মঙ্গলবার, আগস্ট ২২, ২০১৭

Inspiration

Inspiration

একজন নিরুর গল্প

0

আমাদের চারিপাশে হাজারো নিরুদের বাস , সকল নিরুকে নিয়ে লেখাতো আর সম্ভব নয় !!তবে  আজ আপনাদের এই হাজারো নিরুর মাঝে একজন নিরুর জীবনের উত্থান পতন এর গল্প বলবো…

 

আমাদের সমাজের একটি চলমান বাক্য আছে নারী মানেই ঘরের ভিতর থাকা , তাদের ঘরের বাহিরে যেতে নেই , আর যদিও কেউ সেই বাধা অমান্য করে যায় তাহলে তাকে মুখোমুখিহতে  হয় নানান রকম সমস্যার । তার উপর দারিদ্র ঘরে জন্ম নিলেতো কথাই নেই ।

 

নিরু ঠিক এমন ই একজন ,যার জন্ম আধো পাড়া গায়ের এক দারিদ্র পরিবারে। জন্মের পর থেকেই সংসারের অভাব আর সেই অভাবের তাড়নায় পড়া লেখা বন্ধ হয়ে যাওয়া ।না খেয়ে দিন পার করা , পরিবারে লেগে থাকা অসুখ আর বিনা চিকিৎসায় মরে যাওয়া একমাত্র ছোট ভাই । বাবা অন্যের জমিতে দিন মজুর খেটে যা পায় তা দিয়েই কোন ভাবে চলে সংসার । পরিবারে মা -বাবা আর নিরুরা ৪ বোন।৪ বোন এর মধ্যে নিরু সবার ছোট । ৪ মেয়ে হওয়ায় বাবা একটু রাগ , ছোট মেয়ে হওয়ার কারণে কিছুটা আদর পায় সবার কাছ থেকে । কিন্তু আদর দিয়েতো আর পেট ভরে না ? সব সময় বাবা কে বলে একদিন দেখো আমাদের এই অবস্থার পরিবর্তন হবে । সে দিন আমাদের আর কোন দুঃখ থাকবেনা , থাকবেনা কোন অভাব । আমাদের সেই এক বাড়ি হবে । বাবা করিম মিয়া এই সব শুনেও না শুনার ভাব করে থাকে , মাঝে মাঝে বলে ছেলেদের দ্বারা যেটা হয় না , আর তুই কিনা একটা মেয়ে হয়ে করবি বাড়ি । গাছে কাঠাল গোপে তেল । এই সব বাধ দিয়ে সংসারের কাজে তোর মাকে সময় দে, স্বামীর বাড়ি গিয়ে এই সব করতে হবে ।

 

নিরুর গায়ের রং ছিলো কালো , যার জন্য অনেকেই তাকে অন্য চোখে দেখতো , এমনকি অনেকেই সামনা সামনি বলেও দিতো ওই দেখো কালো পেত্নি আসছে । তাতে নিরুর কিছুটা মন খারাপ হলেও সে তার স্বপ্ন নিয়ে ভাবতো সারা দিন । কিভাবে দূর করা যায় পরিবারের এই অভাব । কিভাবে একটু সচ্ছল ভাবে বেচে থাকা যায় । এই ভাবে চলতে থাকে নিরুদের পরিবার , অবস্থার কোন পরিবর্তন নেই । এই দিকে দারিদ্রতার কারণে বড় বোনের বিয়ে টাও হচ্ছে না , ছেলের বাড়ির লোকেরা যৌতুক হিসাবে ৫০০০০টাকা চায় , যেখানে ৫০টাকা হলে তাদের পরিবারের একদিনের খরচ হয় , সেখানে ৫০০০০ হাজার টাকা ? নিরু বোনদের নিয়ে বসলো তারা নিজেরা কিছু করবে , তবে কি করবে তা এখনও সিদ্ধান্ত নেয় নি ।  কিছুদিন পর নিরু একটি এনজিওর অধীনে সেলাইর কাজ শিখলো । আর তার এই সেলাইর কাজ শিখা নিয়ে গ্রামের অনেকেই হাসা হাসি করা শুরু করলো , অনেকেই বলা শুরু করলো করিমের মেয়ে বড় লোক হবে … এই বলে তাকে ব্যঙ্গ করতে লাগলো ।

করিম মিয়া কাজ থেকে ফিরার সময় কে যেন কি বলেছিলো তাতে তার মাথা খারাপ ,  ঘরে এসেই নিরুকে বকাবকি শুরু করলো আর কোন কাজ নাই ? তোমাকে দর্জি হতে হবে ? আর উনি এই দর্জির কাজ করে কি এমন মহা কান্ড করবে , আমাদের টাকার সাগরে বাসাবে । এই সব বাধ দিয়ে ঘরে বসে থাকো । কোথাও যেতে হবে না ।

নিরু ঠান্ডা মাথায় বাবার কথার জবাব দিলো , বাবা আমরা না খেয় থাকলে আজ যারা তোমায় এমন কথা শুনিয়েছে তাদের কেউ কি খাবার এনে দেয় ? যেহেতু তারা দেয়না , তাহলে আমরা তাদের কথায় কান দিতে যাবো কেন ?

মেয়ের কথা শুনে করিম মিয়া আরু উৎত্তেজিত হয়ে পড়লো । এবংগায়ে হাত তুললো ।

নিরু অনেক কান্না করলো , কারণ এর আগে কোন দিন তার গায়ে কেউ হাত তোলে নাই । নিরুর জিদ আরো বেড়ে গেল ।  সে তার স্বপ্নের পিছনে সময় দিতে লাগলো । কিছুদিন যেতেই নিরু একটা সেলাই মেশিন কিনে ঘরে বসেই সেলাইর কাজ শুরু করে দিলো । এবং তার বাকি বোনদের কেউ সেলাইর কাজ শিখাতে শুরু করলো । নিরুর ইচ্ছে বাজার থেকে কাপড় কিনে সেই কাপড়ে নতুন ডিজাইনের জামা বানিয়ে বাজারে সেল করবে । সেই লক্ষে তার বোনদের কে এক এক জনকে এক দিকে শিখাচ্ছে । ।গ্রামের মোড়ল থেকে টাকা ধার নিয়ে আর কিছু টাকা জমিয়ে  আরো ২ টা মেশিন এবং কিছু  কাপড় কিনে আনলো । ৪ বোন মিলে কেউ কাপড় গুলো কাটছে কেউ সেলাই করছে আর নিরু হাতের কাজ এবং কাপড় গুলোর সকল দিক দেখছে । প্রথম বার বেশ কিছু টাকা লাভ করলো , আর তাতে নিরুর সাহস আরো বেড়ে  গেলো এবং একটু বেশি করে কাপড় কিনে আনলো ।সমস্যাটা এইবার হলো , নিরু যে দোকান গুলোতে তার তৈরি করা জামা গুলো বিক্রয় করে সেই দোকান দার গন তার টাকা গুলো আটকি য়ে দিলো । অনেকের কাছেই গিয়েছে কিন্তু কোন আশানুরূপ ফল আসে নি । সবাই ফিরিয়ে দিয়েছে , সবার একটাই কথা এই মেয়ে মিথ্যা বলছে । সবাই নিরুর বিপক্ষে যাওয়ার একটা কারণ ছিল যে নিরু গরীব আর ওরা অনেক টাকার মালিক । এতে করে নিরু আবার হতাশায় পড়ে গেলো এখন কি করবে ? কিছুদিন বিরতীর পর নিরু আবার নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত করলো । কিন্তু তাতে নিরুর বাকি ৩ বোন রাজি হলো না । তাতে কি নিরু থেমে থাকার লোক নয় ।তাই সে নিজেই চেষ্টা চালিয়ে গেলো , দিন রাত পরিশ্রম করা শুরু করলো ।এবং এইবারেরতৈরি করা জামা আর সে তাদের স্থানী বাজারে বিক্রয় না করে , শহরেরর উদ্দেশ্যে নিয়ে আসলো , এবং কিছু দোকানিকে দেখানোর পর তারা তার তৈরি পোশাক গুলো পচন্দ করলো ।এবং তার কাজের প্রশংসা ও করলো । সব চেয়ে বড় ব্যাপার ঘটলো নিরুর টার্গেটের বাহিরে চলে গেলো দাম । মানে সে যেই দাম আশা করেছিলো তার থেকেও বেশি টাকা বিক্রয় হয়েছে । এবং ৩ জন দোকানদার তাকে কিছু অ্যাডভান্স দিয়ে আরো নতুন কিছ পোষাকের অর্ডার করলো ।শুরু হলো নিরুর নতুন জীবন ।  সে বাড়ি এসে বোন দের সাথে এই বিষয়ে বসলো এবং পনুরায় সবাই মিলে কাজ শুরু করলো । একটা সময় নিরু তার সেই স্বপ্নের জীবন উপভোগ করতে লাগলো । আজ আর তাদের অভাব নেই নেই কোন ক্ষুদার আর্তনাধ ।  তৈরি করা হলো নিরুর সেই স্বপ্নের বাড়ি ।

 

 

আসলে কি জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য গায়ের রং , সাইজ , এমন কি মোটা অংকের টাকার প্রয়োজন নেই ,যদি আপনার সৎ সাহস , একটি সুন্দর স্বপ্ন  এবং কঠোর পরিশ্রম করার মন মানসিকতা । আর তাহলেই আপনার জীবনে সফলতা নামক সেই সোনার হরিণের দেখা মিলবে ।

লেখাটা অনেক দিন আগে থেকেই লিখবো ভাবছিলাম , কিন্তু ব্যাস্তার কারণে হযে ওঠা হয়নি , আর মূল কথা গল্পটাকে আমি ছোট করে লিখেছি ।

ছবি সূত্রঃ www.pageresource.com

যদি আপনার এই লেখাটি পড়ে ভাল লাগে তবে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিন ও এ ধরনের অনেক পোস্ট পড়ুন।

শুন্য থেকে সেরা হবো কিভাবে?

0

আমরা সেরা হতে চাই, অন্তত স্বপ্ন দেখি যে অনেক ভাল কিছু করবো এবং বড় হবো। কেউ ডাক্তার, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার, খেলোয়াড়, সিনেমার নায়ক হতে চায় এবং সেরা হতে চায়, ভাল কিছু করতে চায় জীবনে। কিন্তু বাস্তবতা হল খুব কম লোক ভাল কিছু করতে পারে আমাদের সমাজে। তাই হতাশায় কাটে আমাদের অনেকের জীবন। সবচেয়ে খারাপ দিক হল অল্প বয়সে অনেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে তাদের দিয়ে ভাল কিছু হবে না। মূলত তাদের জন্যই আমার এই লেখাটি।

001

গত এক বছরে অনেক তরুন তরুণীর সঙ্গে ফেইসবুকে, মোবাইল ফোনে, স্কাইপে এবং সামনা সামনি আমার কথা হয়েছে। তাদের থেকে যে ধরনের হতাশাজনক বাক্য শুনেছি তার মধ্যে কিছু হল এমনঃ

১। আমি কোন পাবলিক (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং ঢাকা মেডিক্যাল) বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় টিকিনি তাই আমার জীবনে আর কিছু হবে না।

২। আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তাই আমার কোন ভবিষ্যৎ নেই।

৩। আর্টস নিয়ে পড়ছি তাই জীবন এখানেই শেষ।

৪। আমি অনেক চেষ্টা করেও কোন চাকুরী পাইনি গত ১ বছরে তাই সারা জীবন বেকার থাকতে হবে।

৫। ফ্রিল্যান্সিং করার চেষ্টা করছি এবং প্রতিদিন বিড করি কিন্তু একটাও প্রোজেক্ট পাইনি।

এসব কারনে হতাশা আসা স্বাভাবিক এবং অযৌক্তিক নয়। কিন্তু যা মনে রাখা দরকার তাহল জীবনে হাল ছেড়ে দিলে কোন লাভ হবে না। বরং খারাপ অবস্থার মধ্যেও চেষ্টা করে যেতে হবে। আর চেষ্টা না করলে নিশ্চয়ই অবস্থার উন্নতি হবে না।

আসলে খারাপ অবস্থায় নিজের মনকে শান্ত, শক্ত ও স্বাভাবিক করতে পারাটাই যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ধাপ। যারা এটা করতে পারে তাদের জন্য পরের অংশটা অনেক সহজ হয়ে যায়। ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে তার জন্য আজ থেকেই চেষ্টা করা শুরু করে দিন।

ঠিক আছে ধরা যাক আমার লেখার এই অংশটুকু পড়ে আপনি পটে গেছেন এবং মনকে শান্ত, শক্ত ও স্বাভাবিক করতে পেরেছেন। এর পর কি করতে হবে? এর পর যা করতে হবে তাহল কি করতে চান, কি লক্ষ্য বা কি স্বপ্ন তা স্থির করা। তবে আপনার অনেক টাকা হবে সে স্বপ্ন দেখবেন না। টাকা পেতে হলে আপনাকে কিছু একটা করতে হবে এবং সেদিকে দক্ষ হতে হবে। তাই কোন কাজে দক্ষ হলে এবং পরিশ্রম করতে পারলে টাকা এমনিতেই আসে। ঢাকাতে অনেক চা বিক্রেতা এবং চটপটি বিক্রেতা মাসে ৫০,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা আয় করছেন।

আপনি হয়তো স্থির করতে পেরেছেন কি করতে চান। এর পরের ধাপ হল যা করতে চান সেদিকে শেখার চেষ্টা করেন। ইন্টারনেটের যুগে প্রায় সব বিষয়ের উপর ওয়েবসাইট আছে এবং অনেক কিছু শেখা সম্ভব প্রায় বিনামূল্যে। এজন্য অবশ্য একটু ইংরেজি জানা দরকার আগে এবং তাও শেখার জন্য অনেক কিছু আছে।

পড়ার অভ্যাস থাকা খুব জরুরী। বাংলাদেশে বেশীরভাগ মানুষ মনে করে যে মাস্টার্স পাস করার পর আর নতুন করে পড়ার দরকার নেই। অথচ আমাদের মনে রাখা উচিত যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা পড়ি পরিক্ষা পাসের জন্য আর এর পর আমরা পড়ি পেশাগত জীবনে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য যা আমাদের বাড়তি টাকা এনে দিতে পারে।

পড়ার পাশাপাসি আরেকটি জিনিশ দরকার তাহল প্রতিদিন সময় দিয়ে অনুশীলন বা প্র্যাকটিস করা। আপনি যে দিকে দক্ষ হতে চান, সেরা হতে চান সেদিকে আপনাকে প্রতিদিন সময় দিতে হবে প্র্যাকটিস করার জন্য। হতাশ না হয়ে ৮-১০ ঘণ্টা করে সময় দেবার চেষ্টা করুন এবং দেখবেন ৬ মাসে অন্যরকম দক্ষতা এসে গেছে আপনার মধ্যে। যে কোন দিকেই আপনি ভাল এক ধরনের উন্নতি দেখতে পাবেন ৬ মাসের মধ্যে। আর ১ বছর নিয়মিত লেগে থাকলে অনেক উন্নতি করবেন।

তবে এজন্য আপনাকে অনেক কিছু বাদ দিতে হবে, আত্মত্যাগ করতে হবে। বিনোদন এর পরিমান কমাতে হবে। মন দিয়ে ৮-১০ ঘণ্টা প্রতিদিন এবং দিনের পর দিন লেগে থাকা কঠিন এটি আমি মানি। তবে এর কোন বিকল্প নেই। অবশ্য আজ থেকেই আপনি ৮ ঘণ্টা মন দিয়ে কিছু করতে পারবেন তা নয়। বরং চেষ্টা করুন ১ ঘণ্টা সব ভুলে গিয়ে একদিকে মন দিয়ে কাজ করার, অনুশীলন করার। ১ ঘণ্টা থেকে একটু একটু করে সময় বাড়ান এবং দেখবেন ১ মাসের মধ্যে ৩-৪ ঘণ্টা আমি মন দিয়ে কিছু করতে পারছেন একাগ্রচিত্তে। আর এভাবে প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা কাজ করার অভ্যাস করতে হয়তো ৩ মাস লাগবে।

বাংলাদেশে আমরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবার, সমাজ, বন্ধু, আত্বীয়, সহপাঠী, প্রতিবেশি থেকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য, বিদ্রূপ, হিংসা- এসবের স্বীকার হই অনেক বেশি। সেই তুলনায় প্রশংসা, উৎসাহ ও সহযোগিতা তেমন পাই না। তাই যখন সব কিছু ফেলে আপনি একদিকে চেষ্টা করে যাবেন তখন নানা ধরনের সমস্যায় পরবেন চার পাশের মানুষের কারনে। অনেকে আপনাকে পাগল মনে করবে, অনেকে বাঁধা দেবার চেষ্টা করবেন, অনেকে আপনাকে নিয়ে ফালতু কথা বলবে। এসবকে পাত্তা দেবেন না। বরং একটু একটু করে এগিয়ে যান।

এক বছর পর দেখবেন অনেকেই আপনার প্রশংসা করছে। অনেকে আপনাকে সমীহ করে চলছে। আসলে লড়াইয়ের ৯০% শতাংশ আপনার নিজের সঙ্গে। আপনি যদি এ দিকে জয়ী হতে পারেন তাহলে বাকি ১০% কোন ব্যপার হবে না।

১ বছর চেষ্টা করলেই কি আমি শুন্য থেকে সেরা হয়ে যাবো? না মনে হয়। তবে সেরা হবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে চলে আসবেন। আমার নিজের একটা উদাহরণ দেই। ধরা যাক এই আজ ২০ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে আমি এই পোস্ট লিখলাম। এরপর আমি সহ আমরা কয়েকজন ফেইসবুকে শেয়ার করলাম এবং লেখাটি আগামী কয়েকদিনে ১০০০ বার এর মত পড়া হল। এখন হয়তো এতেই আমি ভীষণ আনন্দিত হবো কারণ একটি লেখা হাজার বার পড়া হলে তা নিজের কাছে এক ধরনের সন্তুষ্টি নিয়ে আসবে। কিন্তু চেষ্টা করে গেলে হয়তো এক বছর পর এই লেখাটি ১০,০০০ বার পড়া হতে পারে। অর্থাৎ সেরা থেকে আরও সেরা হবার রাস্তা সব সময় ফাঁকা আছে।

তাহলে এতক্ষণ যা বললাম তার একটা সারাংশ টানিঃ

১। আজকেই সিদ্ধান্ত নিন এবং নিজের মনে বারবার বলুন যে অবস্থা যত খারাপ থাকুক না কেন আপনি চেষ্টা করে যাবেন।

২। কোন দিকে দক্ষ হবার চেষ্টা করবেন তা স্থির করুন। লাগলে একটু সময় নিয়ে পরিকল্পনা করুন।

৩। পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং যেদিকে দক্ষ হতে চান সেদিকে যতটা সম্ভব পড়ার ও জানার চেষ্টা করুন।

৪। প্রতিদিন মাত্র ১ ঘণ্টা সব বাদ দিয়ে মন দিয়ে অনুশীলন করুন এবং ৩ মাসে হয়তো ১০ ঘণ্টা তা করতে পারবেন।

৫। অন্যদের ফালতু কথাকে পাত্তা দেবেন না।

৬। এক বছর লেগে থাকুন এবং দেখবেন অনেক উন্নতি হয়েছে।

তাহলে আজ থেকেই চেষ্টা শুরু করে দিন। আমিও শুরু করলাম আজ থেকে এই চেষ্টা যে এই ওয়েবসাইটে নিয়মিত লিখবো আপনাদের জন্য।

ছবি সূত্রঃ flickr.com

লড়াই যখন নিজের সঙ্গে

0
Believe yourself, Colorful words on blackboard.

গত পরশু রাতে (২২ নভেম্বর ২০১৫) এক মারাত্বক দুর্ঘটনার শিকার হই এবং ভাগ্য ভাল যে অনেক অল্পের উপর দিয়ে গেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় অনেক বেশি ক্ষতি হতে পারতো। তারপর গতকাল বেশ কিছু টেস্ট এবং আজ রেজাল্ট পেয়ে যা বুঝলাম যে শরীর তেমন ভাল নেই। ৪০+ বয়সে এসে এমনিতেই সবার উচিত নিজের যত্ন নেয়া। কিন্তু আজ পর্যন্ত এটিই আমি সবচেয়ে বেশি কম করেছি, বা নিজের যত্ন নেবার সুযোগ পেয়েছি। আর এর সঙ্গে গত এক বছর ধরে দিন রাত একটি স্বপ্নের পেছনে ছুটে গেছি বলে শরীরের উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে। এখন এমন একটা অবস্থায় এসেছি যেখানে নিজের শরীরের যত্ন নিতে হবেই না হলে খুব অল্প বয়সে বিছানায় পরে যাবো।

Believe yourself, Colorful words on blackboard.
Believe yourself, Colorful words on blackboard.

অনেক গুলো বছর ধরে নানা রকম ভেজাল, টেনশন পার হয়েছি, অতিক্রম করেছি অনেক খারাপ সময়। কখনো এগিয়ে গেছি, কখনো বা হেরে গেছি। একেক সময় একেক ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এবারে যে সমস্যার মধ্যে পড়েছি তাহল নিজের শরীরের যত্ন নেবার, নিজের দিকে লক্ষ্য রাখার। এটি খুব কঠিন হবার কথা নয় তবে আমার জন্য বেশ কঠিন কারণ আমার এ ধরনের অভ্যাস বা অভিজ্ঞতা কোনটাই নেই। বরং সব সময় নিজের শরীর ও মনকে বাজি রেখে কোন স্বপ্নের পেছনে ছোটার অভিজ্ঞতা রয়েছে অনেক। তাই এখন যা করতে হবে তাহল যা পারি না তা করতে হবে এবং যা পারি তার বিপরীত কিছু করতে হবে।

ঠিক মত খাওয়া, ঠিক মত বিশ্রাম, নিয়মিত ঘুমানো এগুলো আমার জন্য বেশ কঠিন। এমন না যে আমার কোন রকম কোন খারাপ নেশা ছিল বা আছে। জীবনের বাস্তবতা বেশীরভাগ সময়ে আমার বিপক্ষে ছিল এবং সেই সঙ্গে বড় কিছু করার স্বপ্ন ছিল। ফলে যতটা সময় পেয়েছি তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি নতুন কিছু শিখতে এবং কাজ করতে। এর ফলে শরীরের প্রতি যত্ন নেবার অভ্যাস আর গড়ে উঠেনি বরং শরীরের বারোটা বাজানোর অভ্যাস গড়ে উঠেছে ভাল মত।

এখন আমাকে এমন কিছু করতে হবে যা আমার স্বভাবের উল্টো। তবে ভাল স্বাস্থ্য, শারীরিক আরাম, বিশ্রাম, এগুলোর একটা ভাল দিক হল মনে আনন্দ নিয়ে আসে। আপনি ঠিক মত ১০ ঘণ্টা ঘুমান এবং এর পর ঘুম থেকে উঠে দেখবেন যে অনেক ভাল লাগছে। গত একটা বছর আসলে সব দিকেই খুব কঠিন একটা সময় পার হয়েছি। তবে এই এক বছরের অভিজ্ঞতা আমাকে খুব বড় একটা জিনিশ শিখিয়েছে- লেগে থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব।

মুলত এই অভিজ্ঞতা আমাকে আশাবাদী হতে শিখিয়েছে। আমি জানি একটু একটু করে প্রতিদিন চেষ্টা করলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। এক বছরে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে এবং অনেক কিছু করা সম্ভব।

আরেকটা জিনিস শিখেছি- মানুষের শুভ কামনার মুল্য। আপনার সঙ্গে যদি অনেক মানুষের শুভ কামনা থাকে তাহলে জীবনে এগিয়ে চলা সহজ হয়।

এখন থেকে চেষ্টা করবো নিজের যত্ন নিতে এবং একই সঙ্গে চেষ্টা করবো এনকারেজবিডিতে এ নিয়ে নিয়মিত লিখতে। ডায়েট, ব্যায়াম, টেনশন থেকে দূরে থাকা এসব খুব দরকার। এগুলো নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো।

সুইডিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা ইংমার বার্গম্যান এর সুইডিশ চলচ্চিত্রঃ “ Wild Strawberries ”

0

লেখকঃ নাজমুল হাসান মজুমদার

সুইডিশ চলচ্চিত্র “ Wild Strawberries ” পরিচালক ইংমার বার্গম্যান এর অসাধারণ এক লেখা অবলম্বনে নির্মিত ১৯৫৯ সালে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র । ছবির গল্প বেড়ে ওঠে ডাক্তার ইশাক বর্গ’কে ঘিরে । ডাক্তার ইশাক বর্গ’ তার সফল কর্মময় জীবনের জন্যে সম্মানসূচক ডিগ্রি’তে মনোনীত হন । এরপর ছবির গল্পের মোড় একদম অন্যভাবে চলতে থাকে । ছবিজুড়ে পরিচালকের মুনশিয়ানা চোখে দেখার মতন । এত আগে এত অল্প প্রযুক্তির স্পর্শ পাওয়া একজন মানুষ কিভাবে ছবির প্রাণ দিতে হয় তা দেখিয়েছেন সফলতার সাথে । ছবিটি পুরোটা দেখে ওঠার পর মনে হবে এই ছবি না দেখে থাকলে অসম্পূর্ণ থেকে যেতো চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জীবন ।

জানালার কাচ গলে যে রোদ আসে, সেই রোদ সব বয়সে একরকমভাবে গায়ে লাগেনা । তেমনি করে সবসময় মানুষের জীবন একই গতিপথ অনুসরণ করে চলেনা । দেহের দেয়ালের ভেতর মানুষের যে মন আছে সেই মনেও দেহের বার্ধক্যের মত একসময় বার্ধক্য এসে জমাট বাঁধে বয়সের সাথে । তখন সময়টা খুব একটা নতুন কিছু দিতে পারেনা , আর সেই অলস সময়গুলোতেই মানুষকে ধরে বসে অতীতের স্মৃতিচারণা । কখনো একান্তই , কখনোবা নিকট ঘনিষ্ঠ কিংবা অপরিচিত কারো কাছে খুলে বসে স্মৃতির ডালপালা ।

শুন্য শহরে ইশাক বর্গ যখন শহরে হাঁটছে ঠিক তখন তার সামনের লোককে ধরতে গিয়ে দেখল তার শরীর জুড়ে রক্ত জড়ছে , আসলে লোকটি মৃত । কিছুক্ষণ পর মনুষ্যবিহীন একটি ঘোড়ার গাড়ি তার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ঘোড়ার গাড়ির একটি চাকা ল্যাম্পপোস্টের সাথে বারি লেগে খুলে গিয়ে তার দিকে ছুটে আসে । এক মুহূর্তে যেন দ্বিধান্বিত হয়ে যায় বৃদ্ধ ইশাক বর্গ । কিছুক্ষণ পর ভাঙ্গা ঘোড়ার গাড়িটি ছুটে যায় আর ফেলে যায় একটা কফিন । সেই কফিনে যে তারই চেহারার প্রতিরুপ একজন, আর তাকে হাত ধরে সেই কফিনে টানছে । এ ধরণের সব অদ্ভুত স্বপ্ন এখন তার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে ।

একটা ভ্রমণ যেন জীবন, যার গন্তব্য বন্ধুর । নিজের ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবনের এক ভ্রমণ , আর তার মাঝে কিছু অদ্ভুত সমীকরণ চলচ্চিত্রের পরতে পরতে স্থান পেয়েছে । ছবিজুড়ে যেন শিল্পের ছোঁয়া , সম্পর্কের দূরত্ব ফুটে ওঠে ছেলের সাথে পরিবারের কর্তার । সব এক সরল অঙ্কে আবদ্ধ হতে থাকে । আলো-ছায়ার চমৎকার কিছু খেলা , তার মাঝে অসাধারণ দৃশ্যায়নের কাজ একটা ঘোরের ভেতর দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যায় ছবিজুড়ে । যেখানে একটু পরে মনে হবে গল্পটা এভাবে যাবে , ঠিক তার পরে গল্পের গভীরতা আরও বেশি জীবন ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠবে । ছবিতে ঘোড়ার গাড়ির সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিটি দৃশ্যের কিংবা মোটর গাড়ির দৃশ্য এবং নিজের পরিবারের সাথে সময় কাটানো মুহূর্তগুলো একটু একটু করে দর্শকের মনের ভেতর দাগ চিরে নিবে । এক প্রফেসর ডাক্তারের জীবন এর মধ্যে দিয়ে ছবির ফ্রেমে ফুটে উঠে যেন জীবনের বৈচিত্র্য ।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা Victor Sjöström এ চলচ্চিত্রের জন্যে “এনবিআর বেস্ট এক্টর” পুরস্কার পান, আর ৯১ মিনিটের চলচ্চিত্রটি ১৯৬০ সালে “গোল্ডেন গ্লোব” পুরস্কার পায় বিদেশি ভাষা চলচ্চিত্র বিভাগে এবং অষ্টম বার্লিন আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পায় সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার। নির্মাতা ইংমার বার্গম্যান এর ১৩ টি চলচ্চিত্র আইএমডিবি রেটিং এ ৮ এর ওপর । এক বসায় এই চলচ্চিত্র দেখাও একটা চ্যালেঞ্জ

দ্যা সাউন্ড অভ মিউজিকঃ ভন ট্র্যাপ পরিবারের সংগ্রামের অজানা ইতিহাস (১)

0

যদি হলিউডের সর্বকালের সেরা ছবির তালিকা তৈরি করা হয় তার মধ্যে যে ছবিটির নাম অবশ্যই উঠে আসবে তা হলো “দ্যা সাউন্ড অভ মিউজিক।” খুবই সুন্দর একটি ছবি। যারা দেখেন নি তারা দেখে নিতে পারেন। সত্যিকার অর্থেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপভোগ করা যায় এমন একটি ছবি। আমার আজকের লেখা এ ছবিটিকে নিয়ে নয়। যাদের উপর নির্ভর করে এ ছবিটি তৈরি করা হয়েছে তাদের নিয়েই এ লেখা।1 TSoM

Source: Croatia.org

মানুষের জীবন সিনেমার চেয়েও বিচিত্র। জীবন সবসময় একই গতিতে চলে না। জীবনের উত্থান পতন মানুষকে কোথায় নিয়ে যায় তা বলা যায় না। আজ যে ধনী কাল সে সব হারিয়ে ভবঘুরে হয়ে যেতে পারে। এ কথাটা ফালতু প্যাচালের মতো শোনালেও এ কাহিনীতে সত্যি সেটাই ঘটেছে। কিন্তু মানুষ লড়াই করে বেঁচে থাকে এবং নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য গড়ে নেয়। জীবনে উত্থান-পতন আছে কিন্তু সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

দ্যা সাউন্ড অভ মিউজিক” ছবিটি একটি গায়ক পরিবারের উপরে নির্মিত। ভন ট্র্যাপ পরিবারের সদস্যরা মিলে একটি গানের গ্রুপ গড়ে তোলে এবং তারা বিভিন্ন জায়গায় সঙ্গীত পরিবেশন করে বেড়ায়। এ পরিবারের কর্ত্রী মারিয়া অগাস্টা ভন ট্র্যাপ ১৯৪৯ সালে তার পরিবারের উপরে একটি বই প্রকাশ করেন “The Story of the Trapp Family Singers”।  এ বইয়ের উপরেই ভিত্তি করে “দ্যা সাউন্ড অভ মিউজিক” ছবিটি নির্মিত হয়। আমার এ পোস্ট ভন ট্র্যাপ পরিবার এবং তাদের উত্থান-পতন নিয়েই।

2trapp

এ কাহিনীর নায়ক গেওর্গ জোহান্নেস রিট্টার ভন ট্র্যাপ সব দিক থেকেই সফল একজন মানুষ।  অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির এক বনেদি পরিবারের সন্তান। ১৮৬৭ সালে অস্ট্রিয়া এবং হাঙ্গেরির রাজবংশ মিলে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের সৃষ্টি করে। ১৯১৮ পর্যন্ত এ সাম্রাজ্য টিকে ছিল।প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে এ সাম্রাজ্য ভেঙ্গে বর্তমানে অস্ট্রিয়া, পোল্যাণ্ড, হাঙ্গেরি সহ আরো বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। গেওর্গ ভন ট্র্যাপ ইম্পেরিয়াল অ্যাণ্ড রয়্যাল অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান নেভির খুবই সফল একজন অফিসার ছিলেন। ১৯১১ সালে গেওর্গ বিখ্যাত ইংলিশ ইঞ্জিনিয়ার এবং আধুনিক টর্পেডোর আবিস্কারক রবার্ট হোয়াইট হেড এর নাতনী আগাথা হোয়াইট হেডকে বিয়ে করেন। পরিবার থেকে উত্তরাধিকার সূত্র আগাথা ভাল সম্পত্তি ও টাকা-পয়সা পান। আগাথা এবং গেওর্গ একে অন্যকে খুবই ভালবাসতেন। তাদের দুই ছেলে এবং পাঁচ মেয়ে ছিল।

3kids1

Source: Plymouth State University

১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার সাথে সাথে ভন ট্র্যাপ পরিবারের দূর্দিনের সূচনা হয়। প্রথমে  পরাজিত হয়ে অস্ট্রো-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য ভেঙ্গে যায় এবং তাদের নৌ-বাহিনীকেও বিলুপ্ত করে দেয়া হয়। এর চার বছর পরে ১৯২২ সালে আগাথা স্কার্লেট ফিভারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নৌ-বাহিনীর বিলুপ্তি এবং স্ত্রীর মৃত্যুতে গেওর্গ ভীষণভাবে ভেঙ্গে পড়েন। নৌ-বাহিনী ছিল গেওর্গের জীবন। এর বাইরে তিনি কোন কিছুই ভাবতে পারতেন না। নৌ-বাহিনীর চাকরি শেষ হয়ে যাবার পরে আর কোন কাজে তিনি মন দিতে পারেন নি।

4 Villa Trapp

Source: Villa Trapp.com

স্ত্রীর মৃত্যুর পরে গেওর্গ স্যালজবুর্গের একটি বাড়িতে (উপরের ছবিতে) এসে বসবাস করতে থাকেন। বাড়ীর অবস্থা দেখেই বুঝতে পারছেন যে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালই ছিল। বড় বাড়ী চাকর-বাকর টাকা পয়সা কোন কিছুরই অভাব ছিল না।

5 Maria Von Trapp

এ কাহিনীর নায়িকা মারিয়া অগাস্টা কুচেরা ১৯২৬ সালে গেওর্গের এক মেয়ের শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত হন। মারিয়া চার্চের একজন স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন এবং তিনি নান হবার দীক্ষা নিচ্ছিলেন।“দ্যা সাউন্ড অভ মিউজিক” ছবিতে দেখান হয় যে মারিয়া গেওর্গ ভন ট্র্যাপ এর বাড়িতে যান এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার সন্তানদের আপন করে নেন। এক পর্যায়ে গেওর্গ ভন ট্র্যাপ ও মারিয়া একে অন্যের প্রেমে পড়ে যায় এবং বিয়ে করেন।

6 wedding

কিন্তু বাস্তবে তা হয় নি। গেওর্গের সন্তানদের সাথে মারিয়ার খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। এটি লক্ষ্য করেই গেওর্গ ১৯২৭ সালে মারিয়াকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। গেওর্গের বয়স তখন ৪৭ এবং মারিয়া ২২ বছরের এক তরুণী। তাদের মধ্যে কোন প্রেম-ভালবাসা কিছুই ছিল না। গেওর্গের প্রস্তাবে মারিয়া ভয় পেয়ে চার্চে ফিরে যান। চার্চের প্রধান তখন মারিয়াকে এ বিয়ে করার অনুমতি দেন। সেই অনুযায়ী মারিয়া তখন গেওর্গকে বিয়ে করেন। মারিয়া নিজেই পরে তার বইতে লিখেছেন, “গেওর্গকে আমি ভালবাসিনি কখনো। আমি তার সন্তানদের ভালবেসে ফেলেছিলাম। এক অর্থে বলতে গেলে আমি গেওর্গকে নয় তার সন্তানদের ভালবেসে বিয়ে করেছিলাম।” বিয়ের পরে মারিয়ার নাম হয়ে গেল মারিয়া ভন ট্র্যাপ।

7jlie-large

Source: BBC

“দ্যা সাউন্ড অভ মিউজিক” ছবিতে অভিনেত্রী জুলি অ্যান্ড্রুজ মারিয়া ভন ট্র্যাপ এর চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবির মারিয়া খুব চমৎকার সহজ-সরল মনের একজন মেয়ে হিসেবে যে সবাইকে ভালবাসে, কাছে টানে, এবং তার হাসি আর সুন্দর ব্যবহার ভন ট্র্যাপ এর সন্তানদের মন জয় করে নেয়।

8SoundofMusic

Source: Blu-ray Definition.com

ক্যাপটেন ভন ট্র্যাপ এর চরিত্রে অভিনয় করেন আরেক বিখ্যাত অভিনেতা ক্রিস্টোফার প্লামার। ছবিতে দেখান হয় যে, ক্যাপ্টেন ভন ট্র্যাপ কঠোর মনের হৃদয়হীন একজন মানুষ। তার সন্তানরা তাঁর কাছে আসতে ভয় পেত। তিনি তাদেরকে সবসময়ে শাসনের উপরে রাখতেন।

কিন্তু বাস্তব ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। বাস্তবের মারিয়া ভন ট্র্যাপ খুবই রাগী এবং একরোখা স্বভাবের। হঠাৎ করেই তিনি রেগে যেতেন। একই সাথে মারিয়া খুবই চঞ্চল স্বভাবের ছিলেন। একবার যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে তিনি কিছু করবেন তাহলে সেটা করেই ছাড়বেন। গেওর্গের সন্তানরা মারিয়াকে পছন্দ করত ঠিকই কিন্তু তাদের মায়ের জায়গায় তারা মারিয়াকে মেনে নিতে পারে নি। অন্যদিকে গেওর্গ ভন ট্র্যাপ ছিলেন খুবই ধীর স্থির এবং শান্ত মনের মানুষ। সন্তানদের তিনি ভীষণ ভালবাসতেন। তিনি ছিলেন একজন সঙ্গীতপ্রেমী। গেওর্গকে প্রথম দিকে স্বামী হিসেবে পছন্দ না হলেও আস্তে আস্তে মারিয়া তাকে ভালবেসে ফেলেন। মারিয়া হুটহাট করে রাগের মাথায় কান্ড করে বসতেন এবং গেওর্গ ধৈর্য ধরে মারিয়াকে সামাল দিতেন। গেওর্গ মারিয়ার জন্যে এক বিশাল আশ্রয় হয়ে ওঠে। গেওর্গ এবং মারিয়ার তিনটি সন্তান হয়- দুই মেয়ে ও এক ছেলে।

9rrapp_f

Source: The Brunei Times

কিন্তু মায়ের মৃত্যু, সৎ মা এখানেই দুর্ভাগ্য থেমে থাকেনি ভন ট্র্যাপ পরিবারের। ১৯৩০ এর দশকে বিশ্বব্যাপী মন্দা হয় এবং তখন অস্ট্রিয়ার ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়ে যায়। গেওর্গের প্রথম স্ত্রীর অর্থ এ ব্যাঙ্কে জমা ছিল। এ অর্থ হারিয়ে ভন ট্র্যাপ পরিবারের করুণ দশা হয়। তাদের সব চাকর-বাকর বিদায় দেয়া হয়। পরিবারের বয়স্ক ছেলেমেয়েরা মিলে ঘরের কাজ করত। একই সাথে তাদের বাড়ীতে রুম ভাড়া দেয়া শুরু করল। কিন্তু তা দিয়ে যা আয় হতো তা যথেষ্ট ছিল না। মারিয়া তখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে, পরিবারের বাচ্চাদের নিয়ে একটি গানের গ্রুপ চালু করবেন এবং বিভিন্ন স্থানীয় অনুষ্ঠানে গান গাইবেন। গেওর্গের জন্যে এটা ছিল খুবই অপমানজনক। কারণ এতে তার সামাজিক অবস্থান নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কিছুই করার ছিল না। ততদিনে মারিয়া দুইটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে। মোট নয়টি ছেলেমেয়ের ভরণপোষণ বিশাল খরচ।

১৯৩৮ সালে নাৎসি জার্মানী অস্ট্রিয়া দখল করার পরে ভন ট্র্যাপ পরিবারের দূর্দশা চরমে পৌছাল। জার্মান নেভি তখন গেওর্গ ভন ট্র্যাপকে চাপ দিচ্ছিল তাদের নৌ-বাহিনীতে যোগ দেবার জন্যে। কারণ তিনি ছিলেন অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় নৌ-বাহিনীর সবচেয়ে সফল ইউ-বোট ক্যাপ্টেনদের একজন। তাদের বড় ছেলে রুপার্টকে চিকিৎসক এর পদ দেবার প্রস্তাব দেয় নাৎসি সরকার। শুধু তাই নয়, অ্যাডলফ হিটলারের জন্মদিনে হিটলার ভন ট্র্যাপ পরিবারকে দাওয়াত দিয়েছিলেন তার সামনে সঙ্গীত পরিবেশনের জন্যে। কিন্তু গেওর্গ ভন ট্র্যাপ ব্যক্তিগত ভাবে নাৎসিদের অপছন্দ করতেন। তিনি তার বাড়ীতে নাৎসি পতাকাও ওড়াতেন না। নাৎসিদের ক্রমাগত চাপে এক পর্যায়ে গেওর্গ সিদ্ধান্ত নিলেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাবেন।

10trapp4_640

“দ্যা সাউন্ড অভ মিউজিক” ছবির শেষে দেখান হয় যে ভন ট্র্যাপ পরিবার তাদের বাসভবন ছেড়ে আল্পস পর্বত পেরিয়া অস্ট্রিয়া থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তা হয় নি। ১৯৩৮ সালের আগস্টে ভন ট্র্যাপ পরিবার তাদের সবকিছু পিছনে ফেলে রেখে চিরকালের মতো অস্ট্রিয়া ছেড়ে চলে যায়। তারা ট্রেনে করে প্রথমে ইতালি এবং পরে লন্ডনে পৌছায় এবং ঐ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বারের মতো গান গাইবার প্রস্তাব পায়।

জীবন আসলেই বড়ই বিচিত্র। একজন সফল মানুষ কিভাবে তাঁর পেশা, স্ত্রী, সম্পদ হারিয়ে সর্বস্বান্ত হলেন এবং সবশেষে নিজের জন্মভূমি ছেড়ে যেতে বাধ্য হলেন। “দ্যা সাউন্ড অভ মিউজিক” ছবিটিতে ভন ট্র্যাপ পরিবারের আনন্দ, ভালবাসাকে দেখান হয়েছে কিন্তু তাদের যন্ত্রণা, কষ্ট দেখান হয় নি। বিদেশের মাটিতে গিয়ে শুরু হয় ভন ট্র্যাপ পরিবারের বেঁচে থাকার নতুন সংগ্রাম। সেটা নিয়ে আরেকটি পোস্টে লিখব। আজকে এখানেই শেষ করছি। ধৈর্য ধরে পড়বার জন্যে ধন্যবাদ।

লেখকঃ এস এম মেহদি হাসান

সূত্রঃ

ন্যাশনাল আর্কাইভস

উইকিপিডিয়া (১)

উইকিপিডিয়া (২)

ইস্ট্রিয়ানেট

সফল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক স্টিভ জবস

0

লেখকঃ নাজমুল হাসান মজুমদার

বিশ্বে ডিজিটাল বিপ্লবের পথিকৃত এবং বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও এর সাবেক প্রধান নির্বাহী স্টিভ জবস । পুরো নাম – ষ্টিভেন পল জবস । তার জন্ম ফেব্রুয়ারী ২৪,১৯৫৫ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কোতে । মাত্র ৫৬ বছর বয়সে (১৯৫৫-২০১১) অগ্ন্যাশয়ের জটিল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। জবস দীর্ঘ আট বছর ধরে অগ্ন্যাশয়ের এই জটিল ক্যান্সারে ভুগছিলেন। অগণিত উদ্ভাবনের জনক ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক নির্বাহী স্টিভ জবস । তার উদ্ভাবনী ক্ষমতায় অ্যাপলের কাছে অগনিত কোম্পানি ধরাশায়ী হয়েছে । তার বুদ্ধিমত্তা, কর্মশক্তি ও উত্সাহ মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে । প্রযুক্তিবিদ স্টিভ জবস ছিলেন মাইক্রোসফটের অন্যতম সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং বিল গেটসের বন্ধু । এ ব্যাপারে মাইক্রোসফটের প্রধান বিল গেটস বলেন, মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করে তোলায় জবসের বড় ধরনের প্রভাব পরবর্তী প্রজন্ম মনে রাখবে। তিনি আরও বলেন, ‘জবসের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তিনি সৌভাগ্যবান মনে করছেন । অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্য বিশেষ করে আইফোন ও আইপ্যাড উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্টিভ জবস বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির দুনিয়ায় যে বিপ্লব ঘটিয়েছেন ,তা সমগ্র পৃথিবী স্মরণ রাখবে । বিশ্ব পরিবর্তনের রূপকার হিসেবে তাকে বর্তমান সময়ের লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি উপাধিও দেওয়া হয়। অ্যাপলের দায়িত্ব থেকে স্টিভ মাত্র ৬ সপ্তাহ আগে ইস্তফা নিয়েছিলেন । অ্যাপলকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তিনি তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী টিম কুককে।

যা কিছু সৃষ্টি করেছেন
প্রতিভাবানরা ক্ষনজন্মা হয় । আর হয়ত তাই অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন নামক দুইটি সেরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও স্টিভ জবস চলে যান ।
অ্যাপল এর আইফোন, অ্যাপল ট্যাব , ল্যাপটপ, ম্যাক ইত্যাদি পণ্য তৈরি করে তার প্রতিষ্ঠান বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে । তিনি মোবাইল প্রযুক্তির বিবর্তনকারী আইফোনের উদ্ভাবক। তিনি স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েন এর সঙ্গে ১৯৭০সালে অ্যাপল কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন, ৩০ বছর বয়সে এসে তিনি বাজারে ছাড়েন ম্যকিন্টস, তৈরী করেন পৃথিবীর সবচেয়ে সফল অ্যানিমেশন স্টুডিও পিক্সার,.যা থেকে ১৯৯৫ সালে বের করেন পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার অ্যানিমেশন ছবি “টয় স্টোরি” ।

ছেলেবেলা
জবস যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কোতে জন্মেছিলেন এবং পরে তাকে পল ও ক্লারা জবস দত্তক হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তার নাম দেওয়া হয় – স্টিভেন পল জবস । তার প্রকৃত পিতা মাতা ছিলেন জোয়ান ক্যারোল এবং আব্দুল্লাহ ফাতাহ জান্দালি। তার বাবা সিরিয়া থেকে স্নাতকোত্তর ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হয়েছিলেন ।যারা পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং তাদের ঘরে জবস এর বোন সাহিত্যিক মোনা সিম্পসন জন্মান।
জবস কুপারটিনো জুনিয়র হাই স্কুলে এবং হোমস্টিড হাই স্কুলে গিয়েছিলেন । তিনি প্রায়ই হিউলেট-প্যাকার্ড কোম্পানিতে লেকচারগুলোতে অংশগ্রহণ করতেন।যেখানে পরবর্তীতে তিনি গ্রীষ্মকালীন কর্মচারী হিসাবে স্টিভ ওজনিইয়াকের সাথে কাজ করেন।১৯৭২ সালে তিনি হাই স্কুল শেষ করেন এবং রীড কলেজ়ে ভর্তি হন।যদিও তিনি পরবর্তীতে কলেজ ছেড়ে দেন ও তিনি ক্যালিওগ্রাফী সহ আরো কিছু ক্লাশে যোগদান করেছিলেন। এই সম্পর্কে তার একটি উক্তি হলো – ” যদি আমি ওই কোর্সে না যেতাম তবে ম্যাকের কখনোই বিভিন্ন টাইপফেস বা সামঞ্জস্যপূর্ণ ফন্টগুলো থাকতো না।”

শুরুটা যেমন
সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়া এই মানুষটি কখনই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করেননি ।কোনো এক সমাবর্তন অনুষ্ঠান এ গিয়ে তিনি বলেছিলেন, জীবনে সমাবর্তন অনুষ্ঠান এ প্রথম আসলাম, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তার মুখের কিছু কথা শোনা যাক-
” আমার কোনো রুম ছিল না, বন্ধুদের রুমের ফ্লোরে আমি ঘুমাতাম। মানুষের ব্যবহৃত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে আমি পাঁচ সেন্ট করে কামাই করতাম, যেটা দিয়ে আমি খাবার কিনতাম। প্রতি রোববার রাতে আমি সাত মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতাম শুধু একবেলা ভালো খাবার খাওয়ার জন্য।”

হৃদয়ে যা পোষণ করতেন
তোমাকে অবশ্যই তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পেতে হবে, ঠিক যেভাবে তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে খুঁজে বের করো। তোমার জীবনের একটা বিরাট অংশজুড়ে থাকবে তোমার কাজ, আর তাই জীবন নিয়ে সত্যিকারের সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে এমন কাজ করা, যে কাজ সম্পর্কে তোমার ধারণা, এটা একটা অসাধারণ কাজ। আর কোনো কাজ তখনই অসাধারণ মনে হবে, যখন তুমি তোমার কাজটিকে ভালোবাসবে। যদি এখনো তোমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পাও, তবে তা খুঁজতে থাকো। অন্য কোথাও স্থায়ী হয়ে যেয়ো না। তোমার মনই তোমাকে বলে দেবে, যখন তুমি তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পাবে। যেকোনো ভালো সম্পর্কের মতোই, তোমার কাজটি যতই তুমি করতে থাকবে, সময় যাবে, ততই ভালো লাগবে। সুতরাং খুঁজতে থাকো, যতক্ষণ না ভালোবাসার কাজটি পাচ্ছ। অন্য কোনোখানে নিজেকে স্থায়ী করে ফেলো না।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ষ্টিভেন পল জবস
জন্ম -ফেব্রুয়ারি ২৪, ১৯৫৫
সান ফ্রান্সিস্কো,ক্যালিফোনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
বাসস্থান – পালো আলতো, ক্যালিফোনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তা -আমেরিকান
পেশা- চেয়ারম্যান , apple
বাৎসরিক আয় -৮.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
বোর্ড সদস্য – দ্য ওয়াল্ট ডিজনি এবং apple
ধর্ম-বৌদ্ব
দম্পতি-লওরেনি পাওয়েল
সন্তান -৪ জন
আত্বীয়- মোনা সিম্পসন(বোন)
মৃত্যু- অক্টোবর ৬,২০১১(বয়স ৫৬)
স্বাক্ষর-

আরও যা ছিলেন তিনি

তিনি ব্যক্তিগত কম্পিউটারের উদ্ভাবক । যাতে মাউসের মাধ্যমে ক্লিক করে স্ক্রিন ইমেজ ধারণ করা যায়। তিনি আইপডে চলমান মিউজিক প্লেয়ার উদ্ভাবন করেছেন । তার উদ্ভাবিত আইফোন ও আইপড ট্যাবলেড বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ।নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট জো নাসিয়েরা আগস্টে বলেছিলেন, ‘তার চিন্তা চেতনা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ উপদানের আধার হিসেবে কাজ করে।’এক কথায় তাকে তথ্যপ্রযুক্তির ক্যাপিটালিজমের জনক বলা যেতে পারে ।

থাইল্যান্ডের ভাসমান ফুটবল ক্লাব কোহ পেনি

0

লেখকঃ কামরুল হাসান (সাওন)

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা গুলোর মধ্যে ফুটবল অন্যতম। এমন কোন দেশ নেই যেখানে ফুটবল খেলা হয়না। প্রতিটা দেশেই নামকরা অনেক অনেক ফুটবল দল আছে, যেমন বাংলাদেশে আছে- আবাহনী ও মোহামেডান। কিন্তু খেলাধুলা করার জন্য যদি মাঠ না থাকে তাহলে? থাইল্যান্ডের কোহ পেনি এমনই একটি গ্রাম যেখানে পানি ছাড়া আর কিছু নেই বললেই চলে। সেখানে ফুটবল খেলার কথা চিন্তা করাই বোকামি। কিন্তু মজার ব্যপার হল থাইল্যান্ডের সেরা ফুটবল দল গুলোর মধ্যে একটি এই গ্রামেই অবস্থিত। এই ফুটবল ক্লাবটি গড়ে উঠে ১৯৮৬ সালে কিছু ফুটবল প্রেমী শিশুর হাত ধরে। খেলার জন্য উন্মুক্ত স্থান না থাকায় তারা কাঠের টুকরা সংগ্রহ করে এবং সমুদ্রের উপর ভাসমান ডক তৈরি করে খেলার মাঠ হিসাবে। নিঃসন্দেহে এটি ছিল রুক্ষ এবং ছোট। কিন্তু লক্ষ্য অর্জনে এটা কোন বাধা হয়ে দাড়ায়নি। ক্লাবটি মূল ভুখন্ডে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা শুরু করে এবং তাদের সফলতা ক্লাবটিকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসে- দক্ষিণ থাইল্যান্ডের সেরা ফুটবল ক্লাব। ক্লাবটি গত সাত বছর ‘ইউথ চ্যাম্পিয়ন্স অব সাউথার্ন থাইল্যান্ড’ জিতেছে।
থাইল্যান্ডের বেসরকারি ব্যাংক টিএমবি’র সহায়তায় একটি অ্যাড ক্যাম্পেইন করা হয় এই ক্লাবের ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে। এই ভিডিওতে ফুটবল ক্লাবের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। এখানে দেখানো হয় যে গ্রামের কেউ তাদের এই আইডিয়াকে সহজে গ্রহণ করেনি এবং অনেকেই ঠাট্টা উপহাস করে তাদের নিয়ে। কিন্তু গ্রামের তরুণ ছেলেরা তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে লেগে ছিল বলে তারা অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরেছিল। অ্যাডটির লিংক নিচে দেওয়া হল-
https://www.youtube.com/watch?v=jU4oA3kkAWU
তথ্য সূত্র-
http://www.designboom.com/des…/tmb-history-of-the-panyee-fc/
http://mkshft.org/koh-panyees-floating-football-field/

ফোর ফিঙ্গার পিয়ানিস্টঃ মা ও মেয়ের অসম্ভবকে সম্ভব করার যুদ্ধ

0

লেখকঃ কামরুল হাসান (শাওন)

তৃতীয় বিশ্বের দেশে একজন শিশু যদি প্রতিবন্ধি হয়ে জন্মায় তাহলে তার কি পরিণতি হয়? সেই শিশুটিকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত পরিবারের অন্য সদস্যদের করুণার উপর বেঁচে থাকতে হয় এবং তাকে পরিবারের বোঝা ভাবা হয়। হি আহ লি (He Ah Lee) এর অবস্থা এর থেকে ভাল কিছু হত না যদি তার মা তাকে সব ধরণের সাহায্য ও সহযোগিতা না করত।

হি আহ লি ১৯৮৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম আর দশজন শিশুর মত স্বাভাবিক নয়। তার প্রতিটি হাতে দুইটি করে মোট চারটি আঙ্গুল। এবং তার পা হাঁটুতে গিয়ে শেষ হয়েছে। ডাক্তাররা আশা করেনি সে বাঁচবে। গুরুতর শারীরিক ক্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করায় হাসপাতাল থেকে জানানো হয় যে সান (Sun- লি’র মা) তার শিশুকে বাসায় ঠিক মত দেখাশুনা করতে পারবে না। শুধু তাই না তার প্রতিবেশীরা চেয়েছিল সান যেন তার সন্তানকে অন্য কোন দেশে দত্তক দেয়। কিন্তু তিনি তার কিছুই করেননি।

মা ও মেয়ের এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। লি ছয় বছর বয়সে পিয়ানো শেখা শুরু করে। সে সময় তার চারটি আঙ্গুল খুবই দুর্বল ছিল। সে এমনকি পেন্সিলও ধরতে পারত না। লিকে পিয়ানো শেখানোর পিছনে তার মার একটা যুক্তি কাজ করছিল। তার মা ভেবেছিল পিয়ানো বাজালে তার কব্জি শক্ত হবে। এটা কাজ করল। কিন্তু আরও যা হল লি কল পাওয়া শুরু করল। এখন সে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করে এবং দর্শকদের জন্য পিয়ানো বাজায়। সে যেসব সূর তোলে তা একজন সামর্থ্যবান মানুষের পক্ষেও কঠিন।

লি’র সাফল্য এত সহজে ধরা দেয়নি। ছয় মাস কোন পিয়ানো স্কুল তাকে ভর্তি নিচ্ছিল না। অবশেষে একজন শিক্ষক তাকে পিয়ানো বাজানো শেখাতে রাজি হয় কিন্তু একসময় তিনি নিরুৎসাহিত হয়ে কাজটি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। পরবর্তী তিন মাস ছিল মা ও মেয়ের ভিতর ইচ্ছাশক্তির প্রতিযোগিতা বা লড়াই। লি’র মা একসময় হতাশ হয়ে তার মেয়েকে মেঝেতে ফেলে দেয়। লি মেঝে থেকে উঠে পিয়ানো বেঞ্চে গিয়ে বসে এবং এতদিন ধরে যেই সূরটা শিখানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল তা বাজায়। এটা ছিল লি’র জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এক বছর পর লি কিন্ডারগার্টেনের পিয়ানো কনসার্টে সর্বোচ্চ পুরস্কার পান। লি সাত বছর বয়সে কোরিয়ার ১৯তম ন্যাশনাল হ্যান্ডিক্যাপ কনকোয়েস্ট কনটেস্ট জেতে এবং কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়।

লি তার জীবনে অনেক পুরস্কার জিতেছে এবং বিশ্বের ২০০টিরও বেশী দেশে কনসার্টে পিয়ানো বাজিয়েছে। তার প্রথম অ্যালবাম “হি-আহ, এ পিয়ানিস্ট উইথ ফোর ফিঙ্গারস” ২০০৮ সালের জুনে মুক্তি পায়। পিয়ানো আয়ত্ত করার জন্য তাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য লি তার মাকে এই অ্যালবামে সম্মান জানায়। লি জানায় যে যদিও তার প্রশিক্ষণ ছিল কঠিন, সময় যাওয়ার সাথে সাথে পিয়ানো তার অনুপ্রেরণার উৎস এবং ভাল বন্ধু হয়।

হি আহ লি’র উপর নির্মিত ভিডও লিংক নিচে দেওয়া হল-
https://www.youtube.com/watch?v=2FSnalrPYpc

তথ্য সূত্র- http://www.inspire21.com/stories/truestories/4-FingerPianist

একটি বটগাছের গল্প

0

আসুন- প্রতিটি ব্যর্থতা এবং সফলতার পর বার বার নতুন করে জেগে উঠি

ছাদের কার্নিশে একটি বটগাছ গজে উঠছিলো। একদিন তাকে তুলে ফেলে দিলাম। ঠিক ফেলে না দিয়ে ছাদেই একটি রং এর কৌটো টবে মাটি ভর্তি করে রোপন করে দিলাম। কয়েকদিন পর দেখলাম- দিব্যি বেঁচে গেছে গাছটা। ভাবলাম- ভালোইতো সবাই কতো কিছু পালে, আমি না হয় একটা বটগাছই পালবো।
তারপর বাসায় এনে বারান্দায় রেখে দিলাম। মাঝে মাধে পানি দিতে থাকি। এক সময় পত্র পল্লবে শোভিত হয়ে উঠলো।

বিপত্তিটা বাঁধলো বাসা বদলানোর পর। নতুন বাসায় বারান্দাটা আবার আমার রুমের সাথে নয়। তাই ঠিকমতো দেখভাল করা হয়না। এরমধ্যে অতিবৃষ্টির পানিতে জল সহ্য করতে না পেরে সব পাতা ঝরে গেছে। তাই অন্য বারান্দায় স্থানান্তর করলাম। এবার সমস্যা হলো পানিহীনতা, কারণ আর কোনো লাভ নেই মনে করে গাছটাকে দেখভাল করা হয়নি। পানিশুন্যতায় গাছের কুড়িগুলো শুকিয়ে গেলো গ্রায়, পাতাতো আগেই ঝরে গিয়েছিলো? সব আশা শেষ যেহেতু একেবারে ডগাও শুকিয়ে গিয়েছে। তবুও মনের সুখে ওটাতে ২/১দিন পর পর পানি ঢালতে থাকলাম।

একদিন সকাল বেলায় পাশের রুমের দীপংকর গাছটা দেখে অবাক, মানে দীপের রুমের বারান্দায়তো শেষবার গাছটাকে রাখা হয়েছিলো? আমাকে ডেকে নিয়ে দেখালো।
দেখলাম একটি পাতা পুরোই রেরিয়েছে, আরেকটি বেরুনের পথে। দীপ জানাালো কোনো ব্যাপারে সে আজ সকালে একটু হাতাশায় ভুগছিলো, কিন্তু এই গাছটির নতুন করে জেগে ওঠা দেখে সে উৎসাহিত হলো। আমাকে ধন্যবাদও জানালো গাছটাকেও প্রায়মৃত ভেবেও যত্ন করার জন্য।

তারপর রাসেল মামুন সবাই দেখলো। সবাই অবাক এবং খুশি হলাম। এখনতো ২টো পাতা বেশ ঝরঝরে হয়ে উঠেছে। খুব ভালো লাগছে, একতো বটগাছ তারপর আবার নতুন করে জেগে ওঠা। আমার নিজের কাছে ভীষণ ইন্সাাপায়ার্ড হওয়ার মতো বিষয় মনে হলো। তাই ছবিসহ সবার জন্য শেয়ার করলাম।

এভাবে আমরা যেন প্রতিটি ব্যর্থতা এবং সফলতার পর বার বার নতুন করে জেগে উঠতে পারি।

সিগনালে আটকে আছেন, কিছুক্ষন পরই আবার গাড়ি ছাড়বে

0

মহাসড়কে চলেছেন কখনো? কোনো যানবাহনে?
আপনার উত্তর নিশ্চয়ই না হবে না।
এবার আপনার জীবনের যেকোনো একটি বাস ভ্রমনের মূহুর্তটাকে একটু কল্পনা করুন।
আপনি যখন বাসের মধ্যে বসে বাইরের পরিবেশটা উপভোগ করছিলেন তখন একটা বিষয় হয়তো খেয়াল করেছেন যে চালক যিনি আছেন উনি ফাকা রাস্তা পেলেই খুব দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছেন। আবার যখন একটু যানজটের মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন তখন আবার গাড়ি ধীর গতীতে চালাচ্ছেন কিংবা কখনও কখনও ব্রেক দাবিয়ে একেবারেই থামিয়ে রাখছেন, যানজট কেটে গেলেই আবার পুনরায় গাড়ি চলছে।
আবার কখনো কখনো এও হয়তো দেখেছেন বিপদ জনক রাস্তাতে গাড়ি ধীরে চলে। দেখেছেন নিশ্চয় আঁকাবাঁকা রাস্তাতে ধীরে চলতে। ভাঙ্গা বা উঁচুনিচু রাস্তায়ও কিন্তু ধীরে চলে। এরপর আবার যখন সমান্তরাল রাস্তা আসে গাড়ি আবার তার সর্বোচ্চ গতিতেই চলে।
তবে একটা জিনিস খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা, রাস্তায় এসব আঁকাবাঁকা, উঁচুনিচু, যানজট, বিদপজনক বন্ধুর পথ কিন্তু খুব বেশি থাকে না। চলার পথে অল্প কিছুটা পথ। বাকি সবই সমান্তরাল রাস্তা।

এবার প্রশ্ন আসতে পারে, এসব কথা কেন বলছি?
বলছি- হ্যাঁ, এসব কথা এজন্যই বলা, উদাহরন দিতে আমি খুব ভালোবাসি।
আমাদের জীবনটাও কিন্তু ওই চলমান গাড়ির মত। যেখানে চলার পথে সব পথই সমান্তরাল থাকবে না। কখনো কখনো যানজট আসবে, একটু গতি কমিয়ে দিতে হবে অথবা কিছুক্ষনের জন্য থেমেও থাকতে হবে। আবার বিপদ জনক রাস্তা আসবে তখন সাবধানে ধীরে সুস্থে চলতে হবে। আসবে আঁকাবাঁকা, উঁচুনিচু, ভাঙ্গা রাস্তাও সেগুলোকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দেখেশুনে পার হতে হবে।
পৃথিবীর কোনো কিছুই একদম সমান এবং সমান্তরাল নয়।
গতি কমে গিয়েছে বলে ভাববেন না যে আপনি হেরে গেছেন। ওটা গতী কমিয়ে দেওয়ারই রাস্তা ছিল। হয়তো যানজট অথবা অন্য কিছু।
তবে হ্যাঁ, আশার বাণী হচ্ছে, গতি কমানোর রস্তার চাইতে গতি বাড়ানোর রাস্তাই কিন্তু বেশি। তাই ধৈর্য এবং বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়ে যদি আপনি কিছুটা দূর্গম পথ অতিক্রম করতে পারেন। বাকিটা রাস্তা খুব সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্য।
আপনিও কি থেমে আছেন?
তাহলে ধরে নিন সিগনালে আটকে আছেন, কিছুক্ষন পরই আবার গাড়ি ছাড়বে।
শুভ কামনা সকলের জন্য।

যদি আপনার এই লেখাটি পড়ে ভাল লাগে তবে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে যোগ দিন ও এ ধরনের অনেক পোস্ট পড়ুন।