষ করেন পায়ে বদলে হাতে হেটে! চারদিকের ভূখণ্ড সহায় হলেই শুধুমাত্র তখনই সে তার জন্য বিশেষভাবে বানানো একটি চেয়ার ব্যবহার করেছে।

life-6

এই তিনজন কিলিমাঞ্জেরোর উরুকু পিকে আরোহণ করেন চূড়ান্ত যাত্রায় ৭ ঘণ্টার এক ক্লান্তিকর যাত্রার শেষে।

 

ওয়েস্ট চূড়াতে পৌছে সে মুহূর্তটাকে বর্ণনা করেন ‘অবিশ্বাস্য’ বলে।

 

তিনি বলেন “ চুড়াকে আমাদের কাছে মরীচিকার মত মনে হচ্ছিল। আমরা চারদিকে তাকিয়ে অনুভব করলাম যে, ৭ দিনের কঠিন, বিরামহীন  পাহাড়ে চড়ার পর ২০,০০০ ফিট রক্ত, ঘাম, চোখের নোনা জল, এবং বমির পর আমরা অবশেষে সফল হয়েছি। রক্তাত্ত এবং ফোস্কা পরে যাওয়া আঙ্গুলগুলোর জন্য এই সাফল্য প্রাপ্য ছিল। আমি কিলিমাঞ্জেরো পর্বতে উঠেছি তার কারন শুধুমাত্র এই নয় যে, আমি কি করতে সক্ষম তা দেখানো একই সাথে আমি অন্যদেরকেও অনুপ্রেরণা দিতে চেয়েছি যেন তারা তাদের জীবনে আসা বিভিন্ন বাধা ও চ্যালেঞ্জগুলোকে অতিক্রম করতে পারে,  এবং সমাজের সেই সব কমিউনিটিতে তারা কিছু দিতে পারে যাদের সত্যিকার অর্থেই  আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত আমি  যা করেছি তাদের মধ্যে পর্বতের চূড়াতে উঠতে পারাটা আমার জন্য শারীরিক একই সাথে মানুষিকভাবে খুবই চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল। এটি করার মাধ্যমে আমি সবাইকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চেয়েছি যে,  নিজের প্রতি এবং অন্যদের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। অনেক লোকের কারনে আমার এই অভিয়ান সম্ভব হয়েছে, তাই আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ তাদের সহায়তার জন্য।“

life-7

তার এই অসাধারণ কৃতিত্ব ফ্রি দ্যা চিলড্রেন (Free the Children) নামের একটি দাতব্য সংস্থ্যাকে ৩,০০,০০০ পাউন্ড চাঁদা উঠাতে সাহায্য করেছে যা কিনা কেনিয়ার খরা পিরিত অঞ্চলে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

 

তিনি ১২ মাসের ও বেশি সময় নিবিড় প্রশিক্ষণে ছিলেন এটা নিশ্চিত করার জন্য যে,  তার

বাহু এবং পা যাতে চরমতম শারীরিক চাপ সহ্য করার মত যথেষ্ট শক্তিশালী হয়।

ওয়েস্ট যখন কথা বলেন,  শ্রোতারা তার কথা মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনতে থাকে। তিনি যখন

কর্পোরেট লিডার, নন প্রফিট অর্গানাইজেশন অথবা শিক্ষা সংক্রান্ত কোন প্রতিষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন,

সেখান কার সবাই সংবেশিত হয়ে তার কথা শুনতে থাকেন। অনেক সময় শ্রোতারা তার কথা

শুনতে শুনতে চোখের জল ও  ফেলতে থাকে।

 

তিনি একজন কিনোটার (keynoter) এবং ‘Standing Tall: My Journey’ নামক একটি বেস্ট সেলিং বইয়ের লেখক।

 

২০১২ টরেন্টো আন্তর্জাতিক উৎসবে ‘The Story of Spencer West’ নামে  ওয়েস্টকে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি দেখানো হয়।

life-8

ওয়েস্ট শারীরিক ভাবে অক্ষম হয়েও যা করে করে দেখিয়েছেন তা সম্পূর্ণ সুস্থ স্বাভাবিক অনেক মানুষও করতে পারেন না। প্রতি বছর ৩৫,০০০ মানুষ কিলিমাঞ্জেরো জয়ের চেষ্টা চালান। যাদের মধ্যে শুধুমাত্র ৫০% আরোহী এই পর্বতের চূড়াতে উঠতে সক্ষম হন।  এই ৫০% এর সবাই যে স্বাভাবিক মানুষ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই ওয়েস্ট পারলে ‘আমিও পারবো’। এই বিশ্বাস আপনিও রাখতে পারেন। আপনি হয়ত কিলিমাঞ্জেরো জয় করবেন না, আপনাকে জয় করতে হবে জীবন নামের কিলিমাঞ্জেরো খারা, পাথরময়, বিপদ সংকুল পথ ।

শুভ হউক আপনার যাত্রা।

তার ভিডিওঃ https://www.youtube.com/watch?v=enQ64VRzfEM

http://www.metowe.com/speakers-bureau/view-all-speakers/spencer-west/

ফেসবুক পেইজঃ https://www.facebook.com/Spencer2TheWest

ছবি সূত্রঃ www.huffingtonpost.ca

Comments

comments