SHARE

লেখকঃ নাজমুল হাসান মজুমদার

সুইডিশ চলচ্চিত্র “ Wild Strawberries ” পরিচালক ইংমার বার্গম্যান এর অসাধারণ এক লেখা অবলম্বনে নির্মিত ১৯৫৯ সালে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র । ছবির গল্প বেড়ে ওঠে ডাক্তার ইশাক বর্গ’কে ঘিরে । ডাক্তার ইশাক বর্গ’ তার সফল কর্মময় জীবনের জন্যে সম্মানসূচক ডিগ্রি’তে মনোনীত হন । এরপর ছবির গল্পের মোড় একদম অন্যভাবে চলতে থাকে । ছবিজুড়ে পরিচালকের মুনশিয়ানা চোখে দেখার মতন । এত আগে এত অল্প প্রযুক্তির স্পর্শ পাওয়া একজন মানুষ কিভাবে ছবির প্রাণ দিতে হয় তা দেখিয়েছেন সফলতার সাথে । ছবিটি পুরোটা দেখে ওঠার পর মনে হবে এই ছবি না দেখে থাকলে অসম্পূর্ণ থেকে যেতো চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জীবন ।

জানালার কাচ গলে যে রোদ আসে, সেই রোদ সব বয়সে একরকমভাবে গায়ে লাগেনা । তেমনি করে সবসময় মানুষের জীবন একই গতিপথ অনুসরণ করে চলেনা । দেহের দেয়ালের ভেতর মানুষের যে মন আছে সেই মনেও দেহের বার্ধক্যের মত একসময় বার্ধক্য এসে জমাট বাঁধে বয়সের সাথে । তখন সময়টা খুব একটা নতুন কিছু দিতে পারেনা , আর সেই অলস সময়গুলোতেই মানুষকে ধরে বসে অতীতের স্মৃতিচারণা । কখনো একান্তই , কখনোবা নিকট ঘনিষ্ঠ কিংবা অপরিচিত কারো কাছে খুলে বসে স্মৃতির ডালপালা ।

শুন্য শহরে ইশাক বর্গ যখন শহরে হাঁটছে ঠিক তখন তার সামনের লোককে ধরতে গিয়ে দেখল তার শরীর জুড়ে রক্ত জড়ছে , আসলে লোকটি মৃত । কিছুক্ষণ পর মনুষ্যবিহীন একটি ঘোড়ার গাড়ি তার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ঘোড়ার গাড়ির একটি চাকা ল্যাম্পপোস্টের সাথে বারি লেগে খুলে গিয়ে তার দিকে ছুটে আসে । এক মুহূর্তে যেন দ্বিধান্বিত হয়ে যায় বৃদ্ধ ইশাক বর্গ । কিছুক্ষণ পর ভাঙ্গা ঘোড়ার গাড়িটি ছুটে যায় আর ফেলে যায় একটা কফিন । সেই কফিনে যে তারই চেহারার প্রতিরুপ একজন, আর তাকে হাত ধরে সেই কফিনে টানছে । এ ধরণের সব অদ্ভুত স্বপ্ন এখন তার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে ।

একটা ভ্রমণ যেন জীবন, যার গন্তব্য বন্ধুর । নিজের ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবনের এক ভ্রমণ , আর তার মাঝে কিছু অদ্ভুত সমীকরণ চলচ্চিত্রের পরতে পরতে স্থান পেয়েছে । ছবিজুড়ে যেন শিল্পের ছোঁয়া , সম্পর্কের দূরত্ব ফুটে ওঠে ছেলের সাথে পরিবারের কর্তার । সব এক সরল অঙ্কে আবদ্ধ হতে থাকে । আলো-ছায়ার চমৎকার কিছু খেলা , তার মাঝে অসাধারণ দৃশ্যায়নের কাজ একটা ঘোরের ভেতর দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যায় ছবিজুড়ে । যেখানে একটু পরে মনে হবে গল্পটা এভাবে যাবে , ঠিক তার পরে গল্পের গভীরতা আরও বেশি জীবন ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠবে । ছবিতে ঘোড়ার গাড়ির সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিটি দৃশ্যের কিংবা মোটর গাড়ির দৃশ্য এবং নিজের পরিবারের সাথে সময় কাটানো মুহূর্তগুলো একটু একটু করে দর্শকের মনের ভেতর দাগ চিরে নিবে । এক প্রফেসর ডাক্তারের জীবন এর মধ্যে দিয়ে ছবির ফ্রেমে ফুটে উঠে যেন জীবনের বৈচিত্র্য ।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা Victor Sjöström এ চলচ্চিত্রের জন্যে “এনবিআর বেস্ট এক্টর” পুরস্কার পান, আর ৯১ মিনিটের চলচ্চিত্রটি ১৯৬০ সালে “গোল্ডেন গ্লোব” পুরস্কার পায় বিদেশি ভাষা চলচ্চিত্র বিভাগে এবং অষ্টম বার্লিন আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পায় সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার। নির্মাতা ইংমার বার্গম্যান এর ১৩ টি চলচ্চিত্র আইএমডিবি রেটিং এ ৮ এর ওপর । এক বসায় এই চলচ্চিত্র দেখাও একটা চ্যালেঞ্জ

Comments

comments