SHARE

Hobson’s Choice ১৯৫৪ সালে নির্মিত একটি ব্রিটিশ রোমান্টিক কমেডি ছবি। এ ছবিটা আমার খুব ভাল লাগে কারণ এর নায়ক উইলিয়াম মোসপ আমার মতোই গোবেচারা নিরীহ মানুষ যে কিনা একসময় নিজের দোকান দিয়ে বসে। একটি নাটকের উপরে ভিত্তি করে এ ছবিটি তৈরি হয়েছে।

vlcsnap-2016-01-02-11h24m15s196

ছবির কাহিনী রানী ভিক্টোরিয়া আমলের ইংল্যাণ্ডের। হেনরি হোরেশিও হবসন (Charles Laughton) একজন সফল পাদুকা ব্যবসায়ী। ল্যাঙ্কাশায়ারে তার দোকান আছে। হবসন এর স্ত্রী মারা গিয়েছে এবং তিন মেয়ে আছে- ম্যাগি (Brenda De Banzie), অ্যালিস (Daphne Anderson) এবং ভিকি (Prunella Scales)। হবসন একজন মদ্যপ। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি মদের দোকানে কাটাতেন। ব্যবসায় তার নজর ছিল না। তার বড় মেয়ে ম্যাগিই দোকান এবং সংসার সামলাত। সে খুবই পরিশ্রমী এবং তার ব্যবসা বুদ্ধিও খুবই প্রখর। বোনদের মধ্যে তার বয়স ছিল বেশি এবং দেখতেও সে মোটেও সুন্দর ছিল না। তার মধ্যে মেয়েলি কোন ব্যাপার ছিল না। ম্যাগির ছিল দারুণ ব্যক্তিত্ব এবং প্রখর বাস্তববুদ্ধি।

vlcsnap-2016-01-02-11h23m56s359

সেই দোকানেরই একজন কর্মচারী উইলিয়াম মোসপ (John Mills)। থাকে সে এক বস্তিতে। উইলি ছিল অশিক্ষিত, নিরীহ, গোবেচারা গোছের। কিন্তু সে খুবই ভাল বুট জুতা বানাতে পারত। হবসন তাকে কম বেতন দিতেন এবং গাধার খাটনি খাটাতেন। উইলি চাইলে অন্য দোকানে ভাল বেতনে কাজ করতে পারত কিন্তু সে অন্য দোকানেও যায় না।

vlcsnap-2016-01-02-11h24m07s025

অ্যালিস এবং ভিকি বিয়ে করতে চায়। হবসনেরও এতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু ম্যাগি কে তিনি বিয়ে দিতে চান না। কারণ ম্যাগি তার দোকানের সবচেয়ে ভাল এবং মূল্যবান কর্মচারী।

vlcsnap-2016-01-02-11h24m58s450

ম্যাগির বয়স ৩০ হয়েছে। সে ভাল ছেলেও পাবে না। কিন্তু ম্যাগি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে সে বিয়ে করবে। আর করবে উইলি মোসপকে। সামাজিক অবস্থান, টাকা-পয়সা, কোন কিছুতেই উইলির মতো একজন সামান্য কর্মচারী কোনভাবেই ম্যাগির স্বামী হবার যোগ্য নয়। ম্যাগির বাকি দুই বোনও এটা মেনে নিতে পারে না। কিন্তু ম্যাগি তার সিদ্ধান্তে অটুট। সে উইলিকে পছন্দ করে কারণ উইলি গরিব, অশিক্ষিত হতে পারে কিন্তু সে সৎ এবং পরিশ্রমী। ম্যাগি উইলিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং বলে যে বিয়ের পরে তারা দুজনে মিলে পার্টনারশীপে একটি নতুন জুতার দোকান খুলবে।

হবসন ম্যাগির বিয়ের ব্যাপারটা জানার পর ম্যাগির সাথে ভীষণ দূর্ব্যবহার করেন। পরদিন উইলি দোকানে আসলে হবসন ম্যাগির সামনেই তাকে বেল্ট দিয়ে পেটান। তখনি ম্যাগি এবং উইলি এর দোকান থেকে বের হয়ে আসে। তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা নতুন দোকান খুলবে আর তারা হবসন এর দোকানে কাজ করবে না।

এভাবেই শুরু হলো তাদের নতুন যাত্রা। ওল্ডফিল্ড রোডে একটি ছোট বাড়ীতে ম্যাগি তাদের বাসা আর জুতার কারখানা চালু করে। ম্যাগির ব্যবসা বুদ্ধি এবং উইলির দক্ষতা এ দু’য়ে মিলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবসা দারুণ সফল হয়। আগে যেসব ক্রেতারা হবসন এর দোকানে যেত তারা সবাই এখন উইলি আর ম্যাগির কাছে যায়।

vlcsnap-2016-01-02-11h25m46s490

শুধু যে ব্যবসাই সফল হয় তা নয়। ম্যাগি উইলিকে পড়ালেখা শেখায়। ম্যাগির ভালবাসা এবং সমর্থন পেয়ে উইলির মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মায়। সে হয়ে ওঠে নতুন এক মানুষ।

vlcsnap-2016-01-02-11h24m43s745

এদিকে হবসন এর ব্যবসা লাটে উঠেছে। মদ খেয়ে খেয়ে হবসন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে আরেক দোকানদার কোর্টে মামলাও করে। ছবির শেষে দেখা যায়, সেই নিরীহ গোবেচারা উইলি হবসন এর সামনে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে হবসনকে পার্টনার হবার প্রস্তাব দিচ্ছে।

এ ছবিটি আমার ভাল লেগেছে নানা কারণে। প্রথমত, এ ছবির মূল তিন চরিত্রে যারা অভিনয় করেছেন। তারা দেখতে কেউ মোটেও সুন্দর বা আকর্ষণীয় নন কিন্তু তাদের প্রত্যেকের ছিল দারুণ অভিনয় প্রতিভা। চার্লস লটন ছিলেন চরিত্রাভিনেতা। ইংরেজিতে যাকে বলে Character actor। তার সময়কার সেরা অভিনেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ব্রেন্ডা ডি বেঞ্জি মোটা ছিলেন বলে নায়িকা হতে পারেন নি। তিনি তার জীবদ্দশায় মাত্র ১৭টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু তিনি দূর্দান্ত অভিনেত্রী ছিলেন। এ ছবিতে দুজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতার সাথে তাল মিলিয়ে দারুণ অভিনয় করেছেন। জন মিলসও সেরকম সুদর্শন অভিনেতা ছিলেন না। দেখতে খুব সাদামাটা কিন্তু বিপদের সময়ে সে পালিয়ে যায় না লড়াই করে। এ ধরণের হিরোর চরিত্র তিনি খুব ভাল করতে পারতেন।

দ্বিতীয়ত, উইলি এবং ম্যাগির যে সম্পর্ক, তাদের মধ্যে যে ভালবাসা এবং বোঝাপড়া। তারা একে অন্যের পরিপূরক। এ পৃথিবীতে সবাই সব কিছু পারে না। উইলি ব্যবসা পারে না কিন্তু ম্যাগি বোঝে আবার ম্যাগি জুতা বানাতে পারে না কিন্তু উইলি পারে। কয়েকজন মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে তখন অনেক কিছুই করা যায়।  কারণ বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ধরণের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা নিয়ে আসে এবং সেগুলো কাজে লাগান যায়।

সবশেষে উইলির মানসিকভাবে বেড়ে ওঠা। ম্যাগি উইলিকে পড়ালেখা শেখায়। উইলি আস্তে আস্তে ব্যবসা দেখতে শেখে এবং তাদের সব দেনা সে নিজে নিজে শোধ করে। ম্যাগির ভালবাসা এবং সমর্থন উইলিকে একজন নিরীহ গোবেচারা কর্মচারী থেকে এক আত্মবিশ্বাসী মানুষ এবং সফল ব্যবসায়ীতে পরিণত করে।  ছবির শেষ পর্যায়ে দেখা যায়, হবসন এর সাথে উইলি একজন দক্ষ ব্যবসায়ীর মতো দেন-দরবার করে। হবসনও তার দাবি মেনে নেয়। আসলে সঠিক দিক-নির্দেশনা এবং উৎসাহ মানুষকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

http://www.imdb.com/title/tt0047094/?ref_=nv_sr_1

Comments

comments