মঙ্গলবার, আগস্ট ২২, ২০১৭

Inspiration

Inspiration

স্বপ্ন বাণী

0

বেশ কয়েকদিন যাবৎ নিখিলের মন ভালো যাচ্ছে না । চারদিক শুধু না পাওয়ার আর্তনাদ আর হাহাকার । জীবন কে আজ বোঝা মনে হচ্ছে মনে হচ্ছে এই বোঝা টানা আর সম্ভব না । কি করবে কিভাবে করবে তার কোন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না । মনে হচ্ছে এইবার এই জীবন থেকে মুক্তি পেলেই সে বাচে । যে জীবনে সুখের দেখা মেলে না যে জীবনে একটি দিন ও সে শান্তির ঘুম দিতে পারেনি , এমন জীবন রেখে আর কি লাভ ? আর বেচে থেকতো কিছু করতে পারে নাই তার পরিবারের জন্য । সে না থাকলে তার পরিবারে কোন ক্ষতি নেই বরং লাভ ই আছে , কারণ তার বরণ পোষণের পিছে যে খরচ টা হয় অন্তোত তাতো হবে না ?

ছোট বোন আর নিখিল , বাবা মিজান সাহেব আগে একটা কোম্পানিতে চাকুরি করতো , মা সংসারের দেখা শুনা করতো । বাবাই ছিলো পরিবারের একমাত্র উপার্জন কারী । নিখিল মাস্টার্স শেষ করে বেকার চাকুরির জন্য চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে কিন্তু মামা খালূর জোর না থাকায় তা হচ্ছে না । ব্যবসার চেষ্টাও করেছে অনেকবার কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ । দুর্ঘটনায় এক পা হারিয়ে মিজান সাহেব ঘরে বসে পড়েছেন । চাকুরির সময় কিছু টাকা জমিয়েছিলো এখন সেই টাকা থেকেই অল্প অল্প করে রেবেকা বেগম ( মানে নিখিল এর মা ) কোন ভাবে সংসার চালাচ্ছে । টাকার অভাবে ছোট বোন টুম্পার পড়ালেখাও বন্ধ প্রায় । এ্ অবস্থায় পরিবারের সব দায়িত্ব নিখিলের । কিন্তু কি করবে সে কিছুই তো করতে পারছে না , না চাকুরি না ব্যবসা । আর প্রতিদিন মিথ্যা আশ্বাস দিতেও আর মন চাইছে না । মনে হচ্ছে সব দরজা বন্ধ এখন মরে যাওয়াই শ্রেয়ো ।

***

উচু পাহাড়ের চুড়ায় বসে  নিখিল ফেলে আসা দিন গুলো নিয়ে ভাবছে , অনেক আশা করে তাকে পড়ানো হয়েছে নামী কলেজে । যাতে পড়া শেষ করেই সংসারের হাল ধরতে পারে । কিন্তু পড়ালেখা শেষ আজ পাঁচ বছর কিন্তু কিছুই করতে পারলো না । পরিবারের জন্য । যে পরিবার তাকে এতো কষ্টো করে তাকে বড় করেছে কিন্তু সে কি দিলো তার বিনিময়ে ? এই সব চিন্তা করতে করতে নিখিল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো তার জীবনের ইতি টেনে নিবে । আজকেই শেষ । দু হাত প্রসারিত করে চিৎকার করে বলতে শুরু করলো গুড বাই পৃথিবী গুড বাই । এই বলে পাহাড়ের চুড়া থেকে লাপ দিবে ঠিক এমন সময় কেউ একজন পিছন থেকে নিখিল এর জামা টেনে ধরলো । এই যাত্রায় আর হলো না । নিখিল খুব রাগান্বিত হয়ে পিছে ফিরলো , মন চাইলো তাকে কয়টা মারে । কিন্তু নিখিল এর হাত আটকে গেলো । নিখিল এইটা কি দেখছে স্বপ্ন না সত্যি , এটা কখনই সম্ভব না । কারণ এই অধ্যার অনেক আগেই ইতি হয়ে গিয়েছিলো । কিন্তু আজ আবার নতুন করে ? নাকি তাদের চেহারার মিল আছে ? নিখিল বুঝে উঠতে পারছে না । সে কি দেখছে , এটা কিভাবে সম্ভব ?

 

নিখিলের সামনে দাড়িয়ে আছে স্যার আলবার্ট আইনস্টাইন এবং তাকে যে টেনে ধরেছে তিনি হলেন আব্রাহাম লিংকন  । দুজনেই নিখিল এর মুখের দিকে তাকিয়ে হাসছে কিছুই বলছে না । নিখিল কিছুই বুঝে উঠার আগে আইনস্টাইন তাকে পশ্ন করলো তুমি মরতে চাও কেন ? তোমার দুঃখগুলো কি তোমার জীবনের থেকেও ভারী হয়ে গেছে ? তুমি কি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাড়িয়েছো ? তোমার মৃত্যুতে কি তোমার সকল সমস্যার সামাধান হবে ? হ্যাঁ যদি হয় তাহলে যেতে পারো , আমরা বাধা দিবো না ।

নিখিল কিছুই বললো না , কারণ এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর তার জানা নেই , আর তাছাড়া উনাদের মতো মানুষের সামনে দাড়িয়ে কথা বলার সাহস নিখিল হারিয়ে পেলেছে । আজ তাকে অপরাধী মনে হচ্ছে । নিখিল তার জীবনের সকল কিছু খুলে বললো । আইনস্টাইন এবং আব্রাহাম লিংকন দুজনেই শুনলেন ।

এসো এইদিকে এসো , যেথায় বিপদের শংকা থাকে তার থেকে একটু দুরে থাকাটাই ভালো , এই বলে নিখিলকে টেনে নিয়ে গেলো একটা সবুজ রং এর বাংলোতে । বেশ সুন্দর দেখতে সামনে ফুলের বাগান, বাগানে ফুটে আছে বাহারি প্রজাতির ফুল । ভিতরটাও বেশ সুন্দর মন জুড়িয়ে যাবার মতো একটি বাড়ি । তিন জনে সোফার উপর বসলো ।

আইনস্টাইন নিখিলকে উদ্দেশ্য করে বললো দেখো তুমি এতো দুর পড়া লেখা করেছো আর এইটুকু জ্ঞান তোমার নেই ? যে পরাজয় মানেই থেমে যাওয়া নয় যাত্রা একটু ধীর হওয়া মাত্র ।

নিখিল : স্যার , আমি প্রচুর পরিমাণে চিন্তায় পড়ে গেছি ? অনেক চেষ্টার করেছি কিন্তু কিছু হয়নি , কিছুই করতে পারিনি , আর তাই জীবনটাকে বোঝা মনে হতে লাগলো ।

আইনস্টাইন : তোমার মৃত্যুতে কি তোমার পরিবার সুখী হতো ? না ! তারা আরো ভেঙ্গে পড়তো , ধংস হয়ে যেতো তাদের পৃথিবী । তুমি তাদের চেয়েও বেশি হেরে গেছো যারা তোমার আগে সফলতার পিছে ছুটেছে ? তুমি কি এমন কষ্টই পেয়েছো যাতে তোমার বেচে থাকার সাধই মিটে গেলো ? দেখো এই গুলো তোমার বোকামি এর বাহিরে কিছুই বলবো না । আচ্ছা তোমায় একটা প্রশ্ন করি . তুমি কি তোমার পাঠ্যপুস্তুক এর বাহিরে কারো জীবনি কিংবা কোন নোবেল পড়েছো ?

নিখিল : পড়েছি তেমন বেশি নয় ।

আইনস্টাইন : সমস্যাটা এইখানেই , আজ যদি তুমি পড়তে তাহলে জানতে সফলতাটা কেমন , তাহলে তোমার সেই সফলতার প্রতি এক ধরণের লোভ জন্ম নিতো , আর সফলতার আগে তোমার যে বাধা গুলো আসতো সেই সর্ম্পকেও কিছুটা ধারণা পেতে । তুমি কি মনে করো যারা আজ পৃথিবীতে মহান ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত, তারা কি সহজেই এই মহানত্ব লাভ করেছে ? না জীবনটা এমন নয় ? এইযে দেখ ( আব্রাহাম লিংকন কে দেখিয়ে ) তোমার সামনে যে বসে আছে যারা জয় ধ্বনি শুনছো গোটা পৃথিবী জুড়ে তার জীবনের সর্ম্পকে কিছু জানো  ?

নিখিল : না , তেমন বেশি জানি না । তবে এইটুকু জানি তিনি একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ।

আইনস্টাইন : হ্যাঁ তুমি ঠিক বলেছো ওনি মার্কিন যুক্তরাষ্টের ১৬ তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন । আজ ওনার এই জয় গান এমনিতে প্রকাশ পায়নি । এর জন্য অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে, তোমার বয়স এখন ২৫ তুমি তো মাত্র একটা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছো , তবে যদিও এইটাকে আমি ব্যর্থতা বলিনা । যাই হোক । কিন্তু উনি জীবনের অকেটা পথ হারতে হারতে আজকের উনিতে রূপান্তর হয়েছেন । ২১বছর বয়সে একবার তিনি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হন, ২২বছর বয়সে আইন সভার নির্বাচনে পরাস্ত হন। ২৪ বছর বয়সে আবার ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। ২৬ বছর বয়সে তার প্রিয়তমা মারা যান। ৩৪বছর বয়সে কংগ্রেস নির্বাচনে পূণরায় পরাস্ত হন। ৪৫বছর বয়সে সাধারণ নির্বাচনে হেরে যান। ৪৭বছর বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রবল আকাঙ্খা নিয়ে নির্বাচনে ফেল করেন। ৪৯বছর বয়সে আবার সিনেটের নির্বাচনে হেরে যান। অবশেষে ৫২বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। এই ব্যর্থ ব্যক্তিটির নাম আব্রাহাম লিঙ্কন। আর তিনিই আজ তোমার সামনে বসে আছে ।

নিখন এর মুখে কোন কথা নেই । কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না । এমন সময় আব্রাহাম লিংকন বলে উঠলেন আসলে কি জানো তোমরা যারা আছো , তারা অল্পতেই অনেকটা ভেঙ্গে পড়ো । আর আমার মতে তোমাদের কোন স্বপ্নেই নেই । কারণ স্বপ্ন হতে হবে বাশের কন্ঝির মতো যাতে হতাশা নমক ঝড়ে একটু নুয়ে যায় তবে ভেঙ্গে না পড়ে । স্বপ্ন হতে হবে এমন যা তোমাকে সারাক্ষণ দৌড়ের উপর রাখবে । সে থাকবে তোমার চিন্তায়, তোমার চেতনায় মোট কথা তোমার পৃথিবী জুড়ে । তাহলে সেটা স্বপ্ন , যাকে তুমি অনেক ভালোবাসবে , ঠিক একটি মেয়ে কিংবা একটি ছেলে যেমন অন্য একটি ছেলে কিংবা মেয়েকে ভালোবাসে এবং তাকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে , সব কিছু্তেই রাজি হয়ে যায় । যদি তুমি এমন স্বপ্ন দেখতে পারো তাহলেই তোমার স্বপ্ন সত্যি হবে ।

সুতরাং ২ দিন একটু বিশ্রাম নাও এবং তোমার ফেলে আসা দিন গুলোকে মনে করার চেষ্টা করো , সেখান থেকে কোন কাজটিতে তুমি কিছুটা সস্তিবোধ করেছিলে তাকে নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করো , দেখবে তুমার বিজয় হবেই । ভালো থেকো , এগিয়ে চলো স্বপ্নের পথে ।

হঠাৎ করে লাপিয়ে উঠলো নিখিল , তার শরীর দিয়ে আষাড়ের বৃষ্টির মতো ঘাম ঝরছে , অথচো এখন শীত কাল তার উপর পাখাটাও খুব জোরে চলছে , কিছুতেই নিখিল এর শরীর এর তাপমাত্রা কমছে না । এই সব কি দেখলো , তবে কি উনারা নিখিলকে পথ দেখাতে এসেছিলো স্বপ্নে ? হতে পারে , রাতে আর নিখিল এর ঘুম হয়নি , স্বপ্নের কথা গুলো নোট করে রাখলো , এবং ভাবতে শুরু করলো কিভাবে কি করবে , স্বপ্নের বাণী অনুযায়ী সে তার পিচনের দিক গুলো নিয়ে বসে পড়লো , এবং ওখান থেকেই তার জীবনের জন্য একটা পথ বেচে নিলো । …………………

অন্য দিন আসবো নিখিল এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে , কেমন আছে এখন নিখিল সেই বিষয় নিয়ে , সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন ,সুস্থ থাকবেন । এই কমনায় শেষ করছি ।

ওহ হ্যাঁ আপনার মতামত দিতে বুলবেন না কিন্তু । আপনার মতামতের অপেক্ষায়  রইলাম ।

ব্যর্থ দা লুজার : একটি সত্য কাহিনী

0

ছেলেটিকে ডাকা হত স্পার্কি নামে। এটি তার আসল নাম নয়। অবশ্য তার আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ব্যর্থ বা দা লুজার। তার আসল নাম আমি একটু পরে জানাব। তবে ছেলেটি অনন্ত জলীল নয়।
স্কুলে স্পার্কির সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল লেখাপড়া না পারা। অষ্টম শ্রেণীতে সে কৃতিত্বের সঙ্গে সব বিষয়ে ফেল করতে সক্ষম হয়। হাইস্কুলে উঠে পদার্থ বিজ্ঞানে সাফল্যের সঙ্গে শুন্য গ্রেড অর্জন করে। তার এই অসাধারণ সাফল্য ল্যাটিন ভাষা, বিজগনিত এবং ইংরেজি ভাষাতেও সম্প্রসারিত হয়। এত ভাল গুন যার সে কি আর খেলাধুলাতে ভাল করবে? স্কুলে খেলাধুলাতে সে কিছু করতে পারেনি। স্কুলে গলফ দলে অন্তর্ভুক্ত হলেও যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল তাতেও সে হেরে যায়। এরপরে একটি সান্ত্বনাসূচক ম্যাচ হলে সেটিতেও সে গৌরবের সঙ্গে পরাজয় বরন করেন। সারা স্কুল জীবনেই স্পার্কির এ ধরণের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা সাফল্যের সঙ্গে বজায় ছিল। এমনকি সে কারও সঙ্গে খুব একটা মিশতে পারত না। অন্য ছাত্ররা তাকে নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাত না। তাই একবার স্কুলের বাইরে যখন তার এক সহপাঠী তাকে হ্যালো বলে সম্বোধন করে তখন সে অনেকটা অবাক হয়েছিল।
স্বভাবতই মেয়েদের সঙ্গেও স্পার্কি মিশতে পারত না। সে কোন মেয়ের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া (ডেটিং) তো দুরের কথা, কোন মেয়েকে সাহস করে ঘুরতে যাবার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে মনে হয় না। প্রস্তাব দিলেও যে ব্যর্থ হত এতে কোন সন্দেহ নেই।
স্কুল জীবনে বোধহয় নির্ধারিত হয়েছিল স্পার্কি ভবিষ্যতে একজন ব্যর্থ মানুষই হবে। তার সহপাঠীরা, তার পরিবারের লোকজন এমনকি সে নিজেও এই কথা বুঝে গিয়েছিল। তাই অল্প বয়সেই স্পার্কি নিজের ভবিষ্যৎ কে মেনে নিয়েছিল এবং এ নিয়ে তার মনে কোন কষ্ট ছিল না।


তবে একটা জিনিসকে স্পার্কি খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিল জীবনে। আর তা হল ছবি আকা বা ড্রয়িং। সে তার শিল্পকর্ম নিয়ে দারুন গর্ব অনুভব করত। অন্যরা তার শিল্পকর্মকে পাত্তা দিত না বা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করত না। হাইস্কুল জীবনের শেষ দিকে তার স্কুলের ইয়ার বুকের সম্পাদকের কাছে কিছু কার্টুন জমা দেয় স্পার্কি। বলাই বাহুল্য ব্যর্থ স্পার্কির কার্টুন ছাপতে রাজি হবে কোন সম্পাদক? তাই এই যাত্রাও সে ব্যর্থ হল। কিন্তু এই ব্যর্থতায় দমে না গিয়ে স্পার্কি একজন পেশাদার শিল্পি হবার সিদ্ধান্ত নেয়।
হাই স্কুল শেষ করার পর স্পার্কি ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির কাছে কাজের জন্য আবেদন করে। এই কোম্পানি তাকে স্যাম্পল হিসাবে কিছু ছবি পাঠাতে বলে। স্পার্কি যথারীতি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে কিছু ছবি পাঠায়। বলতে পারলে খুশী হতাম যে ডিজনি আনন্দের সঙ্গে তাকে তাদের কোম্পানিতে নিয়ে নেয়। কিন্তু তা হয়নি এবং স্পার্কির ব্যর্থতার মুকুটে আর একটি পালক গৌরবের সঙ্গে যুক্ত হয়।
কি আর করবে বেচারা স্পার্কি? সে সিদ্ধান্ত নিল কার্টুনের মাধ্যমে নিজের আত্মজীবনী রচনা করবে। তাই করল এবং কার্টুনের মাধ্যমে একটি ছেলের ছোটবেলা ফুটিয়ে তুলল যে কোন কিছুতে সফল হয় না।
কিন্তু এবার তার কপাল খারাপ- সে কিভাবে যেন বেশ সফল হয়ে গেল। তার কার্টুন চরিত্র গুলো সারা বিশ্বে বিখ্যাত হল। স্পার্কির সত্যিকারের নাম হচ্ছে Charles M. Schulz । তার সম্পর্কে জানতে চাইলে উইকিপিডিয়াতে এই লিঙ্কে যানঃhttp://en.wikipedia.org/wiki/Charles_M._Schulz
তার এই কমিক স্ট্রিপের নাম Peanuts (http://en.wikipedia.org/wiki/Peanuts ) । আর কার্টুন চরিত্রটির নাম হচ্ছে চার্লি ব্রাউন। চার্লি ব্রাউন এর ঘুরি কখনো উড়ত না বা সে ঠিক মত ফুটবলে লাথি মারতে পারত না।
এই কমিকসটি পঞ্চাশ বছর একটানা চলেছিল (১৯৫০-২০০০)। আর একসময় কমিকসটি বিশ্বের ৭৫টি দেশের ২১ ভাষায় ২৬০০টি সংবাদ পত্রে ৩৫ কোটি লোক নিয়মিত পড়তো। আর এই ব্যর্থ ছেলেটি শেষ পর্যন্ত সব মিলিয়ে এক বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে।
(বলতে ভুলে গেছি, এটি আমার অনুবাদ করা। কোথা থেকে মূল ইংরেজি লেখাটি পেয়েছি তা এখন ভুলে গেছি)

যদি আপনার এই লেখাটি পড়ে ভাল লাগে তবে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিন ও এ ধরনের অনেক পোস্ট পড়ুন।

ক্যারোলি থ্যাকাস: একজন হিরো , একজন অনুপ্রেরনা

0

লেখকঃ আনোয়ার হোসেন

আপনি সম্ভবত কখনোই তার নাম শুনেননি। কিন্তু হাঙ্গেরিতে তিনি একজন জাতীয় বীর – প্রত্যাকেই তাকে চেনে এবং তার অবিশ্বাস্য গল্প জানে। এই গল্পটি পড়ার পর আপনি তাকে কখনোই ভুলবেন না …

১৯৩৮ সালে হাঙ্গেরিয়ান সেনাবাহিনীর ক্যারোলি থ্যাকাস ছিলেন বিশ্বের সেরা পিস্তল সুটার। আশা করা হচ্ছিল ১৯৪০ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত হওয়া অলিম্পিক গেমসে তিনি সোনা জয় করবেন ।

সেনাবাহিনীর অনুশীলনের সময় থ্যাকাসের ডান হাতে একটি হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়, এবং থ্যাকাস যে হাতে শুটিং করতেন সে হাতটি উড়ে যায়। অলিম্পিক স্বপ্ন ও হাত হারিয়ে থ্যাকস একমাস হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ছিলেন। ঠিক যে সময়টিতেই অধিকাংশ লোক সব আশা ছেড়ে দিতে এবং তারা হয়ত তাদের বাকি জীবনটা নিজেদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেই কাটিয়ে দিতেন। অধিকাংশ লোক সেটা করলেও থ্যাকাস কিন্তু তা করেননি। থ্যাকার ছিলেন একজন বিজয়ী। একজন বিজয়ী জানে পরিস্থিতিকে কখনো জয়ী হতে দেয়া যায় না। তারা জানে যে, জীবন অনেক কঠিন এবং তারা জীবনের কাছে পরাজিত হতে পারেন না। বিজয়ীরা বিশ্বাস করেন হাল ছেড়ে দেয়া কোন সমাধান নয়।

থ্যাকাস এক অচিন্তনীয় কাজ করলেন। তিনি ধংসস্তূপ থেকে উঠে দাড়ানোর কথা ভাবলেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন বাম হাতে শুটিং শিখবেন। তার চিন্তাটা ছিল খুবই সাধারন। তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন, “কেন নয় ?”

বিশ্বমানের শুটিং এর জন্য দক্ষ ডান হাত যা তার ছিল থ্যাকাস তার কথা না ভেবে সিদ্ধান্ত নিলেন তার যা আছে তার দিকেই মনোযোগ দিবেন।

থ্যাকাস মাস খানেক একা একা অনুশীলন করলেন। কেউই জানতেন না তিনি কি করছেন। তিনি হয়ত লোকের আলোচনার বিষয় হতে চান নি যারা তাকে তার স্বপ্ন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারতো।

11222011_830765613699549_3378614229197575412_n১৯৩৯ সালের বসন্তে তিনি নিজেকে হাঙ্গেরিয়ান জাতীয় পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেকে জনসম্মুখে নিয়ে আসলেন। অন্য শুটাররা তার সামনে এসে সমবেদনা জানালেন এবং তাদেরকে উৎসাহ দেবার জন্য কষ্ট করে শুটিং দেখতে আসার জন্য অভিনন্দন জানালেন। তারা সকলেই বিস্মিত হলেন, যখন তারা শুনলেন, “আমি শুটিং দেখতে আসিনি, আমি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছি ।” তারা সবাই আরো বিস্মিত হলেন যখন থ্যাকাস সবাইকে হারিয়ে বিজয়ী হলেন।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের জন্য ১৯৪০ ও ১৯৪৪ সালের অলিম্পিক বাতিল হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল থ্যাকাসের অলিম্পিক স্বপ্ন বুজি স্বপ্নই থেকে যাবে। কিন্তু থ্যাকাস তার অনুশীলন চালিয়ে গেলেন এবং ১৯৪৪ সালে তিনি লন্ডন অলিম্পিকের জন্য কোয়ালিফাই করলেন। ৩৮ বছর বয়সে থ্যাকাস সোনা জয় করে পিস্তল শুটিয়ে নতুন বিশ্ব রেকর্ড করলেন। চার বছর পর তিনি হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে আবার সোনা জয় করলেন। সকল ক্ষেত্রেই বিজয়ীদেরই একটি বিশেষ বৈশিস্ট থাকে যা তাদেরকে অপ্রতিরোধ্য হতে সাহাজ্য করে। বিজয়ী খুব দ্রুতই নিজেদের পুনুরুদ্ধার করতে পারেন। ফিরে আসাটাই মুল কথা নয়, একজন বিজয়ী খুবই দ্রুত ফিরে আসেন। তারা নিজেদেরকে কোন জিনিসের উজ্জল দিকটি দেখতে উৎসাহিত করেন। তারা নিজেদের বলেন , “যা হউক, অবশ্যই কোন না কোন একটি উপায় আছে, আমি সে উপায়টি খুজে নেব” তারা নিজেদেরকে ধংসস্তূপ থেকে তুলে ধরে এবং নিজেকে সেখানে তুলে ধরে যেখানে তারা ছিল ।

দ্রুত রিকভার করতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেন না আপনি যদি তা করতে পারেন তাহলে আপনি প্রেরনা হারাবেন না। থ্যাকাস মাত্র ১ মাসে নিজেকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন ।

যখন একজন বক্সার ভুপাতিত হয়, তার হাতে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় থাকে নিজেকে তুলে ধরতে। যদি সে ১১ সেকেন্ডের সময় নিজেকে তুলে ধরে তবে সে সেই লড়াইয়ে পরাজিত হয়।সময় এখানে খুবই গুরুত্ব পূর্ণ একটি নিয়ামক। পরের বার আপনি যদি ভুপাতিত হলে এটা স্মরণ করবেন।

থ্যাকাস নিশ্চিত ভাবেই নিজের জন্য দুঃখিত হবার অধিকার ছিল ।তার অধিকার ছিল হতাশ থাকার এবং বাকি জীবন নিজেকে প্রশ্ন করার “আমি আবার কেন ?” গড় পড়তা সাধারন মানুসের মত আচরণ করার ও অধিকার তার ছিল ।

11208634_830765647032879_1652232246276788387_nথ্যাকাস তার জীবনে ঘটা মারাত্তক দুর্ঘটনাকে স্থায়ীভাবে হতাশ হবার, মদ খেয়ে মাতাল হবার বা জীবন শেষ করে দেবার কারন হিসেবে দাড় করাতে পারতেন।
কিন্তু থ্যাকাস সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সমাধান খুজে নেবার। নিজেকে তুলে ধরার এবং নতুন করে শুটিং শেখার ।একজন বিজয়ী সব সময় সমাধান খুজেন এবং একজন লুজার (পরাজিত) সব সময় অজুহাত খুজেন ।

পরের বার ভুপাতিত হলে, সিদ্ধান্ত নিন আপনি একজন বিজয়ীর মত আচরণ করবেন। সিদ্ধান্ত নিন আপনি থ্যাকাস এর মত আচরণ করবেন। তাড়াতাড়ি উঠে দাড়ান, কাজ শুরু করে দিন এবং বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিন ।

আরো জানতে

ওইকিপিডিয়াঃ https://en.wikipedia.org/wiki/K%C3%A1roly_Tak%C3%A1cs
ইউটিউবঃ https://www.youtube.com/watch?v=lD4KK1wh1RM
অলিম্পিক ওয়েব সাইটঃ http://www.olympic.org/karoly-takacs

যদি আপনার এই লেখাটি পড়ে ভাল লাগে তবে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিন ও এ ধরনের অনেক পোস্ট পড়ুন।

স্বপ্ন সাদা কালো, স্বপ্ন রঙিন

0

এমন কাউকে পাওয়া যাবে না , যে সে কখনও স্বপ্ন দেখেন নি , কিংবা , কোন একটি সময়ের জন্য স্বপ্নের পিছে ছুটেন নি । আমরা সবাই কোন না কোন সময় কোন কোন স্বপ্নের পিছে হেটেছি , হয়তো এক এক জনের গন্তব্য এক একটা ছিলো কিংবা আছে , আমাদের পথ কিন্তু একটাই, আমরা একই পথের যাত্রী , স্বপ্ন পথের যাত্রী ।
আসলে স্বপ্ন কোনটা ? যেটা আমরা ঘুমের ঘোরে দেখি সেটা না যেটা জেগে দেখি ।
দুটাই স্বপ্ন . দুটাই অভিন্ন একটা সত্তা । আসলে আমরা ঘুমের ঘোরে তখনই স্বপ্ন দেখি যখন সারা দিনের কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের স্বপ্নের বিষয়টা নিয়ে ভেবে যাই । আর যখন ব্যস্ততার কারণে আমরা সেই স্বপ্নের জগৎটা দেখতে পাইনা ঠিক তখনই সারা দিনের কর্ম ব্যস্ততা কাটিয়ে রাতে ঘুমানোর পর আমরা সেই স্বপ্নের জগৎ এ চলে যাই।
সাধারণত স্বপ্ন সাদা কালো হয় , স্বপ্নের কোন রং হয় না , আর সেই রং নিয়ে ভাব বার সময় ও আমাদের নেই , আমরা শুধু ব্যস্ত থাকি কখন সেই স্বপ্নের জগৎ এ যাবো , কখন সেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিতে পারবো , স্বপ্ন বাস্ত্যব হওয়ার পর দেখা যাবে এটা কোন রং এ আছে । কিন্তু যখন আমরা পরিপূর্ণ ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যাই , মানে যখন আমাদের ঘুমের গভীরতা বেড়ে যায় , ঠিক তখনই আমরা দেখতে পাই , আমাদের সেই স্বপ্ন , একটা রঙ্গিন স্বপ্ন , আর তখন আমরা স্বপ্নের রং গুলো সর্ম্পকে ধারণা পাই ।
একটি স্বপ্নের জন্য সব কিছুর ই প্রয়োজন আছে , যেমন আপনার হাড় ভাঙ্গা প্ররিশ্রম ঠিক তেমনই আপনার বিশ্রাম । আর সব কিছুই যদি ঠিক রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় তাহলে আমরা আমাদের স্বপ্নগুলো কে বাস্তবে রূপ দিতে পারবো । আমরা দেখি , আমাদের অনেকেই আছে , যারা একটি স্বপ্ন বাস্ত্যবায়নের জন্য অন্য সব কিছু ভুলে যায় , সারাক্ষণ সেই স্বপ্নের পিছে সময় দেয় । কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন সেই স্বপ্নটা বাস্তব হয় না , তখন উনার অবস্থা যায় যায় প্রায় । সে আর স্বপ্ন দেখতে সাহস পায় না্ , এমন কি অন্য স্বপ্নবাজদের কে স্বপ্ন দেখতে নিষেধ করে । শুরু করে দেয় তার নানান যুক্তি যেই যুক্তির কাছে আপনি হার মানে যান কখন ও কখনও । এইভাবে ঝরে পড়ে প্রতিদিন হাজারো স্বপ্ন ।ভবঘুরে হয়ে যায় হাজারো স্বপ্নবাজ । কিন্তু একটি কথা মনে রাখবেন , সে পারে নাই তার মানে এই না , যে আপনি পারবেন না , তার কাছে অসম্ভব তার মানে এই নয় যে এই অসম্ভবটা আপনার জন্য , অসম্ভবটা শুধু মাত্র তার জন্য , আপনি পারবেন , খুব ভালো ভাবেই পারবেন ।
কিছু ভুল স্বপ্নের পক্ষে কাজ করে আবার কিছু ভুল স্বপ্নের বিপক্ষে কাজ করে , এইবার আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন ভুলটা করবেন ?

এইযে আমি প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি , স্বপ্নের পিছে ছুটছি, অনেকেই বলে আমি কি করি , আমি ঠিক কাজটা করি না , আবার অনেকেই বলে আমি একটা পাগল , যেকিনা জীবনটাকে নষ্ট করে দিচ্ছি , এই সব মন্তব্য তাদের , কিন্তু আমার না । আমি জানি ঠিক একদিন আমি আমার স্বপ্নের ভুবনে পা রাখবো , আমি আমার স্বপ্নের গালিচা দিয়ে হেটে যাবো , আমার স্বপ্নের দিকে , তাদের কথায় আমার কিছু যায় আসে না , কারণ তারা হয়তো ভাবে আমার স্বপ্ন অনেক বড় হওয়া, আর তাদের কাছে বড় হওয়া মানে বড় বাড়ি , বেশ কিছু গাড়ি , কিংবা বিশাল অর্থ ভান্ডার , হ্যাঁ তাদের ধারণা ঠিক আমি বড় হতে চাই , কিন্তু ওই টাকা পয়সা , বাড়ি গাড়ি দিয়ে নয় , খুব সাধারণ একজন বড় হওয়া , শূধুই বড় হওয়া , আমি বিশ্বাস করি তারা আমার স্বপ্ন সর্ম্পকে না জেনে মন্তব্য করেছে , তাতে কান দেওয়ার সময় আমার নাই । কারণ আমি আমার স্বপ্ন সম্পর্কে জানি , খুব ভালো করেই জানি ।

বি:দ্রা: যখনই মন খারাপ হবে ,তখনই বই নিয়ে বসে পড়বেন ,কারণ আমার বিশ্বাস যতই পড়বেন ততই আপনার স্বপ্ন পথে হাটতে সুবিধা হবে ।
স্বপ্ন বাচবে , আমরা বাচবো .স্বপ্ন দেখবো , স্বপ্ন দেখাবো , স্বপ্নে জগৎটাকে বাস্তবে রূপ দিবো ।

উৎসাহ: একটি সত্য ঘটনা

0

(লেখাটি আমি অনুবাদ করেছি)
উনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত কবি এবং শিল্পী দান্তে গ্যাব্রিয়েল রসেটির কাছে একদিন একজন বৃদ্ধ লোক আসলেন। বৃদ্ধ লোকটি কিছু পেইন্টিং বা চিত্রকর্ম সাথে নিয়ে এসেছিলেন রসেটিকে দেখানোর ও এগুলো সম্পর্কে তাঁর মতামত নিতে। রসেটি বেশ মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকলেন। তবে প্রথম দুএকটি দেখার পর তিনি বুঝলেন চিত্রকর্ম গুলো মূল্যহীন এবং এটি যিনি একেছেন তার ভাল শিল্পী হবার সামান্যতম সম্ভাবনা নেই। তবে তিনি একজন দয়ালু মানুষ ছিলেন এবং বৃদ্ধকে যতটা সম্ভব নরম ভাবে জানালেন যে ছবিগুলো তেমন ভাল নয় এবং যিনি এটি একেছেন তার তেমন বড় শিল্পী হবার সম্ভাবনা নেই। একথা বলাতে তাঁর খারাপ লাগলো কিন্তু তিনি মিথ্যা বলতে চান নি।
বৃদ্ধের কিছুটা মন খারাপ হলেও দেখে মনে হল যে তিনি এ ধরনের মতামত শুনবেন তা আগে থেকেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তিনি রসেটির মুল্যবান সময় নষ্ট করার ক্ষমা চাইলেন তবে আরও কয়েকটি ছবি বের করে জানালেন যে সেগুলো একজন তরুন চিত্রকলার শিক্ষার্থী কর্তৃক অংকিত হয়েছে এবং সে ছবি গুলো সম্পর্কে রসেটির মত জানতে চাইলেন।
রসেটি দ্বিতীয় সেটের ছবি গুলো দেখতে শুরু করার সাথে সাথেই খুব মজে গেলেন এবং তরুন চিত্রকরের প্রতিভা নিয়ে তাঁর মনে কোন সন্দেহ রইলো না। তিনি বললেন, “ওহ! এগুলো খুবই ভাল পেইন্টিং। এই তরুন শিক্ষার্থীর দারুণ প্রতিভা রয়েছে। ক্যারিয়ারে অগ্রসর হবার জন্য তাকে সকল ধরনের উৎসাহ ও সহযোগিতা দেয়া উচিৎ। যদি এই তরুন লেগে থাকে তবে তার অত্যন্ত উজ্জল ও সফল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।“ রসেটি দেখল যে এই কথা শুনে বৃদ্ধের মধ্যে গভীর প্রতিক্রিয়া হয়েছে। তাই তিনি বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন, “তরুন শিল্পীটি কে, আপনার পুত্র?”
বিষণ্ণ সুরে বৃদ্ধটি উত্তর দিল, “না, এগুলো আমি ৪০ বছর আগে তরুন বয়সে একেছি। তখন যদি আপনার মত কারো থেকে এ ধরনের অনুপ্রেরণা পেতাম তাহলে কি ভালই না হত। আমি হতাশ হয়ে পড়ে চেষ্টা করা ছেড়ে দেই।“
লেখাটি নেয়া হয়েছেঃ From Brian Cavanaugh’s The Sower’s Seeds
আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে শর্টকাটের জয়জয়কার। সৎ ভাবে পরিশ্রম করাকে বোকামি ও মূর্খতা বলে মনে করা হয়। ছাত্র জীবনে দেখতাম যে অনেকে খুব গর্ব করে বলার চেষ্টা করতো তারা একদম পড়েই না। পরোক্ষ ভাবে বলার চেষ্টা করতো যে তাদের ব্রেইন খুব ভালো আর যারা বেশী পড়ে তাদের ভোতা ব্রেইন। আমার মত যারা একটু পড়ুয়া ধাচের ছিল তাদের অনেক সময় মন খারাপ হয়ে যেত অন্যদের উপহাসের পাত্র হয়ে কারণ আমরা যে বেশী পড়ি বা লুকিয়ে পড়তে পারিনা। বেশী পড়াকে নেতিবাচক অর্থে বোধহয় এখনকার ছাত্ররাও দেখে। যাইহোক মূল কথা হল মন দিয়ে লেগে থাকলে যে কোন কাজে সাফল্য আসবে।

যদি আপনার এই লেখাটি পড়ে ভাল লাগে তবে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিন ও এ ধরনের অনেক পোস্ট পড়ুন।

মিলিয়ন ডলার মুল্যের শিক্ষা যা আপনার জন্য সাফল্য বয়ে আনতে পারে

0

একবার একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার কাস্টমার এর প্রত্যাশা ও সন্তুষ্টি (customer satisfaction and expectation) সম্পর্কে মিলিয়ন ডলার সমমানের এক শিক্ষা প্রদান করে। অনুপ্রেরণা দানকারী বক্তারা কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ ও স্টাফদের এ ধরনের শিক্ষা দেবার জন্য হাজার হাজার ডলার চার্জ করে। আর এ শিক্ষা পেতে আমাকে সেই ট্যাক্সি ভ্রমণের জন্য মাত্র ১২ ডলার খরচ করতে হয়েছিল।

এক ক্লায়েন্টের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি বিমানে করে ডালাসে যাই। আমার হাতে সময় একবারে কম ছিল এবং চিন্তা করছিলাম যে এয়ারপোর্ট থেকে একটি ট্যাক্সি নিয়ে ক্লায়েন্টের সঙ্গে দেখা করে আবার সঙ্গে সঙ্গে এয়ারপোর্টে ফিরে আসবো। একটি ঝকঝকে তকতকে ট্যাক্সি এসে আমার সামনে দাঁড়াল।

ট্যাক্সির ড্রাইভার খুব দ্রুততার সঙ্গে তার সীট থেকে বের হয়ে আমার জন্য পেছনের দরজা খুলে দিয়ে আমি যেন আরামে বসতে পারি তা নিশ্চিত করলো। আবার ড্রাইভারের আসনে ফেরত আসার পর আমাকে বিনয়ের সঙ্গে জানালো যে আমার সামনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (পত্রিকা) কপি আছে পড়ার জন্য। কয়েকটি গানের টেপ (ক্যাসেট) দেখিয়ে আমার কোনটা পছন্দ তাও জানতে চাইল।

আমি চারদিকে টেলিভিশনের ক্যান্ডিড ক্যামেরা অনুষ্ঠানের ক্যামেরা ও লোকজনের জন্য তাকালাম। “আমার জায়গায় হলে, আপনিও কি তাই করতেন না?” যে ধরনের সেবা আমি পাচ্ছিলাম একজন ট্যাক্সি প্যাসেঞ্জার হিসেবে তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। আমি তাকে বললাম, “আপনি অনেক গর্বের সঙ্গে আপনার পেশায় কাজ করছেন। বলার মত নিশ্চয়ই কোন গল্প আছে।“

তিনি উত্তর দিলেন, “অবশ্যই আছে। আমি একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম। কিন্তু একসময় সে কাজে ক্লান্তি ধরে গেল এই দেখে যে সামর্থ্যের সেরা প্রচেষ্টা দিলেও তা বসদের জন্য যথেষ্ট সন্তোষজনক ছিল না। তাই চিন্তা করলাম যে এমন কোন কাজ করবো যাতে আমি আমার সেরা প্রচেষ্টা নিয়ে নিজের কাছে অন্তত গর্ব অনুভব করতে পারি।

আমি জানতাম যে আমার পক্ষে রকেট সায়েন্টিস্ট হওয়া সম্ভব নয় তবে গাড়ি চালাতে আমার খুব ভাল লাগতো। আরও ভাল লাগতো প্রতিদিন মানুষের সেবা করতে এবং মন দিয়ে নিজের কাজ করতে। আমি আমার নিজের ব্যক্তিগত সম্পদের অবস্থা নিয়ে কিছুটা চিন্তা করলাম এবং এরপর একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার হিসেবে কাজ শুরু করে দিলাম।

কাজে নেমে একটা বিষয় খুব ভাল মতই উপলব্ধি করলাম। আমার প্যাসেঞ্জাররা আমার থেকে যা প্রত্যাশা করে তা করতে পারলে আমি আমার পেশায় ভাল করবো বা সফল হবো। কিন্তু আমার কাজে অসাধারণ বা দারুন সাফল্য পেতে হলে আমাকে আমার কাস্টমারদের প্রত্যাশার থেকেও কিছু বেশি দিতে হবে। তাই সাধারন মানের সাফল্যতে থেমে না থেকে আমি আমার কাজে সেরা হতে চাই।’”

তাকে কি আমি বেশ ভাল টিপস (বখশিশ) দিয়েছিলাম? অবশ্যই। কর্পোরেট আমেরিকা একজন দক্ষ কর্মীকে হারালেও আমাদের মত ভ্রমণকারীরা একজন ভাল বন্ধু পেয়েছে।

 

A Million Dollar Lesson

by Petey Parker

মূল লেখার লিংকঃ http://www.inspire21.com/stories/businessstories/a_million_dollar_lesson

অনুবাদঃ রাজিব আহমেদ 

 

লেখিকা পরিচিতিঃ পিটেই পার্কার দীর্ঘ দিন কর্পোরেট জবে থাকার পর নিজেই একটি কনসালটেন্সি কোম্পানি খোলেন কয়েক বছর আগে। তার সম্পর্কে জানতে চাইলে এ লিংকে ক্লিক করুনঃ http://www.peteyparker.com/mediakit.pdf

তিনি আমেরিকার অনেক বড় কোম্পানির কর্মীদের জন্য সেমিনার, কনসালটেন্সি করে থাকেন এবং তাদের কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা বৃদ্ধির জন্য নানা ধরনের প্রশিক্ষন দেন। তার তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তার সম্পর্কে বলতে গেলে একেবারেই কিছুই জানি না তবে তার একটা কথা খুব মনে ধরেছেঃ

When Good isn’t Good enough, go for great.

এ গল্পের শিক্ষণীয় বিষয়ঃ যা ভাল লাগে সেই কাজ করুন এবং ফাঁকি না দিয়ে আনন্দের সঙ্গে ভাল লাগার কাজটি করুন।

যদি আপনার এই লেখাটি পড়ে ভাল লাগে তবে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিন ও এ ধরনের অনেক পোস্ট পড়ুন।

অনুপ্রেরণামূলক ছবিঃ রকি

1

খেলাধূলার প্রতি আমার কোন আকর্ষণ নেই। ক্রিকেট, ফুটবল যা বলেন (তবে হ্যা, বাংলাদেশ ক্রিকেট টীম জিতলে খুবই ভাল লাগে)। কিন্তু মুভি, কার্টুন, টিভি সিরিজ এসব দেখতে খুবই ভাল লাগে। রাজিব ভাই আমার এ দূর্বলতা সম্পর্কে জানে তাই বললেন যে তুমি এনকারেজ বিডিতে অনুপ্রেরণামূলক ছবি নিয়ে লিখতে থাক। অতএব লিখতে বসে গেলাম। হলিউডে অনেক অনুপ্রেরণামূলক ছবি আছে খেলাধূলাকে ঘিরে। এরকম একটি ছবির নাম হচ্ছে “রকি।”
রকি মুষ্টিযুদ্ধের উপরে নির্মিত একটি ছবি। যুক্তরাষ্ট্রের একজন ভাগ্যহীন, ছন্নছাড়া মুষ্টিযোদ্ধা কিভাবে তার জীবনে সাফল্য পেল তা এ ছবিতে দেখান হয়। প্রথম ছবিটি তৈরি হয় ১৯৭৬ সালে Rocky এরপরে Rocky II (1979), Rocky III (1982), Rocky IV (1985), Rocky V (1990) এবং সবশেষে Rocky Balboa (2006) বের হয়। প্রতিটি ছবিই দর্শক ভীষণ উপভোগ করে এবং প্রতিটি ছবিই ব্যবসা সফল হয়।
রকি ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম রকি বালবোয়া (Rocky Balboa )। রকি ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়াতে নিম্নবিত্ত একটি পাড়ায় বসবাস করে। পড়াশুনা নামমাত্র। তার পোশাকী নাম “The Italian Stallion।” বক্সার হিসেবে রকি মোটেও ভাল না। বক্সিং তাকে অর্থ বিত্ত খ্যাতি কিছুই দিতে পারে নি। সে স্থানীয় এক ধারের কারবারি অ্যান্থনি গাজ্জো-র মস্তান হিসেবে কাজ করত। অ্যান্থনি স্থানীয় লোকজনকে সুদে টাকা ধার দিত। যারা সময় মতো ধার শোধ করত না তাদের শায়েস্তা করে টাকা আদায় করাই ছিল রকির কাজ। সবার কাছে রকি ছিল একটা ফালতু লোক। সোজা ইংরেজিতে যাকে “Bum” বলে।
রকি ছবির শুরুতে দেখা যায় ১৯৭৫ এর নভেম্বর মাসে ফিলাডেলফিয়ার এক ক্লাবে বক্সিং ম্যাচ হচ্ছে। ম্যাচ শেষে রকি ৪০ ডলার পায়। পরদিন জীমে গিয়ে রকি দেখে যে তার লকার অন্য একজনকে দিয়ে দেয়া হয়েছে। জিমের কোচের সাথে রকি কথা বলতে গেলে তাকে বলে যে তার বক্সিং করার কোন যোগ্যতাই নেই।
তৎকালীন ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন অ্যাপোলো ক্রিড ফিলাডেলফিয়াতে ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহুর্তে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর ইঞ্জুরির কারণে খেলা বাতিল হয়ে যায়। তখন ক্রিড ঠিক করেন যে তিনি ফিলাডেলফিয়ার একজন স্থানীয় বক্সারের সাথে খেলবেন। এটা কোন শিরোপা ম্যাচ নয় প্রদর্শনী ম্যাচ এর মতো। ক্রিড ঠিক করেন রকির সাথে ম্যাচ লড়বেন। রকির নাম কেউ জানে না আর ক্রিডও রকিকে নিয়ে অতটা চিন্তিত ছিল না। পাঁচ সপ্তাহ পরে ম্যাচ হবে।
রকির মতো একটা ছন্নছাড়া মানুষের জন্যে এ ম্যাচটা ছিল লটারির টিকিটের মতো। রকি জানত যে সে জিতবে না। কিন্তু রকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে যত কষ্টই হোক সে পুরো ১৫ রাউণ্ড খেলবে। সে সমস্ত পৃথিবীকে দেখিয়ে দেবে সে তুচ্ছ হেলাফেলার বস্তু নয়। ক্রিড এর জন্যে এটা শুধুমাত্র একটা প্রদর্শনী ম্যাচ কিন্তু রকির কাছে জীবন মরণ সংগ্রামের মতো।
এরপরে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অ্যাপলো ক্রিড ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন বক্সার। সে ভেবেছিল যে রকির মতো এক আনাড়ী বক্সারকে সে তিন রাউণ্ডেই উড়িয়ে দেবে। কিন্তু প্রথম রাউণ্ডেই রকি ক্রিডকে নকআউট করে। এরপরে শুরু হয় ১৫ রাউন্ডের যন্ত্রণাদায়ক একটা খেলা। ক্রিড ঘুষি মেরে রকির নাক ভেঙ্গে দেয়। ক্রিডও পাঁজরে প্রচন্ড আঘাত পায়। ক্রিড খুবই দক্ষ একজন খেলোয়াড়। একের এক ঘুষি মেরে রকিকে সে প্রতিবারই ফেলে দিতে থাকে কিন্তু তারপরেও রকি উঠে দাঁড়ায় আর অ্যাপলোর দিকে এগিয়ে যায়।
রকি ছবিটির মূল আকর্ষণ কিন্তু বক্সিং নয় বরং একজন সাধারণ মানুষের সংগ্রামের কথা। সব বাঁধা-প্রতিকূলতা স্বত্বেও উঠে দাঁড়িয়ে লড়াই করে যাবার যে দৃঢ়তা সেটা তুলে ধরা।
রকি দক্ষ বক্সার নয়। পুরো ম্যাচ জুড়ে ক্রিডের হাতে সে প্রচন্ড মার খায় কিন্তু তারপরেও সে হার মানে না। বার বার উঠে দাঁড়িয়ে লড়তে থাকে। একজন সাধারণ মানুষ সে যেই হোক না কেন। মন থেকে চেষ্টা করে গেলে সে সাফল্য পাবেই এটাই ছিল রকি ছবির মূল কথা।
আপনি যদি এখন ইন্টারনেট অনুপ্রেরণামূলক ছবি খুঁজতে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি রকির নাম পাবেন। ১৯৭৬ সালে বানানো কিন্তু আজো অনেকে ছবিটি দেখে থাকে। ২০০৬ সালে ইউনাইটেড নেশনস ন্যাশনাল ফিল্ম রেজিস্ট্রি রকি ছবিটিকে লাইব্রেরি অভ কংগ্রেস এর সংগ্রহশালায় রেখে দেয়। তাদের মতে এ ছবিটি দেশটির ইতিহাস এবং সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যদি আপনার এই লেখাটি পড়ে ভাল লাগে তবে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিন ও এ ধরনের অনেক পোস্ট পড়ুন।

রজার ক্রফোর্ড: অনেক কিছুই পারি না আমি

1

টেনিস খেলার জন্য যা দরকার রজার ক্রফোর্ড এর সবকিছুই ছিল, শুধু ছিল না তার দুইটি হাত ও একটি পা।
রজারের বাবা মা যখন তাদের এই সন্তানটিকে প্রথমবারের মত দেখেন তখন তারা দেখতে পান তার ডান হাতের কনুই থেকে কব্জির পর হঠাৎ করে একটি বুড়ো আঙ্গুল এবং বাম হাতের কনুই থেকে কব্জির পর হঠাৎ করে একটি আঙ্গুল বের হয়ে গেছে। অর্থাৎ হাতের তালু বলতে রজারের কিছু ছিল না। পায়ের অবস্থাও খুব একটা ভাল কিছু ছিল না। ডান পায়ে মাত্র তিনটি আঙ্গুল ছিল। আর বা পায়ের অবস্থা এত খারাপ ছিল যে পরে তা কেটে ফেলতে হয়।
রজারের চিকিৎসক বলেছিলেন যে ছেলেটি জন্মের সময় এমন এক খুঁত নিয়ে জন্মেছিল যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি নব্বই হাজার শিশুর মধ্যে একজনের বেলায় ঘটে। সেই ডাক্তার এইও বলেছিলেন যে রজার সম্ভবত জীবনে হাঠতে এবং নিজের যত্ন নিতে পারবে না। সৌভাগ্যবশত রজারের বাবা-মা ডাক্তারের সেই কথা বিশ্বাস করেন নি।


রজার বলেন, “আমার বাবা-মা আমাকে সবসময় বলতেন যে আমি ততখানি প্রতিবন্ধি হব যতখানি আমি নিজেকে তা হতে দিব। আমার মা-বাবা কখনোই প্রতিবন্ধি বলে বাড়তি সহানুভূতি দিতেন না বা অন্যদের থেকে আমি বাড়তি সহানুভূতি যাতে না পাই সে ব্যপারে সতর্ক থাকতেন। একবার আমি স্কুলে একটা ঝামেলায় পড়ে যাই। স্কুলের হোম ওয়ার্ক জমা দিতে ক্রমাগতভাবে আমার দেরী হচ্ছিল কারণ আমাকে দুই হাত দিয়ে পেন্সিল ধরে লিখতে হত এবং এর ফলে আমার লেখার গতি অত্যন্ত ধীর ছিল। আমি আমার বাবাকে অনুরোধ জানাই তিনি যেন আমার শিক্ষককে একটি চিঠি লেখেন এই বলে যে আমাকে প্রতিটি অ্যাসাইনম্যান্ট করার জন্য বাড়তি দুইটি দিন দেওয়া হয়। বাবা তা না করে উল্টো প্রতিটি অ্যাসাইনম্যান্ট লেখার বেলায় সময় আসলে দুই দিন আগে থেকে আমাকে লিখতে বসিয়ে দিতেন।”
রজারের বাবা রজারকে সবসময় খেলাধুলায় অংশ নিতে উৎসাহিত দিতেন। তিনি তার ছেলেকে ভলিবল খেলতে শেখান এবং উঠানে আমেরিকান ফুটবলও খেলতে শেখান। মাত্র বার বছর বয়সে স্কুলের ফুটবল দলের একজন সদস্য হবার যোগ্যতা অর্জন করে রজার।
স্কুলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচের আগে রজার চোখ বন্ধ করে স্বপ্ন দেখত যে সে টাচ ডাউন (আমেরিকান ফুটবলের গোল বা স্করিং পয়েন্ট) করবে। একদিন তার সেই সুযোগ এল, অর্থাৎ তাকে মাঠে নামানো হল। বল তার হাতে এল এবং সে তার কৃত্তিম বাম পা নিয়ে যতটা সম্ভব দ্রুত ছুটতে শুরু করল প্রতিপক্ষের গোল লাইনের দিকে। তার স্কুলের কোচ এবং অন্যান্য খেলোয়াড়রা তাকে চিৎকার করে উৎসাহ দিচ্ছিল। গোল লাইন থেকে সে যখন মাত্র দশ গজ দূরে তখন প্রতিপক্ষ দলের একটি ছেলে ছাপিয়ে পরে তার বাম পায়ের গোড়ালি ধরে ফেলে তাকে থামানোর জন্য। রজার যথাসাধ্য চেষ্টা করল তার কৃত্তিম বাম পাটি ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য কিন্তু উল্টো তার বাম পা তার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।
এবার রজারের নিজের ভাষ্য শুনুন, “তখন আমি বুঝতে পারছিলাম না যে ঠিক কি করা উচিত। তাই আমি এক পা দিয়ে লাফাতে লাফাতে গোল লাইনের দিকে এগুতে থাকলাম। রেফারি আমার কাছে দৌড়ে এসে তার দুই হাত উপরের দিকে তুলে বললেন “টাচ ডাউন”। এতে করে যে ছয় পয়েন্ট আমি অর্জন করেছিলাম তার থেকেও ভাল লেগেছিল বিপক্ষ দলের যেই ছেলেটি আমার কৃত্তিম বাম পাটি ধরে রেখেছিল তার চেহারায় বিস্ময় দেখে।”
দিনে দিনে খেলাধুলার প্রতি রজারের ভালবাসা বৃদ্ধি পেতে থাকল এবং এর ফলে তার আত্মবিশ্বাসও বাড়তে থাকল। কিন্তু তাই বলে রজার সবকিছুতে সফল হল এমনটা মনে করা উচিত হবে না। স্কুলে খাবার ঘরে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুপুরের খাবারের সময় অন্যরা যখন তাকে দেখত যে স্বাভাবিকভাবে খেতে পারছে না। সেই অভিজ্ঞতা রজারের জন্য বেদনাদায়ক ছিল। সে টাইপিং ক্লাসেও বার বার ফেল করত। রজারের মতে, “টাইপিং ক্লাসে ব্যর্থতা থেকে আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় শিখি। আপনি সবকিছুতে সফল হবেন না। তাই যে কাজ আপনি ভাল পারেন সেটাতে লেগে থাকা উচিত।”
একটা কাজ রজার পারত আর তা হচ্ছে টেনিস র‍্যাকেট নিয়ে সুইং করা। দুর্ভাগ্যবশত সে যদি একটু বেশী জোরে সুইং করার চেষ্টা করত তাহলে তা তার হাত থেকে ফসকে বের হয়ে যেত। অর্থাৎ তার গ্রিপ একেবারেই শক্ত ছিল না। তবে সৌভাগ্যবশত একদিন একটি ক্রীড়া সামগ্রীর দোকানে এমন একটি টেনিস র‍্যাকেটের দেখা পায় যা সে সহজে ধরে রাখতে পারত। এটি তার হাতে এতটাই ফিট হয়ে যায় যে সে স্বাভাবিকভাবেই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। প্রতিদিন সে প্র্যাকটিস করত এবং খুব শীঘ্রই সত্যিকারের ম্যাচ খেলা শুরু করল এবং প্রতিটি ম্যাচেই হেরে যেতে থাকল।
কিন্তু রজার হাল ছেড়ে দিল না। সে আরও বেশী অনুশীলন করতে থাকল এবং আরও বেশী ম্যাচ খেলতে থাকল। বাম হাতের দুই আঙ্গুলে সার্জারি করার মাধ্যমে রজারের গ্রিপের উন্নতি হল এবং সে ওই বিশেষ র‍্যাকেটটি আরও শক্তভাবে ধরতে সমর্থ হল। এরে ফলে তার দক্ষতা অনেক গুনে বেড়ে গেল এবং সে আগের থেকে অনেক ভাল খেলতে শুরু করল। রজারের সামনে কোন রোল মডেল ছিল না বা তাকে গাইড করার মত কেউ ছিল না। কিন্তু টেনিসই তার ধ্যান জ্ঞান হয়ে গেল এবং পুরোটা সময় সে এই খেলার পিছনে দিতে থাকল। ফলে একসময় সে একটা দুইটা করে ম্যাচ জয় লাভ করা শুরু করল।
রজার কলেজ টেনিসে অংশ নেওয়া শুরু করল এবং সেখানে তার ক্যারিয়ার রেকর্ড ছিল ২২ টি জয় এবং ১১ টি হার। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রফেশনাল টেনিস অ্যাসোসিয়েশন তাকে টেনিস শিক্ষকের একটি সার্টিফিকেট প্রদান করে যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোন একজন প্রতিবন্ধি প্লেয়ার তা প্রথমবারের মত লাভ করে। রজার এখন সারা দেশে ঘুরে বেড়ায় এবং সবার কাছে- যত প্রতিবন্ধকতা থাকুক না কি করে জীবনে জয়ী হওয়া যায় সেই বিষয়ে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ায়।
রজার মানুষকে বলে, “আমার ও আপনার মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে এই যে আপনি আমার প্রতিবন্ধিতা দেখতে পান কিন্তু আমি আপনারটা দেখতে পাই না। আমাদের সবার মধ্যে কোন না কোনভাবে প্রতিবন্ধিতা রয়েছে। লোকে যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে যে আমি আমার শারীরিক প্রতিবন্ধিতাকে কিভাবে অতিক্রম করলাম তাদের আমি বলি আমি আসলে কোন কিছুকে অতিক্রম বা জয় করিনি। আমি শিখেছি যে কি করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়- পিয়ানো বাজাতে বা চপ স্টিক দিয়ে খেতে আমি পারি না। কিন্তু সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখেছি তা হল আমার পক্ষে কি করা সম্ভব। তারপর তা আমি মন প্রাণ ঢেলে করার চেষ্টা করি।”

রজার ক্রফোর্ড এর উইকিপিডিয়া লিংকঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Roger_Crawford
টুইটারঃ https://twitter.com/RogerCrawford
নিজের ওয়েবসাইটঃ http://www.rogercrawford.com/
লেখাটি অনুবাদ করা। মূল লেখার লিঙ্কঃ Click This Link

যদি আপনার এই লেখাটি পড়ে ভাল লাগে তবে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিন ও এ ধরনের অনেক পোস্ট পড়ুন।

আপনার শক্তিই সবচেয়ে বড় পুঁজি

0

বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি গরীব দেশ। যদিও এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃত আমাদের দেশ এখন কিন্তু তারপরও লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার অথবা সামান্য আয়ের কোন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ব্যবসা করতে চায় তাদের জন্য পুজির অভাব খুব বড় একটি সমস্যা।

অনেকেই আমাকে বলে যে তার পুঁজি নেই তাই তাকে দিয়ে কিছু হবে না। পুঁজি বলতে টাকাকে বুঝি আমরা। জীবনে যে কোন কিছু করতে হলে টাকা লাগে। তাই জীবনে অবশ্যই টাকার দরকার, এতে কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে টাকা না থাকলে আপনার সব কিছু শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু অনেকেই তা মনে করে এবং অন থেকে বিশ্বাস করে। ফলে তারা এক সময় মনের শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং ভাল কিছু করতে আগ্রহ পায় না। এতে করে তাদের নিজেদের যেমন ক্ষতি হয় তেমনি সমাজেরও ক্ষতি।

আমরা আসলে ভুলে যাই যে কোন কাজে সফল হতে হলে আপনাকে মন দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। মন দেয়া এবং চেষ্টা করা দুটিই দরকার। আর দরকার নিজের শক্তি খুজে বের করা। এই শক্তি হতে পারে সবচেয়ে বড় পুঁজি। আমার এ ধরনের কথার সঙ্গে অনেকে একমত হবেন না কিন্তু আমার মনে হয় যে আমাদের সমাজে অনেকেই কঠিন পরিশ্রম করে সামান্য অবস্থা থেকে অনেক ভাল করেছেন জীবনে।

আপনার জন্ম যদি ধনী পরিবারে না হয় তাহলে বাংলাদেশে প্রথম থেকেই আপনাকে অনেক সংগ্রাম করতে হবে, কষ্ট করতে হবে। অনেকবছর ধরে চাকুরি বা ব্যবসা করার পর তারপর একটা অংকের টাকা সঞ্চয় করতে পারবেন। তাই সবার আগে চিন্তা করুন আপনার শক্তি কোন দিকে। আপনি লেখাপড়ায় ভাল সেটি আপনার পুঁজি, আপনি বিক্রি করতে পারেন সেটি আপনার পুঁজি হতে পারে, টেকনিক্যাল দিকে আপনার আগ্রহ আছে এটিও পুঁজি হতে পারে।

আপনার শক্তি খুজে বের করা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তা করা খুব কঠিন নয় কারণ আপনি নিজেকে চেনেন। আপনার আগ্রহ কি আপনি জানেন, আপনার কি করতে ভাল লাগে এবং কি করতে পারেন এগুলো অজানা থাকার কথা নয়। একটু চিন্তা করলেই তা বুঝতে পারবেন। এর পর যা দরকার তাহল আপনার শক্তিকে শানিত করা অনুশীলনের মাধ্যমে।

শক্তিকে পুঁজি হিসেবে মনে করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মন থেকে এটি মনে করতে হবে। ধরা যাক আপনার কাছে কম্পিউটার, ফ্রিল্যান্সিং অথবা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ার মত টাকা নেই, ব্যবসা শুরু করার মত টাকা নেই। এর মানে যা করতে চান তার পুঁজি আপনার কাছে নেই। কিন্তু যদি আপনার আগ্রহ থাকে তাহলে আপনি একটা উপায় খুজে পাবেন। বিকল্প কিছু একটা পেয়ে যাবেন। এজন্য দরকার লেগে থাকার এবং কঠিন পরিশ্রম করার মানসিকতা। এভাবে চলতে চলতে এক সময় দেখবেন যে টাকার থেকেও বড় পুঁজি চলে এসেছে আপনার কাছে।

ই-ক্যাব নিয়ে গত ১ বছর ধরে আমি চেষ্টা চালিয়ে গেছি এবং সেখানে টাকা পয়সা আমার ছিল না। আমি লিখতে পারি এবং মানুষের সঙ্গে মিশতে পারি- এ দুটো ছিল আমার সবচেয়ে বড় পুঁজি। ফলে ফেইসবুক গ্রুপ, ব্লগ, স্কাইপ আড্ডা এগুলোর উপর ভর করে এগিয়েছি। আরেকটা জিনিশ ছিল আমার পুঁজি- প্রতিদিন প্রতি ঘণ্টায় চেষ্টা করে যাওয়া লেগে থাকা। এর ফলে ই-ক্যাব যেমন অনেক এগিয়েছে আমি নিজেও এগিয়েছি। এক বছরে প্রায় ৩০০ এর মত কোম্পানি যোগ দিয়েছে ই-ক্যাবের সঙ্গে আর এর সভাপতি হিসেবে আমি আজ অনেকের কাছে একজন পরিচিত ব্যক্তি।

তাই নিজের শক্তিশালি দিক খুজে বের করার চেষ্টা করুন। তারপর সেই শক্তিকে কাজে লাগান। এক বছরে দেখবেন অনেক এগিয়ে গেছেন। তবে একটি জিনিশকে আপনার পুঁজি করতেই হবে- সততা। এটি না থাকলে জীবনে ভাল করতে পারবেন না। পারলেও সুখী হবেন না।

আমি বলছি না যে টাকার দরকার নেই। টাকার অবশ্যই দরকার আছে এবং যে কোন ব্যবসা করতে হলে পুঁজি লাগবেই। কিন্তু এখন আপনার কাছে টাকা নেই বলে যদি আপনি উদ্যম হারিয়ে ফেলেন তাহলে জীবনে ভাল কিছু করা কঠিন হবে। টাকা না থাকলে তো আপনি বানাতে পারবেন না বা কেউ এসে আপনাকে দিয়ে যাবে না। কিন্তু যা আপনি বানাতে পারেন তাহল নিজের শক্তিশালী দিককে কাজে লাগিয়ে টাকা আয়ের চেষ্টা করা।

রিকশাওয়ালাদের জীবন বদলানোর গল্প

0

আমাদের সময়ে চয়নিকা বলে একটা বই ছিল ক্লাস থ্রি ফোরে। সেখানে রিকশা চালকদের সম্পর্কে একটা গল্প ছিল। ৩০ বছর আগের পড়া সেই গল্পটির হয়তো অনেক কিছুই ভুলে গেছি। যতটুকু মনে আছে তাই লিখছি।

বেশ কয়েকজন রিকশাওয়ালা সারাদিন রিকশা চালিয়ে সন্ধ্যা বেলায় একটা চায়ের দোকানে বসে চা খেত এবং সুখ দুঃখের গল্প করতো। ঘুরে ফিরে একই ধরনের কথা প্রায় সবাই বলতো। তারা রিকশা চালায় এবং সামান্য তাদের আয়। সেই আয় থেকে আবার একটা ভাল অংশ রিকশার মালিককে দিতে হতো এবং এরপর যা হাতে থাকতো তাই দিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হতো। এই দুরাবস্থা থেকে মুক্তি সবাই পেতে চায় কিন্তু এজন্য তো অনেক টাকা লাগবে। এমনকি নিজের রিকশা কিনতে পারলেই বোধহয় সবাই খুশি।

এক সময় তারা নিজেরাই স্থির করে যে প্রতিদিন ১ কাপ চা কম খাবে এবং এভাবে ১ টাকা করে জমাবেন। ৩০-৪০ জন মনে হয় সংখ্যায় ছিলেন। এভাবে প্রতিদিন টাকা জমিয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি রিকশা কিনে ফেলে তারা। এখন তাদের একজন ওই রিকশা ভাড়া নেয়। এভাবে তাদের আয় এবার আরও দ্রুত গতিতে জমতে থাকলো এবং পরের রিকশাটি আরও দ্রুত কেনা সম্ভব হল। কারণ এখন তাদের একদিকে ৩০ জনের এক টাকা এবং একটি রিকশা ভাড়া ১৫ টাকা আসা শুরু হল। আর দ্বিতীয় রিকশা আসার পর আয় হল ৬০ টাকা (সবাই এক টাকা করে ৩০ টাকা এবং দুটি রিকশার ভাড়া থেকে ১৫+১৫=৩০ টাকা)। ফলে বুঝতেই পারছেন যে তৃতীয় রিকশা আরও অল্প সময়ের মধ্যে চলে এল।

এভাবে এক বছরের মধ্যে সবার জন্য রিকশা হয়ে গেল। সমিতির জন্য জমি সহ অনেক কিছুই কেনা হল। বড় লোক না হলেও সবার জীবনেই স্বাচ্ছন্দ্য এল। সবার ছেলেমেয়ে এখন স্কুলে যায়। প্রত্যেকের নিজের রিকশা থেকে আয় আসে এবং কাউকে দৈনিক ভাড়া দিতে হয়না। তাই আয় আগের থেকে দিগুন বা তিনগুন হয়ে গেল। নিজের রিকশা থেকে আয়, ভাড়া দিতে হয়না সেই আয়, আবার সমিতির সম্পদ থেকে আয়। আয় বেড়েছে, শান্তি এসেছে এবং কিছুটা সুখও এসেছে মনে।

ছবি সূত্রঃ deviantart.com