SHARE

ইট পাথরের দেওয়াল ঘেরা আর পিছঢালা রাস্তা , চারদিকে ছোট বড় গাড়ির শব্দ , কারো অবসর নেই , সবাই ব্যাস্ত কারো কোন অবসর নেই, প্রথম প্রথম ঢাকায় পা রাখলেই চমকে যেতাম , মনে হতো এইখানে বুঝি আমার ঠাই নাই, এই খানে সব ব্যাস্ত লোকদের আর বড় লোকদের আড্ডাখানা । টেলিভিশন এর পর্দায় বড় বড় বিল্ডিং দেখে মনে এক ধরণের লোভ জন্মাতো , মনে হতো আমার ও তো এই রকম একটা বিল্ডিং করা দরকার, হবে একদিন আমারও একটি বাড়ি হবে গাড়ি হবে, সারাদিনের ব্যাস্ততা শেষে আমি গাড়ি করে আমার বাড়ি পিরবো , কর্মচারী থাকবে , থাকবে সুন্দর একজন সংঙ্গী ,বলতে বলতে চোখের কোনে কিছু জল এসে গেলো , বুঝে উঠতে পারছি না , এটা কি আনন্দের নাকি না পাওয়ার যন্ত্রণার ?

কিছু সময়ের জন্য বিষয়টা নিয়ে ভাবনার জগতে চলে গেলাম , ভাবতে লাগলাম , এমন কতো লোক পাবো যে যাদের এই রকম ব্যার্থ গল্প গুলো শুনতে পাবো । আর কত জনের বা চোখের কোন ঘেসে জল গড়িয়ে এই মাটির বুক চেয়ে যাবে ? একটি ধাক্কা ছোট করে একটি ধাক্কা, নেন বাদাম খান , আর কি ভাবছেন ?

ওহ হ্যাঁ বাদাম !! কিছুটা হতভ্মব হয়ে হাত বাড়িয়ে কয়েকটা বাদাম নিলাম । আচ্ছা এখন আপনার কি অবস্থা ?

এখন আমি খুব সুখে আছি , বেশ ভালো আছি ..

তাহলে ওই চোখের কোনের জল ?

ওহ ওই জল কষ্টের না আবার সুখের ও না , আবেগের , সেই সময়ের কথা মনে হলেই চোখের কোণে নিজের অজান্তে কয়েক ফোটা জল এসে যায় । সে দিন যদি হাল ছেঢ়ে দিতাম তাহলে আর আজকের আমি কে দেখতে পেতাম না , কিছুই হতো না , আমার পরবর্তী প্রজন্ম ও আমার মতো কষ্ট করতে হতো , হয়তো তারা পারতো না হয় তারাও হাল চেড়ে দিয়ে বসে থাকতো , আর আমি সারা জীবন তাদের চোখে অপরাধী হয়ে থাকতাম ।

অপরাধী কেন ?

তাদের জন্য কিছু রেখে যেতে না পারলে , তাদের কিছই দিতে না পারলে তো আমি অপরাধীই তাই না ? তারা যদি আমায় প্রশ্ন করতো আমার জীবনে আমি কি করেছে . কোন স্বপ্ন দেখেছি, কিংবা দেখলেও তার পিছে ঠিক ঠাক সময় দিয়েছি কিনা , আমার স্বপ্ন টা কেমন ছিলো আর কনেই বা সেটাকে আমি বাস্তবে রূপ দিতে পারিনি ? কতটুক পর্যন্তই বা আমি যেতে পেরেছি ? এই রকম হাজার টা প্রশ্ন আর সেই সব প্রশ্নের  জবাবে আমি তাদের কি বলতাম ? কিছুই বলঅর ছিলো না , যদি না আমি চেষ্টা করতাম , আর সেই চেষ্টার কতটুকু পথ পাড়ি দিয়েছি সেটা বলতে হতো তাদের । আসলে কি জানেন আমাদের প্রত্যেক এর ই জীবন সংগ্রামে লড়াই করা উচিত হয় সেই লড়াইয়ে জিতে যাব আর না হয় অন্যদের পথ দেখিয়ে যাবো । এক নাগারে কথা গুলো বলেই যাচ্ছেন । আমার বেশ ভালো লাগছে , জীবন মুখী কথা শুনতে আগে থেকেই ভালো লাগতো । আচ্ছা আপনার জীবনের কথা কি শুনতে পারি ? মানে আপনি কিভাবে আপনার দুঃসময়ের জীবনটা পার করেছেন ? আর কোথা থেকেই বা আপনি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন ?

শুনবেন ? তাহলে শুনেন ..

প্রথমদিককার কথাতো আপনাকে বললামই . বড় দালান, বড় গাড়ি ওই সব আর কি , যানেন বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছিলাম তখন আমি একা , গ্রামের গরীব ঘরের সন্তান , পরিবারে সব সময় অভাব লেগেই থাকতো । পড়ালেখা তেমন করার সুযোগ পাইনি । পুজি বলতে একটাই ছিলো আমার বিশ্বাস , যে আমি পারবো .. অনেকটা সহজ ভেবেছিলাম পৃথিবীটাকে , আর সেই ভাবনা থেকেই ঢাকায় আসা , বেকার মানুষ , কি করবো কিছুই বুঝতে ছিলাম না । যেখানেই যাই সেখঅন থেকেই খঅলি হাতে ফিরে আসি । এক সময় হকারি করা শুরু করি , এক সময় সেটাও বন্ধ হয়ে যায় , ও মুহর্তে তেমন কেউ ছিলো না যে তার কাছে পরামর্শ চাইবো , পৃথিবীটা যেন আমার বিপরীতে কাজ করতে শুরু করলো । এক সময় নিজেকে ব্যার্থ মানুষ ভঅবতে শুরু করলাম । ঠিক সেই মুহর্তে আজকে এই স্থানটায় বসে ছিলাম আর কি করা যায় ওই সব বিষয় ভাবছি । ওই মুহর্তে একটা ছোট ছেলে হাটতে পারেনা , বয়স ১ কি দেড় বছর হবে .. ঠিক মতো দাড়াতেই পারছেনা , হাটবে কি করে , কিন্তু তার বাবা তাকে হাতে দরে হাটা শিখাচ্ছে, ছেলেটি বার বার পড়ে যাচ্ছে আর বাবা তাকে হাত ধরে তুলে দাড় করাচ্ছে । আমার তেমন কাজ না থাকায় প্রায় প্রতিদিন ই আসতাম , আর প্রতিদিনই ওই বাবার চেষ্টা দেখাতাম এক সময় ছেলেটা একটু একটু হাটছে, এই যে ছেলেটা পড়ে যাচ্ছে কিংবা হাটতে চাচ্ছে না তাতে তার বাবা বিন্দু মাত্র বিরক্ত হচ্ছে না , তিনি তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে , আরো কিছু দিন যেতেই দেখলাম ছেলেটা পুরোধমে হাটতে পারছে । তখন আমার মনে হলো ওই ছেলেটার মতো আমার বাবাও আমার হাত ধরে হাটা শিখিয়েছে > তখন বাবার প্রতি চাপা ক্ষোপটা কেটে গেলো , একটা সময় আমি ভাবতাম আমার বাবা আমার জন্য কিছুই করেননি , কিন্তু এ দৃশ্যটা দেখার পরে আর মনে হয়নি যে আমার বাবা আমার জন্য কিছু করেননি , যদি সে দিন বাবা আমার হাত ধরে হাটা না শিখাতো তাহলে তো আজ আমার দৌড়ে বেড়ানো তো দুরের কথা হাটতেই পারতাম না । আমি ব্যার্থ নই ,আসলে কি জানেন আমরা কেউ ব্যার্থ নই , সবাই সফল , ক্লাসে যে ছেলেটা পড়া পারে না তাকে সবাই বোকা বলে ডাকে , কিন্তু দেখবেন তার ভিতরেও কোন না কোন গুন রয়েছে যেটা আপনার আমার মধ্যে নেই । সবার মাঝেই কোন না কোন গুন থাকে হয়তো সেটা প্রকাশ পায়না, স্থান কাল অভাবে , কিংবা সে নিজেও জানেনা যে তার মাঝে যে একটা মহৎ প্রতিভা লুকিয়ে আছে । অনকে কথা বলা হলো , এর পর আবার নিজেকে তৈরি করে কাজে নেমে পড়লাম । আগের কিছু টাকা ছিলো সেই টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করলাম । গ্রাম থেকে হাতের কাজ করা নকশী কাথা আরো কিছু পরার কাপড় কিনলাম আর সেই গুলো গলিতে হেটে হেটে বিক্র করতাম , এইভাবে একসময় কিছু টাকা জোগাড় হয় আর একটা দোকান দেই , আর বাড়তে থাকে আমার ব্যাবসা , আর পরিণত হলাম আজকের আমি তে । আসলে কি যানেন আমরা সবাই সফল , সবাই কর্মীক , হয়তো তার মধ্যে কেউ কেউ ঝরে পড়ি নিজের অজান্তে , নিজের কিছু ভুলের জন্য । আপনি একবার ভেবেই দেখুন না , আমরা প্রতি নিয়তই লড়াই করছি , লড়ি যাচ্ছি জীবনের সংঙ্গে , লড়াই করছি, সময় , এমন কি অবস্থা এর সংঙ্গে । এই লড়াইয়ে আপনি তখনই জয়ী হবেন যখন আপনার মনোবল আপনার সামনের বাধার তুলনায় মজবুত হবে , শক্ত হবে আপনার ইচ্ছা শক্তি । তাহলে আজ উঠি , অনকে সময় ধরে আছি.. অন্য কোন দিন কথা হবে ।

এক নাগাড়ে কথা গুলো শুনেই গেলাম কিছু বলার সুযোগ নেই , আর থঅকলেও বলতে ইচ্ছে করেনি , কারণ কথা গুলো শুনতে ভালোই লেগেছে ।

 

“পাওয়া না পাওয়া সেটা বড় নয় , আমার চেষ্টা কতটুকু ছিলো সেটাই বড় । স্বপ্নহীন জীবন মৃত লাশের মতোই । ”

Comments

comments