মঙ্গলবার, আগস্ট ২২, ২০১৭

Inspiration

Inspiration

এক মিউজিক কম্পোজার এর গল্প

0

লেখকঃ নাজমুল হাসান মজুমদার

জনি টাওনার উলিয়ামস ” নামটি অনেক অপরিচিত লাগতে পারে ,তাকে কেউই চিনবেনা সিনেমাপ্রেমী অনেকে কিন্তু যদি বলা হয় Indiana Jones , Schindler’s List , Catch Me If You Can , Harry Potter , Lincoln , War Horse এর মতন নামকরা অসংখ্য হলিউড মুভিগুলোর মিউজিক কম্পোজার তিনি , তবে একটু নড়েচড়ে বসতে হবে । ১৯৫৮ সালে হলিউডের জগতে পা রাখেন এই গুণী মানুষ Daddy-O নামক একটি চলচ্চিত্রে কাজ করে । এরপর একটা মানুষ কতটা চেষ্টা করতে পারেন ও পরিশ্রম করতে পারেন তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন ।

আমেরিকার নিউ ইয়র্কের ফ্লোরাল পার্কে এলাকায় জন্ম নেয়া মানুষটি পারিবারিকভাবে ছিলেন মিউজিকের সাথে সংশ্লিষ্ট । তারর বাবা জনি উইলিয়ামস ছিলেন পেশায় একজন ড্রামার , যিনি ছিলেন বিখ্যাত মিউজিশিয়ান “রেইমন্ড স্কট” এর সহকারী এবং জন উলিয়ামস এর দুই ভাই ও মিউজিক পেশার সাথে জড়িত । পারিবারিক আবহে যে মানুষটির জীবনে মিউজিকের আধিপত্য ছিল তিনি যেন শুরু থেকে সেই আবহটাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন শ্রেষ্ঠদের থেকেও আরও বেশি কিছু দেয়ার জায়গায় । আমেরিকান এয়ার ফোর্সের এক ব্যান্ডের জন্যে প্রথম তিনি মিউজিক করেন ।

পঞ্চাশ বার অস্কারের জন্যে মনোনীত হয়েছেন তিনি , ভাবা যায় ! এবং পাঁচবার অস্কার জিতে নেন । ‘। ১৯৩২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া এই মানুষটি পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার অস্কারের জন্যে মনোনীত হয়েছেন । গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড এর মত পুরস্কারের জন্যে ৬৫ বার তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন এবং গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড বাইশ বার জিতেছেন। গোল্ডেন গ্লোবে এর মতন পুরস্কারের জন্যে মনোনয়ন পেয়েছেন পঁচিশ বার এবং চার বার জিতেছেন এ পুরস্কার ।

ফোর ফিঙ্গার পিয়ানিস্টঃ মা ও মেয়ের অসম্ভবকে সম্ভব করার যুদ্ধ

0

লেখকঃ কামরুল হাসান (শাওন)

তৃতীয় বিশ্বের দেশে একজন শিশু যদি প্রতিবন্ধি হয়ে জন্মায় তাহলে তার কি পরিণতি হয়? সেই শিশুটিকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত পরিবারের অন্য সদস্যদের করুণার উপর বেঁচে থাকতে হয় এবং তাকে পরিবারের বোঝা ভাবা হয়। হি আহ লি (He Ah Lee) এর অবস্থা এর থেকে ভাল কিছু হত না যদি তার মা তাকে সব ধরণের সাহায্য ও সহযোগিতা না করত।

হি আহ লি ১৯৮৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম আর দশজন শিশুর মত স্বাভাবিক নয়। তার প্রতিটি হাতে দুইটি করে মোট চারটি আঙ্গুল। এবং তার পা হাঁটুতে গিয়ে শেষ হয়েছে। ডাক্তাররা আশা করেনি সে বাঁচবে। গুরুতর শারীরিক ক্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করায় হাসপাতাল থেকে জানানো হয় যে সান (Sun- লি’র মা) তার শিশুকে বাসায় ঠিক মত দেখাশুনা করতে পারবে না। শুধু তাই না তার প্রতিবেশীরা চেয়েছিল সান যেন তার সন্তানকে অন্য কোন দেশে দত্তক দেয়। কিন্তু তিনি তার কিছুই করেননি।

মা ও মেয়ের এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। লি ছয় বছর বয়সে পিয়ানো শেখা শুরু করে। সে সময় তার চারটি আঙ্গুল খুবই দুর্বল ছিল। সে এমনকি পেন্সিলও ধরতে পারত না। লিকে পিয়ানো শেখানোর পিছনে তার মার একটা যুক্তি কাজ করছিল। তার মা ভেবেছিল পিয়ানো বাজালে তার কব্জি শক্ত হবে। এটা কাজ করল। কিন্তু আরও যা হল লি কল পাওয়া শুরু করল। এখন সে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করে এবং দর্শকদের জন্য পিয়ানো বাজায়। সে যেসব সূর তোলে তা একজন সামর্থ্যবান মানুষের পক্ষেও কঠিন।

লি’র সাফল্য এত সহজে ধরা দেয়নি। ছয় মাস কোন পিয়ানো স্কুল তাকে ভর্তি নিচ্ছিল না। অবশেষে একজন শিক্ষক তাকে পিয়ানো বাজানো শেখাতে রাজি হয় কিন্তু একসময় তিনি নিরুৎসাহিত হয়ে কাজটি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। পরবর্তী তিন মাস ছিল মা ও মেয়ের ভিতর ইচ্ছাশক্তির প্রতিযোগিতা বা লড়াই। লি’র মা একসময় হতাশ হয়ে তার মেয়েকে মেঝেতে ফেলে দেয়। লি মেঝে থেকে উঠে পিয়ানো বেঞ্চে গিয়ে বসে এবং এতদিন ধরে যেই সূরটা শিখানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল তা বাজায়। এটা ছিল লি’র জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এক বছর পর লি কিন্ডারগার্টেনের পিয়ানো কনসার্টে সর্বোচ্চ পুরস্কার পান। লি সাত বছর বয়সে কোরিয়ার ১৯তম ন্যাশনাল হ্যান্ডিক্যাপ কনকোয়েস্ট কনটেস্ট জেতে এবং কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়।

লি তার জীবনে অনেক পুরস্কার জিতেছে এবং বিশ্বের ২০০টিরও বেশী দেশে কনসার্টে পিয়ানো বাজিয়েছে। তার প্রথম অ্যালবাম “হি-আহ, এ পিয়ানিস্ট উইথ ফোর ফিঙ্গারস” ২০০৮ সালের জুনে মুক্তি পায়। পিয়ানো আয়ত্ত করার জন্য তাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য লি তার মাকে এই অ্যালবামে সম্মান জানায়। লি জানায় যে যদিও তার প্রশিক্ষণ ছিল কঠিন, সময় যাওয়ার সাথে সাথে পিয়ানো তার অনুপ্রেরণার উৎস এবং ভাল বন্ধু হয়।

হি আহ লি’র উপর নির্মিত ভিডও লিংক নিচে দেওয়া হল-
https://www.youtube.com/watch?v=2FSnalrPYpc

তথ্য সূত্র- http://www.inspire21.com/stories/truestories/4-FingerPianist

থাইল্যান্ডের ভাসমান ফুটবল ক্লাব কোহ পেনি

0

লেখকঃ কামরুল হাসান (সাওন)

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা গুলোর মধ্যে ফুটবল অন্যতম। এমন কোন দেশ নেই যেখানে ফুটবল খেলা হয়না। প্রতিটা দেশেই নামকরা অনেক অনেক ফুটবল দল আছে, যেমন বাংলাদেশে আছে- আবাহনী ও মোহামেডান। কিন্তু খেলাধুলা করার জন্য যদি মাঠ না থাকে তাহলে? থাইল্যান্ডের কোহ পেনি এমনই একটি গ্রাম যেখানে পানি ছাড়া আর কিছু নেই বললেই চলে। সেখানে ফুটবল খেলার কথা চিন্তা করাই বোকামি। কিন্তু মজার ব্যপার হল থাইল্যান্ডের সেরা ফুটবল দল গুলোর মধ্যে একটি এই গ্রামেই অবস্থিত। এই ফুটবল ক্লাবটি গড়ে উঠে ১৯৮৬ সালে কিছু ফুটবল প্রেমী শিশুর হাত ধরে। খেলার জন্য উন্মুক্ত স্থান না থাকায় তারা কাঠের টুকরা সংগ্রহ করে এবং সমুদ্রের উপর ভাসমান ডক তৈরি করে খেলার মাঠ হিসাবে। নিঃসন্দেহে এটি ছিল রুক্ষ এবং ছোট। কিন্তু লক্ষ্য অর্জনে এটা কোন বাধা হয়ে দাড়ায়নি। ক্লাবটি মূল ভুখন্ডে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা শুরু করে এবং তাদের সফলতা ক্লাবটিকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসে- দক্ষিণ থাইল্যান্ডের সেরা ফুটবল ক্লাব। ক্লাবটি গত সাত বছর ‘ইউথ চ্যাম্পিয়ন্স অব সাউথার্ন থাইল্যান্ড’ জিতেছে।
থাইল্যান্ডের বেসরকারি ব্যাংক টিএমবি’র সহায়তায় একটি অ্যাড ক্যাম্পেইন করা হয় এই ক্লাবের ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে। এই ভিডিওতে ফুটবল ক্লাবের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। এখানে দেখানো হয় যে গ্রামের কেউ তাদের এই আইডিয়াকে সহজে গ্রহণ করেনি এবং অনেকেই ঠাট্টা উপহাস করে তাদের নিয়ে। কিন্তু গ্রামের তরুণ ছেলেরা তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে লেগে ছিল বলে তারা অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরেছিল। অ্যাডটির লিংক নিচে দেওয়া হল-
https://www.youtube.com/watch?v=jU4oA3kkAWU
তথ্য সূত্র-
http://www.designboom.com/des…/tmb-history-of-the-panyee-fc/
http://mkshft.org/koh-panyees-floating-football-field/

আয়রন উইল

0

উইল স্টোনম্যান। বয়স ১৮। উইল স্টোনম্যান এর বাবা মুসিং ( এক ধরনের কুকুর দ্বারা চালিত বাহন ) দুর্ঘটনায়, বরফের নদীতে পড়ে মারা যায় এবং উইল কে তাঁর পরিবারের দেখাশোনা করার জন্য রেখে যায়। উইল দের আর্থিক অবস্থা ভাল ছিলনা। উইল এর কলেজ এর বেতন চালানো এবং তাদের পারিবারিক খামার রক্ষার জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন ছিল। এর মাঝে উইল জানতে পারল কানাডায় কুকুরের গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা হবে। যাতে বিজয়ীর জন্য পুরস্কার থাকবে ১০০০০ ডলার। উইল সিদ্ধান্ত নিল পরালেখার খরচ চালাতে এবং ক্মার রক্ষা করতে সে এই দৌড় প্রতিজগিতায় অংশ নেবে। যেই ভাবা সেই কাজ সে তাঁর মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বেরিয়ে পরল কানাডার উদ্দেশ্যে সেখানে পৌঁছে উইল দেখতে পেল যারা এই প্রতিজগিতায় অংশ নেবে তারা সবাই তাঁর চেয়ে বয়সে অনেক বড়।  তাঁর পর ও উইল এর উদ্দাম কমেনি। বরং সে ভয় না পেয়ে আরও উদ্দামি হয়ে উঠল। কিন্তু সেখানে উপস্থিত কেউ তাঁর উপর ভরসা করতে পারলনা কারন উইল নিত্তান্তই ছোট এবং এই প্রতিজগিতায় বরফের মধ্যে মারাত্তক প্রতিকুল অবস্থায় অনেক দিন পারি দিতে হবে। সবাই তাঁর উপর হাস্তে থাকল উইল এর কাছে অংশ গ্রহনের পর্যাপ্ত টাকাও ছিলনা।কিন্তু উপস্তিত একজন বাক্তি উইল এর উপর ভরসা করল। তাঁর নাম হারি কিংসলে। সে উইল কে অংশ গ্রহনের সব ব্যাবস্থা করে দিল এবং তাঁর মনে সাহস যোগাল। উইল এর আরও সহযোগী ছিল তাঁর কুকুর গুলো।

নির্দিষ্ট দিনে দৌড় প্রতিজগিতা শুরু হলে উইল এর উদ্দাম সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সে সবার সামনে এগিয়ে থাকে। অনেক প্রতিকুলতা আশে তাঁর সামনে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালায়। উইল এর অনেক কঠিন অসুখ হয় এবং খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে কিন্তু সে দমার পাত্র নয়। রাতদিন সে পরিশ্রম করে চলে। তাঁর লক্ষ ছিল স্থির। এবং জেকন ভাবে সে তাঁর লক্ষে পৌঁছে থামবে। এভাবে যাত্রা পথে আরও বাধার সম্মুখীন হতে হতেও সে সবার আগে ফিনিস লাইন এর কাছা কাছি পৌঁছে যায় কিন্তু তখন তাঁর মৃত প্রায় অবস্থা। সেই অবস্থায় ও উইল তাঁর মনে বিশ্বাস রাখে সে জিতবে। মনের জোরে উঠে আবার চলতে শুরু করে এবং সবার আগে , সবচেয়ে কম বয়সী বালক ই জিতে নেয় এই পুরস্কার এবং প্রমান করে দেয় যে প্রতিকুলতা, বাধা বিপত্তি কোন বড় বিষয় না যদি নিজের ভেতর আত্মবিশ্বাস থাকে।

————————————-

গল্পটি Albert Campbell এর জীবন কাহিনির উপর নির্মিত হলেও উইল স্টোনম্যান একটি কাল্পনিক চরিত্র । উপরের গল্পটি একটি সিনেমার থেকে সংগ্রহ করা।সিনেমার নামঃ Iron Will (1994)

 

স্বপ্ন সাদা কালো, স্বপ্ন রঙিন

0

এমন কাউকে পাওয়া যাবে না , যে সে কখনও স্বপ্ন দেখেন নি , কিংবা , কোন একটি সময়ের জন্য স্বপ্নের পিছে ছুটেন নি । আমরা সবাই কোন না কোন সময় কোন কোন স্বপ্নের পিছে হেটেছি , হয়তো এক এক জনের গন্তব্য এক একটা ছিলো কিংবা আছে , আমাদের পথ কিন্তু একটাই, আমরা একই পথের যাত্রী , স্বপ্ন পথের যাত্রী ।
আসলে স্বপ্ন কোনটা ? যেটা আমরা ঘুমের ঘোরে দেখি সেটা না যেটা জেগে দেখি ।
দুটাই স্বপ্ন . দুটাই অভিন্ন একটা সত্তা । আসলে আমরা ঘুমের ঘোরে তখনই স্বপ্ন দেখি যখন সারা দিনের কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের স্বপ্নের বিষয়টা নিয়ে ভেবে যাই । আর যখন ব্যস্ততার কারণে আমরা সেই স্বপ্নের জগৎটা দেখতে পাইনা ঠিক তখনই সারা দিনের কর্ম ব্যস্ততা কাটিয়ে রাতে ঘুমানোর পর আমরা সেই স্বপ্নের জগৎ এ চলে যাই।
সাধারণত স্বপ্ন সাদা কালো হয় , স্বপ্নের কোন রং হয় না , আর সেই রং নিয়ে ভাব বার সময় ও আমাদের নেই , আমরা শুধু ব্যস্ত থাকি কখন সেই স্বপ্নের জগৎ এ যাবো , কখন সেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিতে পারবো , স্বপ্ন বাস্ত্যব হওয়ার পর দেখা যাবে এটা কোন রং এ আছে । কিন্তু যখন আমরা পরিপূর্ণ ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যাই , মানে যখন আমাদের ঘুমের গভীরতা বেড়ে যায় , ঠিক তখনই আমরা দেখতে পাই , আমাদের সেই স্বপ্ন , একটা রঙ্গিন স্বপ্ন , আর তখন আমরা স্বপ্নের রং গুলো সর্ম্পকে ধারণা পাই ।
একটি স্বপ্নের জন্য সব কিছুর ই প্রয়োজন আছে , যেমন আপনার হাড় ভাঙ্গা প্ররিশ্রম ঠিক তেমনই আপনার বিশ্রাম । আর সব কিছুই যদি ঠিক রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় তাহলে আমরা আমাদের স্বপ্নগুলো কে বাস্তবে রূপ দিতে পারবো । আমরা দেখি , আমাদের অনেকেই আছে , যারা একটি স্বপ্ন বাস্ত্যবায়নের জন্য অন্য সব কিছু ভুলে যায় , সারাক্ষণ সেই স্বপ্নের পিছে সময় দেয় । কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন সেই স্বপ্নটা বাস্তব হয় না , তখন উনার অবস্থা যায় যায় প্রায় । সে আর স্বপ্ন দেখতে সাহস পায় না্ , এমন কি অন্য স্বপ্নবাজদের কে স্বপ্ন দেখতে নিষেধ করে । শুরু করে দেয় তার নানান যুক্তি যেই যুক্তির কাছে আপনি হার মানে যান কখন ও কখনও । এইভাবে ঝরে পড়ে প্রতিদিন হাজারো স্বপ্ন ।ভবঘুরে হয়ে যায় হাজারো স্বপ্নবাজ । কিন্তু একটি কথা মনে রাখবেন , সে পারে নাই তার মানে এই না , যে আপনি পারবেন না , তার কাছে অসম্ভব তার মানে এই নয় যে এই অসম্ভবটা আপনার জন্য , অসম্ভবটা শুধু মাত্র তার জন্য , আপনি পারবেন , খুব ভালো ভাবেই পারবেন ।
কিছু ভুল স্বপ্নের পক্ষে কাজ করে আবার কিছু ভুল স্বপ্নের বিপক্ষে কাজ করে , এইবার আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন ভুলটা করবেন ?

এইযে আমি প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি , স্বপ্নের পিছে ছুটছি, অনেকেই বলে আমি কি করি , আমি ঠিক কাজটা করি না , আবার অনেকেই বলে আমি একটা পাগল , যেকিনা জীবনটাকে নষ্ট করে দিচ্ছি , এই সব মন্তব্য তাদের , কিন্তু আমার না । আমি জানি ঠিক একদিন আমি আমার স্বপ্নের ভুবনে পা রাখবো , আমি আমার স্বপ্নের গালিচা দিয়ে হেটে যাবো , আমার স্বপ্নের দিকে , তাদের কথায় আমার কিছু যায় আসে না , কারণ তারা হয়তো ভাবে আমার স্বপ্ন অনেক বড় হওয়া, আর তাদের কাছে বড় হওয়া মানে বড় বাড়ি , বেশ কিছু গাড়ি , কিংবা বিশাল অর্থ ভান্ডার , হ্যাঁ তাদের ধারণা ঠিক আমি বড় হতে চাই , কিন্তু ওই টাকা পয়সা , বাড়ি গাড়ি দিয়ে নয় , খুব সাধারণ একজন বড় হওয়া , শূধুই বড় হওয়া , আমি বিশ্বাস করি তারা আমার স্বপ্ন সর্ম্পকে না জেনে মন্তব্য করেছে , তাতে কান দেওয়ার সময় আমার নাই । কারণ আমি আমার স্বপ্ন সম্পর্কে জানি , খুব ভালো করেই জানি ।

বি:দ্রা: যখনই মন খারাপ হবে ,তখনই বই নিয়ে বসে পড়বেন ,কারণ আমার বিশ্বাস যতই পড়বেন ততই আপনার স্বপ্ন পথে হাটতে সুবিধা হবে ।
স্বপ্ন বাচবে , আমরা বাচবো .স্বপ্ন দেখবো , স্বপ্ন দেখাবো , স্বপ্নে জগৎটাকে বাস্তবে রূপ দিবো ।

Hobson’s Choice একজন নিরীহ মুচির সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার গল্প

0

Hobson’s Choice ১৯৫৪ সালে নির্মিত একটি ব্রিটিশ রোমান্টিক কমেডি ছবি। এ ছবিটা আমার খুব ভাল লাগে কারণ এর নায়ক উইলিয়াম মোসপ আমার মতোই গোবেচারা নিরীহ মানুষ যে কিনা একসময় নিজের দোকান দিয়ে বসে। একটি নাটকের উপরে ভিত্তি করে এ ছবিটি তৈরি হয়েছে।

vlcsnap-2016-01-02-11h24m15s196

ছবির কাহিনী রানী ভিক্টোরিয়া আমলের ইংল্যাণ্ডের। হেনরি হোরেশিও হবসন (Charles Laughton) একজন সফল পাদুকা ব্যবসায়ী। ল্যাঙ্কাশায়ারে তার দোকান আছে। হবসন এর স্ত্রী মারা গিয়েছে এবং তিন মেয়ে আছে- ম্যাগি (Brenda De Banzie), অ্যালিস (Daphne Anderson) এবং ভিকি (Prunella Scales)। হবসন একজন মদ্যপ। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি মদের দোকানে কাটাতেন। ব্যবসায় তার নজর ছিল না। তার বড় মেয়ে ম্যাগিই দোকান এবং সংসার সামলাত। সে খুবই পরিশ্রমী এবং তার ব্যবসা বুদ্ধিও খুবই প্রখর। বোনদের মধ্যে তার বয়স ছিল বেশি এবং দেখতেও সে মোটেও সুন্দর ছিল না। তার মধ্যে মেয়েলি কোন ব্যাপার ছিল না। ম্যাগির ছিল দারুণ ব্যক্তিত্ব এবং প্রখর বাস্তববুদ্ধি।

vlcsnap-2016-01-02-11h23m56s359

সেই দোকানেরই একজন কর্মচারী উইলিয়াম মোসপ (John Mills)। থাকে সে এক বস্তিতে। উইলি ছিল অশিক্ষিত, নিরীহ, গোবেচারা গোছের। কিন্তু সে খুবই ভাল বুট জুতা বানাতে পারত। হবসন তাকে কম বেতন দিতেন এবং গাধার খাটনি খাটাতেন। উইলি চাইলে অন্য দোকানে ভাল বেতনে কাজ করতে পারত কিন্তু সে অন্য দোকানেও যায় না।

vlcsnap-2016-01-02-11h24m07s025

অ্যালিস এবং ভিকি বিয়ে করতে চায়। হবসনেরও এতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু ম্যাগি কে তিনি বিয়ে দিতে চান না। কারণ ম্যাগি তার দোকানের সবচেয়ে ভাল এবং মূল্যবান কর্মচারী।

vlcsnap-2016-01-02-11h24m58s450

ম্যাগির বয়স ৩০ হয়েছে। সে ভাল ছেলেও পাবে না। কিন্তু ম্যাগি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে সে বিয়ে করবে। আর করবে উইলি মোসপকে। সামাজিক অবস্থান, টাকা-পয়সা, কোন কিছুতেই উইলির মতো একজন সামান্য কর্মচারী কোনভাবেই ম্যাগির স্বামী হবার যোগ্য নয়। ম্যাগির বাকি দুই বোনও এটা মেনে নিতে পারে না। কিন্তু ম্যাগি তার সিদ্ধান্তে অটুট। সে উইলিকে পছন্দ করে কারণ উইলি গরিব, অশিক্ষিত হতে পারে কিন্তু সে সৎ এবং পরিশ্রমী। ম্যাগি উইলিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং বলে যে বিয়ের পরে তারা দুজনে মিলে পার্টনারশীপে একটি নতুন জুতার দোকান খুলবে।

হবসন ম্যাগির বিয়ের ব্যাপারটা জানার পর ম্যাগির সাথে ভীষণ দূর্ব্যবহার করেন। পরদিন উইলি দোকানে আসলে হবসন ম্যাগির সামনেই তাকে বেল্ট দিয়ে পেটান। তখনি ম্যাগি এবং উইলি এর দোকান থেকে বের হয়ে আসে। তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা নতুন দোকান খুলবে আর তারা হবসন এর দোকানে কাজ করবে না।

এভাবেই শুরু হলো তাদের নতুন যাত্রা। ওল্ডফিল্ড রোডে একটি ছোট বাড়ীতে ম্যাগি তাদের বাসা আর জুতার কারখানা চালু করে। ম্যাগির ব্যবসা বুদ্ধি এবং উইলির দক্ষতা এ দু’য়ে মিলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবসা দারুণ সফল হয়। আগে যেসব ক্রেতারা হবসন এর দোকানে যেত তারা সবাই এখন উইলি আর ম্যাগির কাছে যায়।

vlcsnap-2016-01-02-11h25m46s490

শুধু যে ব্যবসাই সফল হয় তা নয়। ম্যাগি উইলিকে পড়ালেখা শেখায়। ম্যাগির ভালবাসা এবং সমর্থন পেয়ে উইলির মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মায়। সে হয়ে ওঠে নতুন এক মানুষ।

vlcsnap-2016-01-02-11h24m43s745

এদিকে হবসন এর ব্যবসা লাটে উঠেছে। মদ খেয়ে খেয়ে হবসন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে আরেক দোকানদার কোর্টে মামলাও করে। ছবির শেষে দেখা যায়, সেই নিরীহ গোবেচারা উইলি হবসন এর সামনে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে হবসনকে পার্টনার হবার প্রস্তাব দিচ্ছে।

এ ছবিটি আমার ভাল লেগেছে নানা কারণে। প্রথমত, এ ছবির মূল তিন চরিত্রে যারা অভিনয় করেছেন। তারা দেখতে কেউ মোটেও সুন্দর বা আকর্ষণীয় নন কিন্তু তাদের প্রত্যেকের ছিল দারুণ অভিনয় প্রতিভা। চার্লস লটন ছিলেন চরিত্রাভিনেতা। ইংরেজিতে যাকে বলে Character actor। তার সময়কার সেরা অভিনেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ব্রেন্ডা ডি বেঞ্জি মোটা ছিলেন বলে নায়িকা হতে পারেন নি। তিনি তার জীবদ্দশায় মাত্র ১৭টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু তিনি দূর্দান্ত অভিনেত্রী ছিলেন। এ ছবিতে দুজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতার সাথে তাল মিলিয়ে দারুণ অভিনয় করেছেন। জন মিলসও সেরকম সুদর্শন অভিনেতা ছিলেন না। দেখতে খুব সাদামাটা কিন্তু বিপদের সময়ে সে পালিয়ে যায় না লড়াই করে। এ ধরণের হিরোর চরিত্র তিনি খুব ভাল করতে পারতেন।

দ্বিতীয়ত, উইলি এবং ম্যাগির যে সম্পর্ক, তাদের মধ্যে যে ভালবাসা এবং বোঝাপড়া। তারা একে অন্যের পরিপূরক। এ পৃথিবীতে সবাই সব কিছু পারে না। উইলি ব্যবসা পারে না কিন্তু ম্যাগি বোঝে আবার ম্যাগি জুতা বানাতে পারে না কিন্তু উইলি পারে। কয়েকজন মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে তখন অনেক কিছুই করা যায়।  কারণ বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ধরণের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা নিয়ে আসে এবং সেগুলো কাজে লাগান যায়।

সবশেষে উইলির মানসিকভাবে বেড়ে ওঠা। ম্যাগি উইলিকে পড়ালেখা শেখায়। উইলি আস্তে আস্তে ব্যবসা দেখতে শেখে এবং তাদের সব দেনা সে নিজে নিজে শোধ করে। ম্যাগির ভালবাসা এবং সমর্থন উইলিকে একজন নিরীহ গোবেচারা কর্মচারী থেকে এক আত্মবিশ্বাসী মানুষ এবং সফল ব্যবসায়ীতে পরিণত করে।  ছবির শেষ পর্যায়ে দেখা যায়, হবসন এর সাথে উইলি একজন দক্ষ ব্যবসায়ীর মতো দেন-দরবার করে। হবসনও তার দাবি মেনে নেয়। আসলে সঠিক দিক-নির্দেশনা এবং উৎসাহ মানুষকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

http://www.imdb.com/title/tt0047094/?ref_=nv_sr_1

জীবন নিয়ে অনুপ্রাণিত হওয়ার চলচ্চিত্র – The Diving Bell and the Butterfly

0

জীবন একটা উপহার , সেই উপহারটা খুব অল্প সময়ের জন্যে মানুষ উপভোগের সুযোগ পায় । সেই জীবনেও অনেক অম্ল-মধুর মুহূর্ত থাকে , কিছু মুহূর্ত আপনার জন্যে অবশ্যই ভালোলাগার অর্থবহতা আনবে আর কিছু মুহূর্ত কঠিনতম সময়ের সামনে আপনাকে উপনীত করবে । সেই মুহূর্তগুলো কখনই কারো কাম্য নয় , কিন্তু মাঝে মাঝে জীবনের সহজ-সরল গতিপথ রুঢ় হয়ে ওঠে । জানালা দিয়ে দেখা সামনের বাড়ি , জানালা দিয়ে দেখা সুবিশাল আকাশ সবকিছু মানুষের কাছে অনেক দূরের কোন বস্তু বলে মনে হয় । এই অবস্থান , এই গতিপথ তখন সেই দুর্ভাগা মানুষের জীবনের অর্থ বদলে দেয় । জীবন আসলে কি ? বেঁচে থাকাই কি শুধু জীবন নাকি তার চেয়ে বেশি কিছু ? জীবন যত ছোট , ঠিক তার থেকেও বিশাল গভীরতার গল্প নিয়ে জীবন ।

প্রজাপতির মতন রঙিন ডানা মেলার স্বপ্ন নিয়ে জীবনের পুরো সময়টা অতিবাহিত করা যায়না , জীবন একটা গন্তব্য আর সেই গন্তব্যে মানুষের সময়গুলো প্রতিনিয়ত পরিস্ফুটিত হয় ভালো ও মন্দ দুই দিক নিয়েই । ফ্রান্সের চলচ্চিত্র The Diving Bell and the Butterfly গল্প এর লেখক জিন ডোমেনিক বউবি’র আত্নজীবনী ঘিরে । ব্যস্ততম ফ্রান্সের বিখ্যাত “ইলি ম্যাগাজিন” এর একজন সম্পাদক ছিলেন জিন ডোমেনিক বউবি । কিন্তু তার ব্যস্তময় জীবনে একদিন ছন্দপতন ঘটে ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরের আট তারিখে । ছেলেকে নিয়ে গাড়ি চালানোর মধ্যেই নিজের মাঝে হঠাৎ কিছু পরিবর্তন শুরু হয় তার এবং কিছুক্ষণের মাঝেই সাংবাদিক জিন ডোমেনিক বউবি গাড়ি থামিয়ে ফেলেন । তিন সন্তান ও ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে জীবনের সুন্দরতম মুহূর্তগুলো কাটানোর সময়ে গাড়িতেই স্ট্রোক করলেন এবং হাসপাতালে কোমা অবস্থা থেকে যখন তার জ্ঞান ফিরল এর মাঝে পেরিয়ে গেছে জীবন থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ ।

জিন ডোমেনিক বউবি হাসপাতালের বেডে নিজেকে “ লকড ইন সিনড্রোম” অবস্থায় আবিস্কার করলেন । এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে তার সম্পূর্ণ শরীর প্যারালাইজড হয়ে যায় । শুধু মাঝে মাঝে হালকা ঠোঁট নাড়াতে পারে কিন্তু কথা বলতে পারেনা কিংবা ইশারা দিতে পারেনা । শরীরে অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে শুধু তার বাম চোখ ঠিক মতন কাজ করছে , ডান চোখে সমস্যা হওয়ার কারণে ডাক্তাররা ডান চোখ সেলাই করে বন্ধ করে দেন । এরকম মুহূর্তে একজন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার কোন ইচ্ছে কিংবা কোন অনুপ্রেরণা কাজ করেনা , কিন্তু এই হাসপাতালের বেডে শুয়েই জিন ডোমেনিক বউবি লিখে ফেললেন নার্সের সহযোগিতায় তার আত্নজীবনী বই “Le scaphandre et le papillon” । সাংবাদিক জিন ডোমেনিক বউবি তার চোখের পাতা একবার বন্ধ করে একবার খুলে, আর এ ইশারা অনুসরণ করেই নার্স লিখলো তার জীবনী নিয়ে বই । আর তার জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্র The Diving Bell and the Butterfly । শুধুমাত্র একটি চোখ দিয়ে অভিনেতা হাসপাতালের জীবনের সমস্ত অংশটুকুর চমৎকার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন । অসাধারণ কাহিনীর এ ছবিটি গোল্ডেন গ্লোব, কান চলচ্চিত্র উৎসবের মত অসংখ্য চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পায়। ফ্রেন্স ভাষায় নির্মিত ২০০৭ সালে মুক্ত পাওয়া চলচ্চিত্রটিতে প্রথমে জনিডেপ এর অভিনয়ের কথা থাকলেও জনিডেপ শিডিউলের জন্যে অভিনয় করতে না পারায় পরবর্তীতে এতে মূল চরিত্রে অভিনয় করে ম্যাথিউ আমালরিক । অসাধারণ নির্মাণ , উপস্থাপন, একটা শব্দ বলতে দুই মিনিটের কাছাকাছি সময় ধরে চোখের পাতা নড়া , ক্যামেরার এঙ্গেলগুলো অনেকটা হৃদয়াবেগে জর্জরিত করবে দর্শকদের ।

চলচ্চিত্রটি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই দর্শকদের হৃদয়ে ধাক্কা লাগার মতন বিষয় ঘটবে । চলচ্চিত্রের শুরুতে জিন ডোমেনিক বউবি’র সেই বাম চোখ দিয়ে হাসপাতালের জীবনের সময়টাকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী করেন এর নির্মাতা জুলিয়ান স্যানাবেল । বাম চোখ দিয়ে জিন ডোমেনিক বউবি নিজের আত্নজীবনীর গল্প বলতে থাকেন নার্সকে । নিজের ভালো লাগা মুহূর্তগুলো ফ্ল্যাশব্যাক হতে থাকে কল্পনার ফ্রেমে যা চলচ্চিত্রের পর্দাজুড়ে দর্শকদের ভাবনা করার অবকাশ দিবে । নার্স যখন একেকটা অক্ষর জিন ডোমেনিক বউবি’কে দেখায় আর সে যখন অপেক্ষায় থাকে কখন তার মনের মধ্যে থাকা অক্ষর নার্স তাকে দেখাবে, সেইরকম মুহূর্তে বুকের মধ্যে একটা হু হু আর্তনাদ ঘুরে বেড়াবে । জীবনটা আসলে কি ? পর্দার ফ্রেমে দেখা সময়গুলোতে মনে হবে বেঁচে থাকাটা কতটা একজন মানুষের কাছে আকাংখিত হতে পারে ।

একেকটা অক্ষরের জন্যে জিন ডোমেনিক বউবি’র অপেক্ষা দেখে খুব খারাপ লাগবে । জিন ডোমেনিক বউবি’র অপেক্ষা কখন তার জীবনী লেখার অক্ষর আসবে , আর সে একবার তার চোখের পাতা ফেলবে । কারো সাথেই কোন কথা না বলতে পারার আক্ষেপ যেন জীবনের অনেক ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে নিয়ে যাবে । ৯২ বছর বয়সী অসুস্থ বাবার সাথে ছেলের কথা বলতে না পারার দৃশ্য এবং ছেলে ও বাবার টেলিফোনের দুই প্রান্তে চোখ দিয়ে গড়িয়ে যাওয়া কান্নাজল জীবনটা অদ্ভুত এক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দেয় চলচ্চিত্রে । বাবা কথা বলে কাঁদে , আর ছেলে যখন চোখের ইশারায় বলে কেঁদোনা বাবা ঠিক তখন এক হু হু হাহাকার একবার হলেও আপনাকে গ্রাস করতে বাধ্য করবে ।

জীবনের যাবতীয় সংজ্ঞা পাল্টে যাওয়া একশ বারো মিনিটের এ চলচ্চিত্রে বেঁচে থাকার জন্যে আকুতি , নিজের গল্পগুলো বলে যাওয়ার চেষ্টা দেখে অনায়াসে কিছু প্রশ্ন চলে আসতেই পারে – তাহলো বেঁচে থাকাটা অনেক আনন্দের , সুস্থ থেকে বেঁচে থাকা এবং পৃথিবীটার সৌন্দর্য অবলোকন , এর আকাশ – বাতাস দেখা , প্রতিটি মুহূর্তের যে স্বাদ তার থেকে বড় জীবনে কিছু হতে পারেনা । শুধুমাত্র হাসপাতালের জানালার ওইপাশের জীবনটা একরকম আর বেডে শোয়া জিন ডোমেনিক বউবি’র জীবনটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ।

জীবনে বেঁচে থাকার প্রেরণা নিয়ে গল্প যখন বাস্তব জীবনের গল্প হয় তখন ভাবতেই পারে একজন মানুষ জীবনটা চমৎকার একটা উপহার স্রষ্টার । প্রতিটা মুহূর্ত ভালো কিছু করার , ভালোভাবে উপভোগ করার । জীবন একটাই , মরে গেলে কিচ্ছু থাকবেনা । কাদাজল মাখতে পারবেননা আপনি গায়ে , ইচ্ছে করলে ঘুরতে পারবেন না , ভালোবাসার মানুষকে কাছে পাবেন না । ইচ্ছে হলে কথা বলতে পারবেন না, কাউকে ভালোবাসতে পারবেন না কিংবা ভালোবাসি এ কথাটিও বলতেও পারবেন না । জীবন অতি ক্ষুদ্র এবং আমরা এই ক্ষুদ্র সময়টার ভেতর ছুটছি ।

-সংগৃহীত

মূল লেখার লিংকঃ Celluloid Diary । সেলুলয়েড ডায়েরী

সমালোচনাকে সাদরে গ্রহন করুন কিন্তু অংশগ্রহন নয়

0

নীরবতা যে সব সময় সম্মতি জানানো বা দূর্বলতা প্রমান করে তা কিন্তু নয়। কখনো কখনো নিজের লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে হয়। লক্ষ যখন অনেক বড়, তখন পারিপার্শিকতার প্রভাব থেকে নিজেকে একটু আলাদা রাখাই ভালো। কারন এর ফলে আপনি নিজেকে নিজের কাজের প্রতি আর গন্তব্যে পৌছানোর ইচ্ছা শক্তির প্রতি সুদৃঢ় রাখতে পারবেন।

বিতর্কে জড়ানো আসলে নিজের মূল্যবান সময় অহেতুক অপচয় করা ছাড়া আর কিছুই নয়। এতে আপনি দুই ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন।
১. আপনার মূল্যবান সময় অপচয় হবে যে সময়টুকু আপনি ভালো কাজে ব্যয় করতে পারতেন এবং নিজের কাজকে অনেক খানি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন।

২. আপনি অন্যের বাজে মন্তব্যের কারনে হতাশ হতে পারেন।

তবে আপনাকে স্বেচ্ছাচারী হতে বলছি না। আপনার উদ্দেশ্য যদি সৎ এবং কাজ সম্ভাবনাময় হয়, আপনি কিছু সময়ের জন্য ভুলে যান আপনার চারপাশে কি ঘটছে। এটা আপনার জন্য আশার বানী নিয়ে আসতে পারে।

নিজেকে সংযত রাখা খুব সহজ কাজ নয়। এক ধরনের সাধনা বলা যেতে পারে। তবে অন্যের জন্য না হলেও নিজের সুফল আর সুদিনের কথা যদি আপনি চিন্তা করেন তাহলে এই একটা গুন আপনাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

নিজের উপর বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যান, পাছে যে যাই বলুক না কেন, আপনি শতভাগ সফল না হতে পারলেও অনেক কিছুই বদলে যাবে এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন।

সমালোচনাকে সাদরে গ্রহন করুন কিন্তু অংশগ্রহন নয়। কেন বলছি?
-সমালোচনা মাদকের মত হয়। একবার যদি আসক্ত হয়ে যান তাহলে তা ছাড়তে আপনার ততোটাই বেগ পেতে হবে যতটা একজন মাদকসেবীকে মাদক ছাড়তে পেতে হয়।

সাদরে গ্রহন করবেন এজন্যই, সমালোচনা সব সময়ই যে নেতিবাচক হয় তা নয়। আপনারও কিছু ভুল থাকতে পারে, সেগুলো আপনার দৃষ্টিগোচর হয়ে থাকলে নিজেকে সংশোধন করে নেওয়ার একটা সুযোগ তৈরী হবে।

সমালোচকদের গুরুত্ব দিন, কিন্তু সবাইকে নয়। সেই সব সমালোচকদের গুরুত্ব দিন যারা আপনার সম্পর্কে ভালো ভাবে জেনে এবং বুঝে করছে। ধারনার উপরে ভিত্তি করে যারা সমালোচনা করে তাদের ছায়া মাড়ানো থেকে সর্বদা দূরে থাকুন।

আর একটা বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই, আপনার সমালোচনা করার অধিকার তারই আছে যে আপনার প্রশংসা করার যোগ্যতা রাখে। বাকি সব তুচ্ছ। গুরুত্ব তাদেরকে দিন যারা আপনাকে খুব কাছ থেকে দেখেছে, জেনেছে, আপনার সঙ্গে মিশেছে। তাদের প্রশংসা হোক কিংবা সমালোচনা দুটোই আপনার জন্য আশীর্বাদ।

সব শেষে অনুপ্রেরনাই কাজের শক্তি, নিজে অনুপ্রানিত হই অন্যকে অনুপ্রানিত করি, সুখী সমৃদ্ধ সমাজ এবং জাতি গঠনে অংশগ্রহন করি। আশা করি জয় একদিন আমাদের হবেই।

ড: বিজয়লক্ষী দেশমানে: সব্জি বিক্রেতা থেকে ভারতের প্রথম সারির একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ

0

 

উপরের ছবির এ মহিলাটিকে প্রথম দেখাতেই এর সম্পর্কে কারো খুব একটা ভাল ধারণা হবে না। ইনি দেখতে সাধারণ হতে পারেন কিন্তু এর পরিচয় ইনি ভারতের প্রথম সারির একজন  অঙ্কোলজিস্ট।  অঙ্কোলজিস্ট হচ্ছেন যিনি ক্যান্সারের উপরে বিশষজ্ঞ। এ মহিলার নাম ড: বিজয়লক্ষী দেশমানে।

আপনারা সবাই বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্ণর ড: আতিউর রহমান এর কথা জানেন। একজন সামান্য কৃষক পরিবারের ছেলে টাকার অভাবে কিনা যার পড়াশুনাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল তিনি নিজের চেষ্টা এবং পরিশ্রম এর জোরে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিজয়লক্ষী দেশমানের গল্পটাও অনেকটা ড: আতিউর রহমানের মতোই।

“ভারতের সবচেয়ে নিম্নবর্ণের একটি হিন্দু সম্প্রদায়ে আমার জন্ম সম্প্রদায়ের লোকেরা অন্যের ব্যবহার করা স্যান্ডেল সেলাই করে পরে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন আমার বাবাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল তিনি জনমানুষের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন যদিও তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না তিনি তার সম্প্রদায়ের পেশা গ্রহণ না করে নিজে নিজেই কাজ শিখেছেন”

কথাগুলো বিজয়লক্ষীর। ১৯৫৫ সালে ভারতের কর্ণাটক প্রদেশের গুলবর্গা শহরের এক বস্তিতে বিজয়লক্ষীর জন্ম। তার বাবা বাবুরাও দেশমানে নিজের চেষ্টায় মারাঠি, হিন্দী, কান্নাড়া, এবং ইংরেজী ভাষা আয়ত্ত করেন। তিনি একটি কারখানায় কাজ করতেন এবং নিজ যোগ্যতায় আস্তে আস্তে উন্নতি করে ভাল পদ পেয়েছিলেন। বিজয়লক্ষীর মা রত্নাম্মা ছিলেন একজন সব্জি বিক্রেতা।স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর বোন বিজয়লক্ষী পণ্ডিত যিনি জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তাঁর নামানুসারে বিজয়লক্ষী নাম রাখা হয়। ছয় বোন এক ভাইয়ের বিশাল সংসার সামলাতে তার বাবা-মাকে হিমশিম খেতে হতো। বিজয়লক্ষীর মায়ের একটি ছোট সব্জির দোকান ছিল। তিনি আর তার ভাই তার মাকে সাহায্য করতে মাথায় করে সব্জি বয়ে নিয়ে যেতেন।

বিজয়লক্ষীর মা তাকে পড়াশুনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার উৎসাহ দিতেন। তার মেডিকেলের ফি যোগানোর মতো সামর্থ্য তার বাবা-মায়ের ছিল না। তার মা নিজের মঙ্গলসূত্র বন্ধক রেখে বিজয়লক্ষীর মেডিকেল কলেজের ভর্তি ফি দিয়েছেন।

“তখনকার দিনে আমাদের সম্প্রদায়ে কেবল ছেলেরাই বিদ্যালয়ে যেতে পারত কিন্তু আমার বাবা আমাদের সব ভাইবোনকে স্কুলে পাঠিয়েছেন তখনকার দিনে একটি নিম্নবর্ণের হিন্দু পরিবারের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাওয়াটা কেউ কল্পনাও করতে পারত না আমাদের স্বপ্ন ছিল জীবনে ভাল একটা কিছু করা।”

১৯৮০ সালে কর্ণাটক মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৮৩ সালে বেল্লারি (Bellary) থেকে এমএস সমাপ্ত করেন। এরপরে তিনি স্তন ক্যান্সারের উপরে বিশেষজ্ঞ হন। মেডিকেল কলেজ এর শুরুটা বিজয়লক্ষীর জন্যে বেশ কঠিন ছিল। প্রথম বর্ষে তিনি ফেইল করেন। কারণ তিনি পড়াশুনা করে এসেছিলেন কান্নাড়া ভাষায় কিন্তু মেডিকেল কলেজে ইংরেজীতে সবকিছু করতে হতো। এ ব্যাপারে তার অধ্যাপকরা তাকে ভীষণভাবে সাহায্য করেন। তাদের সাহায্য এবং নিজের পরিশ্রমের জোরে বিজয়লক্ষী দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই ভাল ফলাফল করতে থাকেন। তিনি মেডিকেল কলেজে প্রথম শ্রেণীতে পাস করেন। যখন তার বাসায় এ খবর পৌছাল তার পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল।

বিজয়লক্ষী সার্জারিতে এম এস করার পরে কিদওয়াই ইন্সটিটিউট অব অঙ্কোলজির সার্জিকাল অঙ্কোলজি বিভাগে একজন সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে যোগদান করেন। ড: বিজয়লক্ষী বিয়ে করেন নি। সারাজীবন পড়াশুনা আর গবেষণা করেছেন। তার এ নিরলস পরিশ্রমের ফলে তিনি ভারতের প্রথম সারির একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হয়েছেন। তিনি কর্ণাটক ক্যান্সার সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার।

সম্প্রতি ড: বিজয়লক্ষী ব্যাঙ্গালোরের কিদওয়াই মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউট অব অঙ্কোলজি এর সার্জিকাল অঙ্কোলজি বিভাগের প্রধানের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাই বলে তিনি বসে নেই।তার কাজ কেবল অর্ধেক শেষ হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত আছেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে মাসের ১৫ দিন এধরণের কল্যাণমূলক কাজ করবেন এবং বাকী ১৫ দিন বিনা-পয়সায় গরীব দুঃস্থদের সেবা-শুশ্রূষা করবেন।

লেখক:

এস এম মেহদী হাসান

সূত্র:

ইয়োর স্টোরি

দ্যা বেটার ইন্ডিয়া

টাইমস অব ইন্ডিয়া

তাসনূভা শামীম ফাউন্ডেশন ও প্রতিবন্ধি সন্তানের পিতামাতা

0
tasnuva shamim

তাসনূভা শামীম ফাউন্ডেশন ও একজন প্রতিবন্ধি সন্তানের পিতামাতা

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

শামীম দম্পতি
শামীম দম্পতি

সাগর আহমেদ শামীম বাংলাদেশের হবিগঞ্জ শহরে মাহমুদাবাদ এলাকায় তার বাড়ি, তিনি নেদারল্যান্ড থেকে ইন্টারন্যাশনাল টুরিজম ম্যানেজমেন্ট এন্ড কনসালটেন্সি ও বিবিএ কম্পিলিট করেছেন ২০০৩ সালে। তার স্ত্রী এডভোকেট লাভলী ইয়াসমিনকে নিয়ে আয়ারল্যান্ড প্রবাসী। তার স্ত্রীও হবিগঞ্জের কৃতিসন্তান তখনকার সময়ে এসএসসিতে স্ট্যান্ড ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে এল্‌লেএম শেষ করে নেদারল্যান্ড এর Utrecht University থেকে Human Rights এর উপর মাস্টার্স করেছেন। দুজনেই নরম মনের মানুষ। মানুষের সাথে সহজে মিশে যান পরকে আপন করার এক সহজাত ক্ষমতা আছে তাদের। শামীম দস্পতির ফুটে ফুটে দুটো কন্যা সন্তান সারাদিন আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে তাদের ছোট ফ্লাটটিকে মাতিয়ে রাখতো। দিনশেষে কাজের অবকাশে শামীমভাই দুটো মেয়ের মুখ দেখে শান্তি পেতেন। এমন অবস্থায় তৃতীয় সন্তানের মুখ দেখতে চলেছেন শামীম দম্পতি। সন্তান ছেলে কি মেয়ে হবে এই নিয়ে তাদের মাথাব্যাথা ছিলোনা মোটেই। সুস্থ্য সন্তানের আশাই ছিলো অন্যসব বাবা মার মতো। ২০০৭ সালের জানুয়ারী মাসে ডাবলিনের হলস্ট্রিট হাসপাতালে মিসেস শামীম আরো দুটো কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন। তারা জানতেন তাদের দুই সন্তান একই সাথে হলস্ট্রিটের জনসংখ্যায় যোগ হচ্ছেন। নাম ধামও মোটামোটি ঠিক করা ছিলো।

11139546_1066517973364457_1013738987_n

একদিন হঠাৎ হসপিটালে চেকআপ করতে গেলে ডাক্তার জানালো দুটি বাচ্চার মধ্যে একটি বাচ্চার হার্টবিট পাওয়া যাচ্চেনা। চেকআপ করে দেখা গেলো একটা বাচ্চা মাতৃগর্ভেই মারা গেছে। আর অন্য বাচ্চাটি বাঁচাতে হলে এখনি অপারেশন করতে হবে।অপারেশান এর পর দুটি বাচ্চা পৃথিবীর আলোতে আসলো একটি বাচ্চা মৃত অন্যটি জীবিত।নিজের চোখের আলো নিভিয়ে সে হারিয়ে গেলো সে নিকষ অন্ধকারে যেখানে গেলে স্রষ্টার সাথে মিলিত হওয়া যায়।তার সহযাত্রী তাসনূভাকে ছেড়ে ফাতিমা একাই চলে গেলো না ফেরার গন্তব্য। মৃত বাচ্চাটির নাম রাখা হলো ফাতিমা শামীম আর অন্য বাচ্চাটির নাম তাশনুভা শামীম।

তারপর বুকভরা শ্বাস নিয়ে দুনিয়ার বিছানায় পা রাখলো তাসনূভা শামীম। তাসনূভা শামীম জন্মের পর সুস্থ্য ছিলো কিন্তু ৫ দিন পর সমস্যা ধরা পড়ে।ডাক্তারগণ তাদের চেষ্টা চালিয়ে গেলেন। শিশুটির মাতা পিতা পরম করুণাময়ের করুণা ভিক্ষে করলেন। শিশুটি বেচে বর্তে উঠলো। খুব ধীর গতিতে বেড়ে উঠতে লাগলো। কিন্তু আর সুস্থ্য হলো না। হ্যাঁ মানসিক ও শারীরিক ভাবে এক প্রতিবন্ধি সন্তানের বাবা মা হলেন তারা। শুরু হলো আরেক অনন্ত পথচলা। আকাশ ভেঙ্গে পড়লো মাথায়? না পড়েনি, স্বামী স্ত্রী দুজনেই শিক্ষিত সচেতন ও ধার্মিক। এই নিষ্পাপ শিশুটিকে তারা রবের পক্ষ থেকে এক উপহার হিসেবে গ্রহণ করলেন। তারপর দিন মাস বছর যায়। তাসনূভা ঠিক একই রকম, না সে কোনো কথা বলতে পারে, না ক্ষুধা তৃষ্ণায় কোনো অনূভূতি ব্যক্ত করতে পারে, না নিজে কিছু খেতে বা পান করতে পারে। আজ তার বয়স 9 বছর হতে চলল। এখনো ৬ মাসের শিশুর মতোই হুইলচেয়ারে বসে থাকে।

বিদ্যূষী মাতা আর ধৈর্যশীল পিতা সারাক্ষণ তার দেখভাল করেন। তাসনুভা তার পিতাকে এক নতুন পৃথিবীর সন্ধান দিলো। শামীম ভাই অনুভব করলেন প্রতিবন্ধি মানুষদের কষ্ট আর প্রতিবন্ধি সন্তানের পিতামাতাদের মনোবেদনা। তিনি গঠন করলেন তাসনুভা শামীম ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডে দু জায়গায় আজ টিএসএফ বিধিবদ্ধ এক চ্যারিটি সংস্থা। তাসনুভা শামীম ফাউন্ডেশনের অধীনে হবিগঞ্জে শত শত মানুষকে সাহায্য করছেন শামীম ভাই। এ যাবত প্রায় শতাধিক হুইলচেয়ার ও সাদাছড়ি বিতরণ ,হাজারো বস্ত্র, ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খাবার, শিক্ষিত দরিদ্রদের মাঝে কোরআন বিতরণ, এবং এতিমখানা ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন হবিগঞ্জে।

সেলাই মেশিন সেলাই প্রশিক্ষণ খাবার বিতরণ শিক্ষা প্রশিক্ষণ, চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য, এসবতো সারা বছরই চলছে। একসময় মনে হলো এভাবে সারা বছর এই সব প্রতিবন্ধি লোকদের সাহায্য দিয়ে তাদের করুনার পাত্র বানানোর কোনো মানে নেই। তাদের প্রশিক্ষণ, কর্মপ্রেরণা, কাজ দেয়া, চিকিৎসা এবং পূর্নবাসন এর জন্য স্থঅয়ী ও অবকাঠামো সুবিধা প্রয়োজন। তার জন্য প্রথমে প্রয়োজন ভূমি তারপর অর্থ ও অন্যান্য। হবিগঞ্জে কাজের জন্য ছোট একটা টিম করা হলো, তাদেরকে পরামর্শ দেয়ার জন্য এবং প্রশিক্ষণের জন্য আমিও (জাহাঙ্গীর আলম শোভন) মাঝে মধ্যে যাই। শামীমভাই কাজ চলতে থাকলো, কিন্তু নিজের গন্ডির বাইরের লোকদের সহযোগিতা যা পাওয়া যায় তা খুব সীমিত। সবচে বড়ো কথা একটা বড়ো জমি দরকার, সেটা পাওয়া যেমন কঠিন তেমনি কিনতে গেলে বিশাল আর্থিক যোগানের প্রয়োজন। এক পর্যায়ে সাগর আহমেদ শামীশ ভাই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি এই কাজের জন্য একটি উপযুক্ত জায়গায় ব্যবস্থা করবেন যেখানে তাসনুভা শামীশ প্রতিবন্ধি পূর্নবাসন কেন্দ্র নির্মিত হবে। এবং এজন্য তিনি নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তার দাদা হাজী আবদুর রহিম এলাকার একজন প্রভাবশালী লোক ছিলেন, জমিজমাও ছিলো বেশ, ছোটবেলা থেকে শামীমভাই দাদার কাছে কাছে থাকতেন, দাদার খেদমত করতেন, দাদাও তাকে একটু বেশী ভালোবসতেন, সেজন্য তিনি নাতিকে আলাদা করে একটি জমি দিয়ে যান, যা দিয়ে তিনি প্রয়োজনে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারেন।

কিন্তু সৌভাগ্যবশত শামীম সাহেব বিদেশে স্কলারশীপের মাধ্যমে লেখাপড়া করায় জমিটি থেকে যায়। শেষতক দাদার দানকরা জমি বিক্রি করে তিনি অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে চান।

এই সেই লক্ষ্য তার বাবাকে অনুরোধ করে যে দাদার দেয়া এই জমিটা ভালো দামে বিক্রি করা গেলে অন্যত্র একটা বড়োজমি কেনা যেতে পারে প্রতিবন্ধি পুর্ণবাসন কেন্দ্রের জন্য।

০০০০০০০০০০০০০০০০০০_n

তখন তিনি দেশে, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাষক জয়নাল আবেদীনকে প্রধান অতিথি করে গত বছর 3 ডিসেম্বর প্রতিবন্ধি দিবসে সাদাছড়ি. হুইলচেয়ার, খাবার ও কোরআন বিতরনের এক কর্মসূচেী দেয়া হলো, হবিগঞ্জের বিশিষ্ঠ ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ও হ্যাঁ আরেকটা কথা বলা হয়নি, শামীম ভাইয়ের বাসার পাশে হবিগঞ্জ শহরে 26 কাঠা জমির সন্ধান পাওয়া গেলো যেটা একটা পরিত্যক্ত ডোবা। এই ডোবাটি সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আগে থেকেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সত্যি সত্যি পাবেন অতোটা আশাবাদী ছিলেন না। সেজন্য নিজেই সবকিছু দেবার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু গত 2014 সালের 3 ডিসেম্বর সেদিন আমি নিজেও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ছিলাম। জেলা প্রশাসক সেদিন মৌখিক ভাবে জমিটি তাসনূভা শামীম ফাউন্ডেশনকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেয়ার ঘোষণা দিলেন।অল্প কিছুদিনের মধ্যে হয়তো কাগজপত্র হাতে পেয়ে যাবেন।

12388325_1217098204973099_352108766_n

হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন, এডিসি বিভিন্ন দলের নেতারা করতালী দিয়ে এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানালেন। পরে কয়েক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজী পক্রিয়া এবং মাটি ভরাটের কাজ করা হয়েছে। আশা করা যায় কিছু দিনের মধ্যে সেখানে স্থাপনা দাড়িয়ে যাবে। ইতোমধ্যে একটি ভবনের কাজ শুরু হয়ে গেছে সেখানে এতিমরা থাকা ও পড়ার সুযোগ, আর প্রতিবন্দিদের জন্য ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা চলছে। দ্বিতীয় ভবন হয়ে গেলে প্রতিবন্ধিদের পূর্নবাসন ও ট্রেনিং শুরু হবে। একটি সুন্দর লে আউট তৈরী করা হয়েছে। এখানে থাকবে টিএসএফ এর কার্যালয়, প্রশিক্ষণার্থী প্রতিবন্ধিদের জন্য থাকা খাওয়া, তাদের উৎপাদিত পন্য বিক্রির একটা শোরুম, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, নার্সারি, একটি স্ব্াস্থ্যকেন্দ্র ফিজিওথেরাপি সুবিধা, স্কুল, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। খুব কাছ থেকে আমি এই পক্রিয়া শামীম ভাইয়ের টেনশান, পাওয়া না পাওয়ার বেদনা চূড়ান্ত হাসি সব দেখেছি। দেখেছি তার সামাজিকতা ও নানা কর্মসূচী। তাসনূভার জন্ম ও প্রতিদ্ধন্ধি হওয়া আজ শত শত প্রতিবন্ধির জন্য আর্শীবাদ হয়ে গেলো। একটি দু:খের গল্প আজ একটি সাফল্যের গল্পে রুপ নিলো। চোখের সামনে একজন পিতা হয়েগেলেন হাজারো প্রতিবন্ধির পিতা। এখনো শামীম ভাই দেশে আসেন প্রতি বছর যারা বলেন পিতামাতার পাপের কারণে সন্তান প্রতিবন্ধি হয়, আমি তাদের মুখে ঝামা ঘষে দিতে পারি। কারণ তাসনূভা জন্মের আগেও শামীম ভাই ভীষন ভালোমানুষ ছিলেন এবং গরীব দূ:খীদের সাহায্য করতেন। এখনো দেশে আসলে রাস্তায় খোড়া ভিক্ষুকের সাথে কথা বলতে তিনি রাস্তায় বসে পড়েন, অন্ধবুড়োকে বুকে টেনে নিন, মাজুর কিশোরের মুখে নিজহাতে খাবার তুলে দেন, পোলিও আক্রান্ত ময়লা কাাঁদামাখা হতদরিদ্র পরিবারের শিশুকে কোলোনিয়ে নিজে কাঁদা মাখিামাখি হয়ে যান।তিনি সারাজীবন অসহায় মানুষের সেবা করতে চান। এটা কোনো নেতার ব্কতব্য নয় এটা একজন নিরলোভ মানুষের আন্তরিক ইচ্চা। আমি দেখেছি একজন বাবা কিভোবে প্রতিবন্ধি সন্তানকে যত্নও লালন পালন করেন।

এভাবে একজন সাধারণ মানুষ একজন ত্রাতা হয়ে দেখা দিয়েছে অসহায় দরিদ্র ও প্রতিবন্ধি মানুষদের জন্য। যেখানে একজন মানুষ হতাশ হয়, জীবনের গতি হারিয়ে ফেলে, সেখান একজন মানুষ সমাজের জন্য দাড়িয়ে গেলে এবং নিজের জানমাল দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

সাগর আহমেদ শামীম:

https://www.facebook.com/profile.php?id=100000187943665