SHARE

লেখকঃ নাজমুল হাসান মজুমদার

বিশ্বে ডিজিটাল বিপ্লবের পথিকৃত এবং বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও এর সাবেক প্রধান নির্বাহী স্টিভ জবস । পুরো নাম – ষ্টিভেন পল জবস । তার জন্ম ফেব্রুয়ারী ২৪,১৯৫৫ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কোতে । মাত্র ৫৬ বছর বয়সে (১৯৫৫-২০১১) অগ্ন্যাশয়ের জটিল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। জবস দীর্ঘ আট বছর ধরে অগ্ন্যাশয়ের এই জটিল ক্যান্সারে ভুগছিলেন। অগণিত উদ্ভাবনের জনক ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক নির্বাহী স্টিভ জবস । তার উদ্ভাবনী ক্ষমতায় অ্যাপলের কাছে অগনিত কোম্পানি ধরাশায়ী হয়েছে । তার বুদ্ধিমত্তা, কর্মশক্তি ও উত্সাহ মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে । প্রযুক্তিবিদ স্টিভ জবস ছিলেন মাইক্রোসফটের অন্যতম সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং বিল গেটসের বন্ধু । এ ব্যাপারে মাইক্রোসফটের প্রধান বিল গেটস বলেন, মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করে তোলায় জবসের বড় ধরনের প্রভাব পরবর্তী প্রজন্ম মনে রাখবে। তিনি আরও বলেন, ‘জবসের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তিনি সৌভাগ্যবান মনে করছেন । অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্য বিশেষ করে আইফোন ও আইপ্যাড উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্টিভ জবস বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির দুনিয়ায় যে বিপ্লব ঘটিয়েছেন ,তা সমগ্র পৃথিবী স্মরণ রাখবে । বিশ্ব পরিবর্তনের রূপকার হিসেবে তাকে বর্তমান সময়ের লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি উপাধিও দেওয়া হয়। অ্যাপলের দায়িত্ব থেকে স্টিভ মাত্র ৬ সপ্তাহ আগে ইস্তফা নিয়েছিলেন । অ্যাপলকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তিনি তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী টিম কুককে।

যা কিছু সৃষ্টি করেছেন
প্রতিভাবানরা ক্ষনজন্মা হয় । আর হয়ত তাই অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন নামক দুইটি সেরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও স্টিভ জবস চলে যান ।
অ্যাপল এর আইফোন, অ্যাপল ট্যাব , ল্যাপটপ, ম্যাক ইত্যাদি পণ্য তৈরি করে তার প্রতিষ্ঠান বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে । তিনি মোবাইল প্রযুক্তির বিবর্তনকারী আইফোনের উদ্ভাবক। তিনি স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েন এর সঙ্গে ১৯৭০সালে অ্যাপল কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন, ৩০ বছর বয়সে এসে তিনি বাজারে ছাড়েন ম্যকিন্টস, তৈরী করেন পৃথিবীর সবচেয়ে সফল অ্যানিমেশন স্টুডিও পিক্সার,.যা থেকে ১৯৯৫ সালে বের করেন পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার অ্যানিমেশন ছবি “টয় স্টোরি” ।

ছেলেবেলা
জবস যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কোতে জন্মেছিলেন এবং পরে তাকে পল ও ক্লারা জবস দত্তক হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তার নাম দেওয়া হয় – স্টিভেন পল জবস । তার প্রকৃত পিতা মাতা ছিলেন জোয়ান ক্যারোল এবং আব্দুল্লাহ ফাতাহ জান্দালি। তার বাবা সিরিয়া থেকে স্নাতকোত্তর ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হয়েছিলেন ।যারা পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং তাদের ঘরে জবস এর বোন সাহিত্যিক মোনা সিম্পসন জন্মান।
জবস কুপারটিনো জুনিয়র হাই স্কুলে এবং হোমস্টিড হাই স্কুলে গিয়েছিলেন । তিনি প্রায়ই হিউলেট-প্যাকার্ড কোম্পানিতে লেকচারগুলোতে অংশগ্রহণ করতেন।যেখানে পরবর্তীতে তিনি গ্রীষ্মকালীন কর্মচারী হিসাবে স্টিভ ওজনিইয়াকের সাথে কাজ করেন।১৯৭২ সালে তিনি হাই স্কুল শেষ করেন এবং রীড কলেজ়ে ভর্তি হন।যদিও তিনি পরবর্তীতে কলেজ ছেড়ে দেন ও তিনি ক্যালিওগ্রাফী সহ আরো কিছু ক্লাশে যোগদান করেছিলেন। এই সম্পর্কে তার একটি উক্তি হলো – ” যদি আমি ওই কোর্সে না যেতাম তবে ম্যাকের কখনোই বিভিন্ন টাইপফেস বা সামঞ্জস্যপূর্ণ ফন্টগুলো থাকতো না।”

শুরুটা যেমন
সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়া এই মানুষটি কখনই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করেননি ।কোনো এক সমাবর্তন অনুষ্ঠান এ গিয়ে তিনি বলেছিলেন, জীবনে সমাবর্তন অনুষ্ঠান এ প্রথম আসলাম, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তার মুখের কিছু কথা শোনা যাক-
” আমার কোনো রুম ছিল না, বন্ধুদের রুমের ফ্লোরে আমি ঘুমাতাম। মানুষের ব্যবহৃত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে আমি পাঁচ সেন্ট করে কামাই করতাম, যেটা দিয়ে আমি খাবার কিনতাম। প্রতি রোববার রাতে আমি সাত মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতাম শুধু একবেলা ভালো খাবার খাওয়ার জন্য।”

হৃদয়ে যা পোষণ করতেন
তোমাকে অবশ্যই তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পেতে হবে, ঠিক যেভাবে তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে খুঁজে বের করো। তোমার জীবনের একটা বিরাট অংশজুড়ে থাকবে তোমার কাজ, আর তাই জীবন নিয়ে সত্যিকারের সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে এমন কাজ করা, যে কাজ সম্পর্কে তোমার ধারণা, এটা একটা অসাধারণ কাজ। আর কোনো কাজ তখনই অসাধারণ মনে হবে, যখন তুমি তোমার কাজটিকে ভালোবাসবে। যদি এখনো তোমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পাও, তবে তা খুঁজতে থাকো। অন্য কোথাও স্থায়ী হয়ে যেয়ো না। তোমার মনই তোমাকে বলে দেবে, যখন তুমি তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পাবে। যেকোনো ভালো সম্পর্কের মতোই, তোমার কাজটি যতই তুমি করতে থাকবে, সময় যাবে, ততই ভালো লাগবে। সুতরাং খুঁজতে থাকো, যতক্ষণ না ভালোবাসার কাজটি পাচ্ছ। অন্য কোনোখানে নিজেকে স্থায়ী করে ফেলো না।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ষ্টিভেন পল জবস
জন্ম -ফেব্রুয়ারি ২৪, ১৯৫৫
সান ফ্রান্সিস্কো,ক্যালিফোনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
বাসস্থান – পালো আলতো, ক্যালিফোনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তা -আমেরিকান
পেশা- চেয়ারম্যান , apple
বাৎসরিক আয় -৮.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
বোর্ড সদস্য – দ্য ওয়াল্ট ডিজনি এবং apple
ধর্ম-বৌদ্ব
দম্পতি-লওরেনি পাওয়েল
সন্তান -৪ জন
আত্বীয়- মোনা সিম্পসন(বোন)
মৃত্যু- অক্টোবর ৬,২০১১(বয়স ৫৬)
স্বাক্ষর-

আরও যা ছিলেন তিনি

তিনি ব্যক্তিগত কম্পিউটারের উদ্ভাবক । যাতে মাউসের মাধ্যমে ক্লিক করে স্ক্রিন ইমেজ ধারণ করা যায়। তিনি আইপডে চলমান মিউজিক প্লেয়ার উদ্ভাবন করেছেন । তার উদ্ভাবিত আইফোন ও আইপড ট্যাবলেড বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ।নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট জো নাসিয়েরা আগস্টে বলেছিলেন, ‘তার চিন্তা চেতনা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ উপদানের আধার হিসেবে কাজ করে।’এক কথায় তাকে তথ্যপ্রযুক্তির ক্যাপিটালিজমের জনক বলা যেতে পারে ।

Comments

comments